রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেল কেনার কথা উল্লেখ করে ভারতের উপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। তবে সম্প্রতি ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তির আবহে সেই অতিরিক্ত শুল্ক প্রত্যাহার করেছে আমেরিকা। সঙ্গে আবার ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, ভারত যদি ফের রাশিয়ার থেকে তেল কেনে, তাহলে সেই অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক আবারও ভারতের ওপর আরোপ করা হবে। এরই মধ্যে জানা গেল, রাশিয়ার থেকে তেল সহ অন্যান্য পণ্য কেনার হার উল্লেখযোগ্য ভাবে কমিয়েছে ভারত।
গত ১৬ ফব্রুয়ারি প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্য অনুসারে, রাশিয়া থেকে ভারতের পণ্যদ্রব্য আমদানি জানুয়ারিতে ৪০.৪৮ শতাংশ কমেছে। তথ্য অনুসারে, ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে রাশিয়া থেকে ভারতের আমদানি প্রায় ৪.৮১ বিলিয়ন ডলার ছিল। ২০২৬ সাল জানুয়ারি তা নেমে এসেছে ২.৮৬ বিলিয়ন ডলারে। তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয় রিফাইনারিগুলিও রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেল কেনা কমিয়েছে। উল্লেখ্য, অপরিশোধিত তেল ছাড়াও রাশিয়া থেকে কয়লা, অন্যান্য পেট্রোলিয়াম পণ্য, সার, লোহা, নিউজপ্রিন্ট, ডাল, মুক্তো, মূল্যবান এবং আধা-মূল্যবান পাথর আমদানি করে থাকে ভারত।
এর আগে ২০২৫ সালের এপ্রিলে রাশিয়া থেকে প্রায় ৪.৭৩ বিলিয়ন ডলার মূল্যের তেল আমদানি করেছে ভারত। সেই মাসেই ট্রাম্প তাঁর ‘মুক্তি দিবসের’ শুল্ক ঘোষণা করেছিলেন। সেই সময় ভারতের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক চাপিয়েছিল আমেরিকা। যা কিনা বাংলাদেশ এবং পাকিস্তানের থেকে বেশি ছিল। তারপরে অপারেশন সিঁদুরের পর থেকে ট্রাম্প প্রশাসন ক্রমাগত ভারতকে নিশানা করে চলেছে। রাশিয়া থেকে তেল কেনার জন্য জরিমানা হিসাবে অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছিল আমেরিকা। সব মিলিয়ে ভারতীয় পণ্যগুলির উপর ৫০ শতাংশ আমদানি শুল্ক আরোপ করেছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। তবে সাম্প্রতিক ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তির ঘোষণার পর থেকে রাশিয়ার তেল কেনা কমিয়েছে ভারত। আর অন্তর্বর্তীকালীন এই বাণিজ্য চুক্তিতে সম্মত হওয়ার পর ভারতের ওপর আরোপিত শুল্ক কমিয়ে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে ভারতের রাশিয়ান অপরিশোধিত তেল আমদানি ৩.৩২ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছিল। এদিকে ২০২৬ সালের ৯ জানুয়ারি ভারতের বৃহত্তম বেসরকারি রিফাইনার রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড জানিয়েছিল, তারা কোনও রাশিয়ান অপরিশোধিত তেল কিনছে না। এরই মাঝে আমেরিকা দাবি করে, ভারত নাকি আমেরিকা এবং ভেনেজুয়েলা থেকে তেল কিনবে। যদিও মার্কিন সেই দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সেভাবে স্পষ্ট প্রতিক্রিয়া দেয়নি ভারত।