Donald Trump on India-Pakistan War। নোবেলের জন্য আমার চেয়ে যোগ্য কেউ নয়

Spread the love

ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধ থামানোর কৃতিত্ব চেয়ে আবারও বড় দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি নিজেকে ‘নোবেল শান্তি পুরষ্কারের সরচেয়ে যোগ্য’ হিসাবে বর্ণনা করেছেন। পাশাপাশি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীকে উদ্ধৃত করে বলেছেন, তিনি লক্ষ লক্ষ জীবন রক্ষা করা গেছে। তিনি দাবি করেছেন যে ২০২৫ সালের মে মাসে যখন ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধের মতো পরিস্থিতি দেখা দিয়েছিল, তখন তিনি ‘অতিদ্রুত অর্ডার’ দেওয়ার মাধ্যমে দুটি পারমাণবিক দেশের মধ্যে সংঘাতের অবসান ঘটিয়েছিলেন। যদিও এই সংঘর্ষবিরতিতে ট্রাম্প বা অন্য তৃতীয়পক্ষের কোনও অবদান বা হস্তক্ষেপ নেই বলে স্পষ্ট জানিয়েছে ভারত।

ট্রাম্প বলেন, মানুষ তাকে পছন্দ করুক বা না করুক, তিনি ৮টি বড় যুদ্ধ থামিয়েছেন। ভারত-পাকিস্তানের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘আটটি যুদ্ধবিমান আকাশে ভূপাতিত করা হয়েছিল সেই সময় এবং পরমাণু যুদ্ধ আসন্ন ছিল। ইতিহাসে নোবেল পুরস্কার পাওয়ার ক্ষেত্রে আমার চেয়ে যোগ্য আর কেউ নয় বলেই মনে করি। আমি যেকটা যুদ্ধ বন্ধ করেছি তার জন্য আমাকে নোবেল দেওয়া উচিত।’ পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের যুক্তরাষ্ট্র সফরের কথা উল্লেখ করে ট্রাম্প দাবি করেন, নওয়াজ শরিফ প্রকাশ্যে স্বীকার করেছেন যে, ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধ করে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অন্তত এক কোটি মানুষের জীবন বাঁচিয়েছেন।

প্রসঙ্গত, গত ২২ এপ্রিল কাশ্মীরের পহেলগাঁও সন্ত্রাসী হামলায় ২৬ জন সাধারণ মানুষ নিহত হয়েছিলেন। এরপরই ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি ঘটে। এরপর ৭ মে পাকিস্তান ও পাক অধিকৃত কাশ্মীরে জঙ্গি পরিকাঠামো লক্ষ্য করে ‘অপারেশন সিঁদুর’ শুরু করে ভারত। ৯টি জঙ্গি ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দিয়ে শতাধিক সন্ত্রাসবাদীকে খতম করে ভারত। এর পরের দিনগুলিতে দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছিল। পাকিস্তান ভারতীয় বিমানঘাঁটিগুলিতে আঘাত হানার চেষ্টা করেছিল। পালটা জবাবে পাকিস্তানের নাভিশ্বাস তুলে দিয়েছিল ভারত। পাকিস্তানের ১১টি সামরিক ঘাঁটি অকেজো করে দিয়েছিল ভারত। রাওয়ালপিন্ডি, করাচি, লহোরের মতো শহরে আছড়ে পড়েছিল ভারতীয় মিসাইল। এই আবহে পাকিস্তান সংঘর্ষবিরতির জন্য কাতর আর্তি জানিয়েছিল ভারতের কাছে। সেই আর্তি মেনে অপারেশন সিঁদুর স্থগিত করতে সহমত হয়েছিল ভারত।

এরপর থেকে ট্রাম্প একাধিকবার ভারত-পাক আলোচনার মধ্যস্থতার কৃতিত্ব নিতে চেয়েছেন। তাঁর দাবি, বাণিজ্য আলোচনাকে হাতিয়ার করে ভারত-পাক সংঘাত থামান তিনি। তবে নয়াদিল্লি বারবার এই দাবি অস্বীকার করে স্পষ্ট করে দিয়েছে যে সামরিক পদক্ষেপ বন্ধ করার সংঝোতা দ্বিপক্ষীয়ভাবে হয়েছে। পাকিস্তানের ডিরেক্টর জেনারেল অফ মিলিটারি অপারেশনস (ডিজিএমও) ভারতীয় ডিজিএমও-কে ফোন করে হামলা ব্ধের আর্জি জানিয়েছিলেন। এই আবহে ভারত এবং আমেরিকার সম্পর্কের অবনতি ঘটেছিল। অন্যদিকে ট্রাম্পকে নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনীত করেছিল পাকিস্তান। তবে ভারত সেই সবে পাত্তা দেয়নি। এই সবের মাঝেই ভারতের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্কের বোঝা চাপিয়েছেন ট্রাম্প। মোদীকে একটা সময় ৪ বার ফোন করলেও মোদী কথা বলেননি ট্রাম্পের সঙ্গে। জি৭ সম্মেলনের সময় ফোনে কথোপকথন চলাকালীন ট্রাম্পের সংঘর্ষবিরতি দাবির বিরুদ্ধে সরবও হয়েছিলেন মোদী। তবে ট্রাম্প প্রায় প্রতিদিনই যপ করার মতো একবার করে দাবি করে চলেন, তিনি ৭-৮টা যুদ্ধ থামিয়েছেন। তার মধ্যে অন্যতম হল ভারত-পাক যুদ্ধ। এবং তাতে নাকি তিনি বাণিজ্যকে হাতিয়ার করেছেন। তবে সেই বাণিজ্য চুক্তি আজও সম্পন্ন হল না ভারত-আমেরিকার সঙ্গে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *