ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়কে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করলেন ডঃ অনির্বাণ গাঙ্গুলী

Spread the love

দক্ষিণ কলকাতার কেওড়াতলা মহাশ্মশানে ” বলিদান দিবসে ” ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়কে(Dr. Syama Prasad Mukherjee) শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করলেন বিজেপি নেতা ডঃ অনির্বাণ গাঙ্গুলী(Dr. Anirban Ganguly)। ২৪ জুন ১৯৫৩ সালে এই মহাশ্মশানেই তাঁকে দাহ করা হয়েছিলো।এদিন ২৫ জুন ১৯৫৩ সালে জনপ্রিয় বাংলা দৈনিক “সত্যযুগ”-এ প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনও পাঠ করা হয়েছিল।রবিবার বিজেপি নেতা কর্মীদের নিয়ে কেওড়াতলা মহাশ্মশানে ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়কে(Dr. Syama Prasad Mukherjee) শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন। তাঁর মূর্তিতে মাল্যদান করেন অনির্বাণ বাবু(Dr. Anirban Ganguly)। এছাড়া পুষ্পস্তবকও দেওয়া হয়।

প্রসঙ্গত ডক্টর শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়(Dr. Syama Prasad Mukherjee) ছিলেন একজন ভারতীয় পন্ডিত এবং নেতা। শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জী প্রথম হিন্দু জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক দল ভারতীয় জনসংঘ গঠন করেছিলেন। ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় হিন্দু মহাসভার সভাপতি ছিলেন। তিনি জহরলাল নেহেরুর কেবিনেটের মন্ত্রী ছিলেন কিন্তু পরবর্তীতে কুখ্যাত “নেহেরু – লিয়াকত” চুক্তির বিরোধিতা করে মন্ত্রিত্ব ত্যাগ করেছিলেন।বাংলা ভাগের সময় তিনি ভারতের অধিকার এবং স্বার্থের জন্য সফলভাবে লড়াই করেছিলেন। স্বাধীনতা পরবর্তী কেউ কংগ্রেসের জাতীয়তাবাদের ওপরে আমদানিকৃত মতাদর্শ এবং মতবাদ চাপিয়ে দেওয়ার বিরোধিতা করার ক্ষেত্রেও একটি গুরুত্বপূর্ণ এবং নেতৃত্বাধীন ভূমিকা পালন করেছিলেন ডাক্তার শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়।

শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের(Dr. Syama Prasad Mukherjee) কথা বলতে গেলে বলা যায় যে, জাতীয় সংহতিকরণের যার ছিল অধ্যাবসায়, যিনি দেশের একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক বিকল্পের বীজ বপন করে দিয়েছেন, তিনি ডক্টর শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ছাড়া আর কেউ নন। তিনি প্রথম জম্মু ও কাশ্মীরের সমস্যা বুঝতে পেরেছিলেন এবং এর সম্পূর্ণ সমাধানের জন্য দাবিতে জোর গলায় আওয়াজ তুলেছিলেন।

  • সম্পূর্ণ নাম: শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় অথবা শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জী
  • জন্ম তারিখ: ৬ ই জুলাই ১৯০১ সাল
  • আন্দোলন: ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলন, ভারত ছাড়ো আন্দোলন
  • প্রধান সংগঠন: ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস, হিন্দু মহাসভা, ভারতীয় জনসংঘ
  • মৃত্যুর তারিখ: ২৩ শে জুন ১৯৫৩ সাল (বয়স ছিল ৫১ বছর)
  • মৃত্যুর স্থান: কাশ্মীর, ভারত

শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের পরিবারের আদি নিবাস ছিল পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার জিরাট বলাগড় গ্রামে। তার প্রপিতামহ পারিবারিক কারণে হুগলী(Hooghly) জেলার এক ব্রাহ্মণ অধ্যুষিত গ্রাম দিগসুই থেকে জিরাট বলাগড় গ্রামে এসে বসতি স্থাপন করেছিলেন।

তবে তার পিতামহ গঙ্গা প্রসাদ মুখোপাধ্যায় ১৮৩৬ সালের ১৬ ই ডিসেম্বর জিরাট বলাগড় গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনিও ছিলেন খুবই মেধাবী। তিনি জিরাটের বিত্তশালীদের সাহায্যে কলকাতায়(Kolkata) ডাক্তারি করতে আসেন এবং পরবর্তীতে জিরাট বলাগর গ্রাম ছেড়ে কলকাতার ভবানীপুরে বসতি স্থাপন করেন।

শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় এর শৈশবকাল এবং শিক্ষা জীবন:

প্রতিটি সম্ভ্রান্ত পরিবারের বাচ্চাদের মতো শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ১৯০১ সালের ৬ জুলাই কলকাতার এক উচ্চ সামাজিক মর্যাদা সম্পন্ন ব্রাহ্মণ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তারপর তার পিতা স্যার আশুতোষ মুখোপাধ্যায় এবং মাতা শ্রীমতি যোগমায়া দেবীর কাছ থেকে তিনি কিংবদন্তি তুল্য পান্ডিত্য এবং ঐকান্তিক জাতীয়তাবাদী চেতনা উত্তরাধিকার সূত্রে লাভ করেছিলেন।

তাঁরা তাঁকে “পবিত্র ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন যাপন” করার জন্য অনুপ্রাণিত করতেন। ১৯২১ সালে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে ইংরেজিতে সম্মান পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণীতে প্রথম স্থান দখল করার পর শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি ভারতীয় ভাষার স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছিলেন।

এরপরে তিনি ১৯২৪ সালে বি এল (BL) পরীক্ষায় বিশ্ববিদ্যালয় এ সর্বোচ্চ স্থান লাভ করেন। ছাত্র থাকাকালীন সময় থেকে শ্যামাপ্রসাদ তার ভাইস চ্যান্সেলর পিতাকে শিক্ষা পরিকল্পনা প্রণয়নের সহায়তা করেন। কথায় আছে পিতার গুন পুত্রের মধ্যে থাকবেই থাকবে। পিতার মতো তিনিও কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর (১৯৩৪ থেকে ১৯৩৮) হন।

১৯৩৭ সালে উপাচার্য শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে অনুরোধ করেন, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য একটি বিশ্ববিদ্যালয় সংগীত রচনা করে দেওয়ার জন্য।

শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় রাজনৈতিক জীবন যাত্রা:
রাজনৈতিক জীবনযাত্রা বলতে গেলে প্রথম দিকে ডঃ মুখার্জি শ্যামা প্রসাদ মুখোপাধ্যায় ভারত বিভাজনের জন্য তীব্র বিরোধিতা জানিয়েছিলেন। ১১ই ফেব্রুয়ারি ১৯৪১ সালে তিনি বলেছিলেন মুসলিমরা যদি ভারতবর্ষের বিভাজন চায় তবে ভারতের সকল মুসলিমদের উচিত তাদের সবকিছু গুছিয়ে নিয়ে পাকিস্তান চলে যাওয়া।

পরবর্তীতে লর্ড মাউন্টব্যাটেন এর বাড়িতে ভারত বিভাজন ও বাংলা বিভাজন নিয়ে আলোচনা শুরু হয় সভায় সিদ্ধান্ত হয় সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম ও হিন্দু জেলা প্রতিনিধিদের নিয়ে দুটি আলাদা সভা হবে এবং সবার মতামত নেওয়া হবে।একটি সভার ফলাফল যদি বাংলা ভাগের পক্ষে যায় তবে বাংলা ভাগ হবে। মুসলিম সংখ্যা গরিষ্ঠ এই সভায় বাংলা বিভাজনের বিপক্ষে বেশি ভোট করেছিল। কিন্তু হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ দের সবাই বাংলা বিভাজনের পক্ষেই ভোট দিয়েছিল বেশি। ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জী এখানে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *