২০২০ সালের গালওয়ান সংঘর্ষ নিয়ে সিনেমার টিজার প্রকাশিত হয়েছে সম্প্রতি। সলমন খান অভিনীত সেই সিনেমা নিয়ে অবশ্য আপত্তি আছে চিনের। চিনের অভিযোগ, ‘ব্যাটেল অফ গালওয়ান’ সিনেমায় তথ্য বিকৃত করা হয়েছে। এই সিনেমায় শহিদ কর্নেল বিক্কুমাল্লা সন্তোষ বাবুর চরিত্রে অভিনয় করছেন সলমন খান। এই সিনেমার পরিপ্রেক্ষিতে চিনের আপত্তি নিয়ে এবার পালটা মুখ খুলল ভারত সরকার। রিপোর্টে দাবি করা হল, সরকারি সূত্র বলেছে, সিনেমায় ‘আর্টিস্টিক স্বাধীনতা’ থাকে। এই পরিস্থিতিতে চিনের সমোলচনা কার্যত উড়িয়ে দিয়েছে সরকার।
গালওয়ান সংঘাতের আবহে দীর্ঘদিন ভারত ও চিনের মধ্যে দূরত্ব বজায় ছিল। এখনও যে দুই প্রতিবেশী দেশ ‘বন্ধু’ হয়ে উঠেছে, এমনটা নয়। তবে সময়ের সঙ্গে তারা বুঝতে পেরেছে, মার্কিন শুল্কের চাপ থেকে বাঁচতে একে অপরকে প্রয়োজন হবে ভারত ও চিনের। এই আবহে ট্রাম্পের কাছে মাথা নত না করে জিনপিংয়ের মুখোমুখি হন মোদী। তবে সীমান্ত সমস্যার বিষয়টি যে এখনও মেটেনি, তা স্পষ্ট করেছে দিল্লি। এরই মাঝে ভারত-চিন সংঘর্ষ নিয়ে সলমন খানের এই সিনেমা আসছে।
এই বিষয়ে এনডিটিভিকে ভারত সরকারের সূত্র বলেছে, ‘ভারতে বাকস্বাধীনতা রয়েছে। সিনেমার মাধ্যমে নিজেদের ভাব প্রকাশ করারও অধিকার রয়েছে এই দেশে। ভারতে ফিল্মমেকাররা নিজেদের ইচ্ছে মতো আর্টিস্টিক ফ্রিডম নিয়ে সিনেমা তৈরি করতেই পারেন। যদি কারও কোনও নির্দিষ্ট সিনেমা নিয়ে আপত্তি থাকে, তাহলে তারা ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন। তবে এই সিনেমায় ভারত সরকারের কোনও ভূমিকা নেই।’

উল্লেখ্য, ২০২০ সালের মে মাস থেকে লাদাখের বিভিন্ন জায়গা নিয়ে ভারত-চিন সেনার সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। এই আবহে দুই দেশের সামরিক পর্যায়ের বৈঠক শুরু হলেও ২০২০ সালের ১৫ জুন গালওয়ান উপত্যকায় দুই দেশের সেনার মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে। গালওয়ান উপত্যকার প্যাট্রলিং পয়েন্ট ১৪-র কাছে সাত ঘণ্টার রক্তক্ষয়ী সেই সংঘর্ষে ভারতের ২০ জন জওয়ান শহিদ হয়েছিলেন। এদিকে ওই ঘটনায় প্রায় ৪৫ জন চিনা সেনার মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গিয়েছিল বিভিন্ন রিপোর্ট থেকে। তবে চিন সেই দাবি খারিজ করেছিল। প্রথমে তারা কোনও সৈনিকের মৃত্যুর কথা স্বীকারই করতে চায়নি। পরে তারা জানায়, ৪-৫ জন চিনা সেনার মৃত্যু হয়েছিল সেই সংঘর্ষে। জানা যায়, সেই সংঘর্ষের সময় রীতিমতো প্রস্তুতি নিয়ে এসেছিল পিএলএ। ভারতীয় জওয়ানদের থেকে চিনা ফৌজির সংখ্যাও ঢের বেশি ছিল। তা সত্ত্বেও পিছু হটেনি ভারতীয় সেনা। সেই সংঘর্ষে ১৬ বিহার রেজিমেন্টের কমান্ডিং অফিসার বি সন্তোষ বাবু-সহ ভারতীয় সেনার ২০ জন জওয়ানের মৃত্যু হয়েছিল।