ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট মাদুরোকে আটক করা মার্কিন অভিযানের প্রতিক্রিয়ায় মুখ খুলল ভারত। বিদেশ মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল একটি বিবৃতি প্রকশ করে এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। এই ঘটনার ওপর ভারত নজর রাখছে বলেও জানান তিনি। এর আগে গতকাল ভেনেজুয়েলার রাজধানীতে মার্কিন এয়ারস্ট্রাইকের পরে সেই দেশে থাকা ভারতীয়দের সাবধানে থাকতে বলে নির্দেশিকা জারি করেছিল বিদেশ মন্ত্রক। তবে বিষয়টি নিয়ে আজ পূর্ণাঙ্গ ভাবে ভারত সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করা হল।
বিদেশ মন্ত্রকের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘ভেনেজুয়েলার সাম্প্রতিক ঘটনাবলী গভীর উদ্বেগের বিষয়। আমরা বর্তমান পরিস্থিতির ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখছি। ভেনেজুয়েলার জনগণের কল্যাণ ও সুরক্ষার জন্য ভারত তাদের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করতে চায়। আমরা সংশ্লিষ্ট সবাইকে সংলাপের মাধ্যমে শান্তিপূর্ণভাবে ইস্যু সমাধান এবং এই অঞ্চলের শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানাচ্ছি।’
উল্লেখ্য, ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে হামলা চালিয়ে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে মার্কিন সামরিক বাহিনী আটক করে নিয়ে গিয়েছে। এই আবহে ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজকে ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। আদালত বলে, দেশের সার্বভৌমত্ব ও প্রশাসনিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে এই সিদ্ধান্ত জরুরি। এহেন ডেলসি দায়িত্ব সামলেই বলে দিয়েছেন, ‘কারও দাসত্ব করব না।’ প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এবং তাঁর স্ত্রীর মুক্তির দাবি জানিয়েছেন তিনি। তিনি বলেন, ‘ভেনেজুয়েলা কোনওদিন কোনও সাম্রাজ্যের উপনিবেশ হবে না। কারও দাসত্ব করবে না। মাদুরোই আমাদের একমাত্র নেতা। অবিলম্বে তাঁকে এবং তাঁর স্ত্রীকে মুক্তি দিতে হবে।’
এদিকে মার্কিন সেনার হাতে আটক হওয়ার ১৫ ঘণ্টার পরে নিকোলাস মাদুরো নিউইয়র্কে পৌঁছলেন। রিপোর্ট অনুযায়ী, মাদক ও অস্ত্র চোরাচালানের অভিযোগে করা মামলায় ম্যানহাটনের ফেডারেল আদালতে হাজির করা হবে। উল্লেখ্য, ২০২০ সালে ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে নিউইয়র্কের সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্ট কোর্টে কোকেন পাতার ষড়যন্ত্রের একটি মমালা করা হয়েছিব। সেই মামলায় অভিযুক্ত মাদুরো। এদিকে গতকাল ট্রাম্প জানিয়ে দিয়েছেন, নিউইয়র্কেই হবে মাদুরো এবং তাঁর স্ত্রীর বিচার। এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট দাবি করেছেন, ভেনেজুয়েলার পুরো তেলের শিল্প গড়ে তুলেছিল আমেরিকাই। সেই তেল এবার বিশ্বের অন্যান্য দেশকে বিক্রি করবে আমেরিকাই।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আমরা ওই দেশটা (ভেনেজুয়েলা) চালাব, যতক্ষণ না আমরা একটি নিরাপদ, উপযুক্ত এবং ন্যায়পরায়ণ রূপান্তর সম্পন্ন করতে পারি।’ সেইসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমরা অন্য কাউকে বসিয়ে দিতে চাই না। দীর্ঘদিন ধরে যে পরিস্থিতি ছিল, সেটাই আছে। তাই আমরাই দেশ চালাতে যাচ্ছি। আমেরিকার বিশাল বড়-বড় তৈল সংস্থাগুলি ভেনেজুয়েলার শক্তিক্ষেত্রে কয়েক বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে। অত্যন্ত বাজেভাবে ভেঙে পড়া পরিকাঠামো ঠিক করবে।’