৩ ডিসেম্বর আচমকাই ভেনেজুয়েলায় হামলা চালিয়ে সেই দেশের প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করে আমেরিকা। তাঁর স্ত্রীকেও মার্কিন সেনা আটক করেছে বলে জানিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর এই পরিস্থিতিতে আমেরিকার সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে গর্জে উঠলেন বাংলার সিপিএম নেতারা। মশাল হাতে ৩ তারিখ রাতেই কলকাতার রাজপথে হাঁটালেন তাঁরা। মার্কিন বিরোধী পোস্টার নিয়ে মিছিলে হাজির ছিলেন সূর্যকান্ত মিশ্র থেকে শুরু করে মহম্মদ সেলিমরা। এদিকে আগামী ৫ জানুয়ারি ধর্মতলায় ৬ নং গেটের সামনে থেকে আমেরিকা বিরোধী আরও একটি মিছিল বের করা হবে। সেই মিছিলের আয়োজন করবে সিপিএমের যুব সংগঠন ডিওয়াইএফআই।
এদিকে মাদুরোকে আমেরিকা আটক করায় সিপিএমের পলিটব্যুরো কটি বিবৃতি প্রকাশ করে। সেখানে বলা হয়েছে, ‘ভেনেজুয়েলায় মার্কিন সামরিক অভিযানের মাধ্যমে রাষ্ট্রনেতাকে আটক করা আন্তর্জাতিক আইন ও রাষ্ট্রসঙ্ঘ সনদের চরম লঙ্ঘন। কোনও স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশের রাষ্ট্রপ্রধানকে এভাবে আটক করা বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিপজ্জনক নজির তৈরি করছে। ভেনেজুয়েলায় দীর্ঘদিন ধরেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপ তৈরি করছে। সেই চাপেরই চূড়ান্ত রূপ এই সামরিক অভিযান ও গ্রেফতারের ঘটনা। আমেরিকার এই আগ্রাসী পদক্ষেপ শুধু ভেনেজুয়েলার গণতন্ত্রকেই নয়, আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাকেও বিপদের মুখে ঠেলে দিচ্ছে।’ এদিকে এই ঘটনার বিরুদ্ধে দেশজুড়ে প্রতিবাদে সামিল হওয়ার জন্য ভারতের সাধারণ মানুষের কাছেও আহ্বান জানিয়েছে সিপিএম।
এদিকে ভারত সরকারের প্রতি সিপিএমের বার্তা, বিশ্বমঞ্চে যেন এই নিয়ে স্পষ্ট অবস্থান গ্রহণ করা হয়। এদিকে সরকার যাতে আমেরিকার থেকে মাদুরোর ‘প্রুফ অফ লাইফ’ চায়, সেই দাবিও করেছে সিপিএম। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, অতীতে ভারত বরাবরই সার্বভৌমত্ব ও আন্তর্জাতিক আইনের পক্ষে দৃঢ় অবস্থান গ্রহণ করেছে। এবার সেটা না করা হলে ঐতিহ্য ভাঙা হবে। সিপিএমের বক্তব্য, মাদুরোর আটক হওয়ার ঘটনাটি শুধু ভেনেজুয়েলার ইস্যু নয়, এটা গোটা আন্তর্জাতিক মহলের ন্যায়বিচার ও স্বাধীনতার প্রশ্ন।
