মুস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। আর এই ইস্যুতে রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে। কেকআর ইতিমধ্যেই বিবৃতি জারি করে মুস্তাফিজকে ছেড়ে দেওয়ার কথা জানিয়েছে। এই ঘটনায় মর্মাহত হয়ে বাংলাদেশ থেকে নানা প্রতিক্রিয়াও আসছে। এরই মাঝে বিসিসিআইকে এই ইস্যুতে ধন্যবাদ জানালেন বঙ্গ বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি। এরই সঙ্গে বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।
বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়ে দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘বাংলাদেশে যা ঘটছে তা কারও জন্যই ভালো নয়। ভারত সরকার যখন নিজেদের কর্তব্য পালন করছে। বাংলাদেশে হিন্দুদের উপর যে অত্যাচার চলছে তাতে গভীরভাবে মর্মাহত পশ্চিমবঙ্গের মানুষ। এটা অমানবিক, এবং বাংলাদেশকে এর পরিণতি ভোগ করতে হবেই। আমরা বাংলাদেশে দ্রুত নির্বাচন, একটি স্থিতিশীল সরকার এবং আইনশৃঙ্খলা ফিরতে দেখতে চাই। সেখানে যাতে জীবন ও সম্পত্তি সুরক্ষিত থাকে এবং সীমান্তে উত্তেজনা কমে।’
এরপর দিলীপ ঘোষ আরও বলেন, ‘আমি বিসিসিআইকে ধন্যবাদ জানাই। যেমন পাকিস্তানি খেলোয়াড়দের ভারতে খেলতে দেওয়া হয় না, তেমনি বাংলাদেশি ক্রিকেটারদেরও ভারতে খেলতে দেওয়া উচিত নয়। এই দাবি কলকাতা থেকে এসেছে এবং মেনে নেওয়া হয়েছে। যারা আমাদের দেশের বিরুদ্ধে কাজ করে তাদের এখানে খেলতে দেওয়া উচিত নয়।’
উল্লেখ্য, গত ৩১ ডিসেম্বর খোকন দাস নামে এক বাংলাদেশি ব্যবসায়ীকে কোপ মেরে তাঁর গায়ে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। সেই ব্যবসায়ী ৩ জানুয়ারি মারা যান। কাকতালীয় ভাবে, এই খবর সামনে আসার কিছু পরই বিসিসিআই সচিব দেবজিৎ সাইকিয়া জানান, কেকেআরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে তারা মুস্তাফিজুরকে দল থেকে ছেড়ে দেয়।

নিলামে ৯ কোটি টাকারও বেশি দাম উঠেছিল মুস্তাফিজের। তাঁকে কিনেছিল কেকেআর। তবে দুই দেশের মধ্যে চলমান রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যে মুস্তাফিজকে দল থেকে ছেড়ে দিতে বলে বিসিসিআই। এর আগে সিএসকে, হায়দরাবাদের মতো দলের হয়ে আইপিএল খেলে গিয়েছেন মুস্তাফিজুর রহমান। এদিকে একদিকে ভারত বয়কটের ডাক দিচ্ছে বাংলাদেশ। অপরদিকে মুস্তাফিজ বাদ পড়ায় কার্যত রাতের ঘুম হাওয়া হয়েছে বাংলাদেশিদের।
প্রসঙ্গত, বাংলাদেশে হিন্দু ও সংখ্যালঘুদের ওপর ক্রমবর্ধমান অত্যাচারের আবহে কলকাতা নাইট রাইডার্সে মুস্তাফিজকে নেওয়ায় শাহরুখের বিরুদ্ধে তোপ দেগেছিলেন ডানপন্থীরা। এমনকী শাহরুখকে ‘বিশ্বাসঘাতক’ আখ্যা দিয়েছিলেন উত্তরপ্রদেশের প্রাক্তন বিধায়ক তথা বিজেপি নেতা সঙ্গীত সোম। শুধু রাজনৈতিক নেতা নন, আধ্যাত্মিক গুরু দেবকীনন্দন ঠাকুরও মুস্তাফিজ ইস্যুতে শাহরুখকে তুলোধোনা করেছিলেন। এদিকে বিজেপির সাংসদ সঞ্জয় জয়সওয়াল বলেছিলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারকে প্রসন্ন করতে নাকি মুস্তাফিজুর রহমানকে দলে নিয়েছিল কলকাতা নাইট রাইডার্স।