বাংলাদেশে আরও হিন্দুকে খুন করা হল। বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম আরটিভি অনলাইনের রিপোর্টে উদ্ধৃত করে সংবাদসংস্থা এএনআইয়ের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ময়মনসিংয়ের ভালুকা উপজেলায় বজেন্দ্র বিশ্বাসকে (৪০ বছর) হত্যা করা হয়েছে। ইতিমধ্যে অভিযুক্ত নোমান মিঁয়াকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে আগ্নেয়াস্ত্রও। আর সেই ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করে এএনআইয়ে বাংলাদেশের হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের ভারপ্রাপ্ত জেনারেল সেক্রেটারি মণীন্দ্র নাথ বলেছেন, ‘হ্যাঁ। ওই ঘটনা ঘটেছে।’
বজেন্দ্র ও নোমান একই কারখানায় কাজ করত
এএনআইআয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম রিপোর্টে জানানো হয়েছে যে সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ছ’টা নাগাদ উপজেলার মেহরাবাড়ি এলাকায় সুলতানা সোয়েটার লিমিটেড কারখানায় সেই ঘটনা ঘটেছে। সিলেট সদর উপজেলার কাদিরপুর গ্রামের পবিত্র বিশ্বাসের ছেলে হলেন বজেন্দ্র। আর অভিযুক্ত নোমান হল সুনামগঞ্জ জেলার তাহেরপুর থানার বালুতুরি বাজারের লুফতার রহমানের ছেলে। বজেন্দ্রের সঙ্গে একই কারখানায় কাজ করত নোমান।
‘গুলি করে দিই’ বলেই গুলি চালায় নোমান
ওই বাংলাদেশি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়েছে, এক প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন যে ঘটনার সময় নোমানের সঙ্গে বসেছিল নোমান। আচমকা নিজের শটগান বজেন্দ্রের দিকে তাক করে নোমান বলে যে ‘গুলি করে দিই?’ তারপরই গুলি চালিয়ে দেয়। গুলি লাগে বজেন্দ্রের উরুতে। দ্রুত তাঁকে ভালুকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান সহকর্মীরা। কিন্তু চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন বজেন্দ্রকে।

বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম সময়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইচ্ছাকৃতভাবে গুলি চালায়নি নোমান। অসাবধনতাবশত গুলি চলে যায়। তার জেরেই বজেন্দ্রের মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে। যদিও বিষয়টি নিয়ে আপাতত বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের তরফে কোনও মন্তব্য করা হয়নি।
একের পর এক হিন্দুকে হত্যা বাংলাদেশে
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের অগস্টে শেখ হাসিনার পতনের পর থেকে বাংলাদেশে হিন্দুদের উপর অত্যাচার বেড়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। আর এই সপ্তাহদুয়েক আগে ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ওসমান হাদির মৃত্যুর পরে একের পর এক হিন্দুকে হত্যা করা হচ্ছে। প্রথমে দীপুচন্দ্র দাসকে খুন করা হয়েছে। নির্মমভাবে মারধর করা হয় তাঁকে। তারপর গাছে ঝুলিয়ে আগুনে পুড়িয়ে মেরে ফেলা হয়। পরে আরও এক যুবককে হত্যা করা হয় বাংলাদেশে। যে যুবককে আবার ‘সন্ত্রাসী’-র তকমা দিয়ে দেয় মহম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।