জনতা উন্নয়ন পার্টি গঠনের আগে থেকেই ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ুন কবির দাবি করেছিলেন, তিনি আইএসএফের সঙ্গে জোটে আগ্রহী। এই আবহে তিনি ফুরফুরা শরিফ যান ৯ ডিসেম্বর। তবে জানা গিয়েছে, হুমায়ুনের সঙ্গে দেখাই করেননি আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকি। অবশ্য ফুরফুরার একাধিক পীরজাদার সঙ্গে দেখা করেন হুমায়ুন। এদিকে জোট নিয়ে আলোচনার বিষয়ে নওশাদের বার্তা, হুমায়ুন যদি চিঠি দেন, তাহলে আলোচনা এগোতে পারে। তবে নওশাদের এই দাবির পরিপ্রেক্ষিতে হুমায়ুন পালটা বলেন, ‘আইএসএফ কত শতাংশ ভোট পায় যে চিঠি দিতে হবে?’
গত বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেস এবং বামেদের সঙ্গে জোট করেছিল আইএসএফ। সেই জোটের একমাত্র প্রার্থী হিসেবে জিতে বিধানসভায় গিয়েছিলেন নওশাদ সিদ্দিকি। এবারও সিপিএমের সঙ্গে নওশাদের জোটের আলোচনা এগোচ্ছে। এরই মাঝে আবার নওশাদের সঙ্গে জোট করার বার্তা দিয়েছিলেন হুমায়ুন। তবে আপাতত নওশাদের পাত্তা না পেয়ে খাপ্পা হুমায়ুন। জোটের ক্ষেত্রে যে নওশাদের প্রথম পছন্দ বাম-কংগ্রেস, তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন তিনি।
৯ ডিসেম্বর ফুরফুরায় পীরজাদা সাফেরি সিদ্দিকি এবং ইব্রাহিম সিদ্দিকির সঙ্গে দেখা করেন হুমায়ুন। এরপরই তিনি নওশাদের বাড়ি গিয়েছিলেন। সেখানে আব্বাস বা নওশাদের সঙ্গে দেখা করতে চান। তবে ১০ মিনিট অপেক্ষা করার পরেও আব্বাস বা নওশাদ দেখা করতে আসেননি হুমায়ুনের সঙ্গে। এরপর হুমায়ুন সেখান থেকে বেরিয়ে ফুরফুরার দরবার শরিফে চলে যান। মুর্শিদাবাদে বাবরি মসজিদ তৈরি করে মেরুকরণের রাজনীতির পথে পা বাড়িয়েছেন হুমায়ুন। তবে ফুরফুরায় এই ‘ধাক্কা’ তাঁকে অঙ্ক মেলাতে সমস্যায় ফেলতে পারে।

এদিকে হুমায়ুনের ফুরফুরা সফর প্রসঙ্গে নওশাদ বলেন, ‘ফুরফুরায় সমস্ত মানুষ আসতে পারে। এটা ধর্মীয় জায়গায়। এখানে কোনও বিভেদ নেই। উনি যখন এসেছিলেন তখন আমি ছিলাম না। জোটের ক্ষেত্রে আমার সিপিআইএম ও কংগ্ৰেসকে চিঠি দিয়েছি। অন্য অনেক দলের সাথে আমাদের আলোচনা চলছে। কিন্তু জোটের জন্য আলোচনার ক্ষেত্রে অফিশিয়ালি যোগাযোগ করতে হবে। তবেই আলোচনা এগোবে।’ এর জবাবে হুমায়ুন পরে বলেন, ‘আমার জানা নেই অফিশিয়াল কোনটা। আমি এত ভনিতা করে কারও সঙ্গে কথা বলি না। কাউকে চিঠি দেব না। কারও ইচ্ছা হলে বসবে না হলে বসবেন না। কাউকে চিঠি দেওয়ার মত দুর্বল জায়গায় হুমায়ুন কবির নেই। অফিশিয়ালি চিঠি দিয়ে জোট করার জন্য কাউকে আবেদন করব না। আমি ওপেন বলব।’