পড়শি দেশ পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশে এক হিন্দু তরুণকে পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে বুকে গুলি করে খুন করা হয়েছে। মৃত যুবকের নাম কলস কোহলি। জানা গিয়েছে, কলসকে খুন করে স্থানীয় এক বাহুবলী জমিদার শরফরাজ নিজামানি। মৃত কলস ভাগচাষী ছিলেন বলে জানা গিয়েছে। এরই সঙ্গে, সংখ্যালঘু অধিকারের জন্য আন্দোলনও করতেন তিনি। এদিকে কলসের খুনের ঘটনায় সেখানে সংখ্যালঘুরা সরব হয়েছেন। মানবাধিকার কর্মী এবং পাকিস্তানি হিন্দুরা সিন্ধু প্রদেশে আন্দোলন শুরু করেছে। মোবাইলের টর্চ জ্বেলে আন্দোলনকারীরা বিচারের দাবি করছেন।
জানা গিয়েছে, কলস কোহলিকে খুবই কাছ থেকে বুকে গুলি করে খুন করে সরফরাজ নিজামানি। ঘটনাটি ঘটেছে সিন্ধু প্রদেশের তলহারের কাছে। এই আবহে হিন্দু আন্দোলনকারীদের দাবি, অবিলম্বে খুনি সরফরাজ নিজামানিকে গ্রেফতার করতে হবে। সরফরাজ নিজামানির বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদ বিরোধী আইনের ধারায় মামলা রুজু কতে হবে। নিহত কলস কোহলির পরিবারকে পূর্ণাঙ্গ নিরাপত্তা প্রদান করতে হবে স্থানীয় প্রশাসনকে। এবং সিন্ধু প্রদেশ জুড়ে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে সরকারকে।
উল্লেখ্য, গত ৭ জানুয়ারি থেকে শুরু হয় কলসের খুনের প্রতিবাদে এই বিক্ষোভ। সেই আন্দোলন অবিরাম চলে যাচ্ছে। খুনি গ্রেফতার না হওয়া পর্যন্ত এই আন্দোলন জারি থাকবে বলে দাবি বিক্ষোভকারীদের। এই আন্দোলনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন দরবার ইত্তেহাদে পাকিস্তানের প্রধান শিবা কচ্ছি। তিনি নিজে প্রতিবাদের ভিডিয়ো পোস্ট করে লিখেছেন, কলস কোহলির মৃত্যুতে যে প্রতিবাদ হচ্ছে, তা ইতিহাস তৈরি করছে। এটা শুধু একটা আন্দোলন নয়, এটা আহত বিবেকের আর্তনাদ। পুরুষ, মহিলা থেকে শুরু করে ছোট্ট শিশুরা গভীর রাত পর্যন্ত বিক্ষোভ প্রদর্শন করছেন। এর থেকে প্রমাণিত হচ্ছে, বিচারকে কখনও চুপ করানো যায় না। ক্লান্তি, খিদে, প্রবল ঠান্ডা উপেক্ষা করে প্রতিবাদীরা দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। আজ কলসের অনাথ সন্তান, বিধবা স্ত্রী, শোকে বিহ্বল মায়ের একটা প্রশ্ন এই ব্যবস্থার প্রতি: গরিবের রক্তের দাম কী এতই কম?
