সদ্য আফগানিস্তানে অবস্থিত জঙ্গিদের নিয়ে, চিনের সঙ্গে জোরালো গর্জন দেয় পাকিস্তান। এদিকে, পাকিস্তানের বুকে সদ্য হামাসের কুখ্যাত জঙ্গিনেতা নাজি জাহিরকে দেখা যায়। পাকিস্তানের মদতপুষ্ট জঙ্গি শিবির লস্করের রাজনৈতিক উইং ‘পিএমএমএল’র কএক অনুষ্ঠানে এই হামাসের জঙ্গি নেতা আসে ‘চিফ গেস্ট’ হয়ে।
ইজরায়েলের অন্যতন চক্ষুশূল হামাস জঙ্গি শিবির। এই ইজরায়েলের সঙ্গে যেমন আমেরিকার সদ্ভাব রয়েছে, তেমনই আবার মুনির, শেহবাজের পাকিস্তান ওয়াশিংটনের সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখতে চাইছে। এমন এক কূটনৈতিক পাকদণ্ডের মাঝে পাকিস্তানের গুরজনওয়ালায় লস্করের ওই রাজনৈতিক শিবিরের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে স্টেজে এন্ট্রি নেয় জঙ্গি নেতা নাজি। মার্কিন মুলুকের তরফে জঙ্গি শিবির তকমা দেওয়া দুই ক্যাম্পের সদস্যদের এক স্টেজে ওঠার ছবি আপাতত ভাইরাল। ঘটনার ভিডিয়ো সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হতে শুরু করেছে। ইতিমধ্যেই এই নিয়ে নানান রিপোর্ট উঠে আসছে।
পাকিস্তানে অবশ্য জঙ্গিদের এভাবে খোলাখুলি ঘোরাফেরা করা নকুন নয়। কিছুদিন আগে, এই পিএমএমএল-র এক অনুষ্ঠান আয়োজিত হয় লাহোরে। সেখানে উপস্থিত ছিল পহেলগাঁও হানার মাস্টারমাইন্ড সানাউল্লাহ কাসুরি। স্টেজে উঠে খোলাখুলিই সে ভারত বিরোধী সুর চড়ায়। দাবি করে, আগামী ৫০ বছরে সম্ভবত পাকিস্তানে ভারত হামলা করবেনা, বলে। এমন নানান কাণ্ডের মধ্যেই এবার পাকিস্তানের বুকে ইজরায়েলের চক্ষুশূল হওয়া হামাসের জঙ্গির খোলাখুলি প্রবেশ, নিঃসন্দেহে একটি তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা। প্রসঙ্গত, যেদিন সোশ্যাল মিডিয়ায় এই ভিডিয়ো ঘুরপাক খাচ্ছে, সেদিনই ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে জানান, তিনি ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী তথা তাঁর ‘বন্ধু’ বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে কথা বলে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন, তাঁকে ও ইজরায়েলবাসীকে। তাঁদের আলোচনাতেও যে সন্ত্রাস প্রসঙ্গ উঠে এসেছে, তা সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে জানান মোদী।

উল্লেখ্য, এই নাজি জাহির ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরে গিয়েছিল। উল্লেখ্য, ঠিক তার পরই এপ্রিলে পহেলগাঁওতে পাকিস্তানি জঙ্গিদের হামলার ঘটনা ঘটে। সেই সময় পিওকে-তে গিয়ে লস্কর-ই-তৈবা, জইশ কমান্ডারদের শিবিরে ভারত বিরোধিতার সুর চড়া করেছিল নাজি। এই প্রথম পাকিস্তানে পা রাখেনি নাজি জাহির। এর আগেও ২০২৪ সালে করাচিতে দেখা যায় তাকে। সেই বছর এপ্রিলে সে ইসলামাবাদেও যায়। সেবছর ইসলামাবাদের বার অ্যাসোসিয়েশন তাকে সংবর্ধনা দেয়।
উল্লেখ্য, মার্কিন প্রশাসন যখন আশা করছে যে ভবিষ্যতে গাজায় প্রতিষ্ঠিত নতুন স্থিতিশীলতা বাহিনীর জন্য মুনিরের পাকিস্তান সেনাবাহিনী তাদের সৈন্য পাঠাবে, তখন এই সদ্য ঘটে যাওয়া ইভেন্টের ভিডিও প্রকাশ্যে আসে। যা ঘিরে স্বভাবতই ইজরায়েল-মার্কিন ও মার্কিন-পাক কূটনীতি কোনদিকে যায়, সেদিকে তাকিয়ে সকলে।