হাসিনা বিরোধী বিক্ষোভের সময় হিন্দু পুলিশ অফিসারকে জ্বালিয়ে দেওয়ার দাবি করেছিলেন বাংলাদেশি ছাত্রনেতা মেহদি হাসান। এই মেহদি হলেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের হবিগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক। থানায় বসেই পুলিশ আধিকারিককে হুমকি দেন এই মেহদি। সেই সময়ই ২০২৪ সালের অগস্টের ঘটনার ‘দায় স্বীকার’ করেন তিনি। আর এই ঘটনার পরে পুলিশ গ্রেফতার করে সেই বিপ্লবী নেতাকে। আর মেহদিকে ছাড়াতে রাস্তায় নেমে পড়ে ‘পোলাপান বাহিনী’। বিভিন্ন জায়গায় অবরোধ, সরকার ও প্রশাসনের বিরুদ্ধে স্লোগন, রাস্তায় আগন জ্বালিয়ে দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটেছে তথাকথিত ছাত্র আন্দোলনকারীরা।
রাতেই বিশেষ আদালতে পেশ করা হয় মেহদিকে। এদিকে মেহদির মুক্তির দাবিতে ঢাকার শাহবাগ অবরোধ করে রীতিমতো তাণ্ডব চালায় বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনকারীরা। এদিকে যে হবিগঞ্জে এই ঘটনা ঘটেছে, সেখানেও মেহদি অনুগামীরা রাস্তায় নেমে তাণ্ডব চালায়। পরে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে সেনা জওয়ানরা। এদিকে গ্রেফতারির আগে এই মেহদি এক ভিডিয়ো বার্তায় আবার নয়া দাবি করেছেন। তিনি বলেন, পুলিশ অফিসারকে পুড়িয়ে মারার ঘটনায় ‘স্লিপ অফ টাং’ হয়েছিল তাঁর। এদিকে বিতর্কের আবহে উঠে আসে, এই মেহদি একদা ছাত্রলীগের নেতা ছিল। তা নিয়ে মেহদির বক্তব্য, একসময় অনেকেই ছাত্রলীগ করেছে। তিনি বলেন, ছাত্রলীগ করেছিলাম বলেই আমি দোষী নই, তাহলে তো সারজিস আলমও (এনসিপির উত্তরাঞ্চলীয় মুখ্য সংগঠক) দোষী।
উল্লেখ্য, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের এক সদস্যকে পুলিশের হাত থেকে ছাড়াতে শায়েস্তাগঞ্জ থানায় গিয়েছিলেন এই মেহদি। সেখানে তিনি কর্তব্যরত পুলিশ অফিসারকে আঙুল উঁচিয়ে শাসান। বলেন, ‘বানিয়াচং থানা কিন্তু আমরা পুড়িয়ে দিয়েছিলাম, এসআই সন্তোষকে (সন্তোষ চৌধুরী) কিন্তু জ্বালাই দিয়েছিলাম’। এই ভিডিয়ো সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই শুরু হয় বিতর্ক। এই আবহে মেহদিকে শোকজ নোটিশ পাঠান বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের দফতর সম্পাদক শাহাদাত হোসেন। পরে মেহদিকে তাঁর বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে নিয়ে যায় পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের কর্তারা।
