নতুন বছরের প্রথম দিনই সকাল ৯টা ৪০ মিনিট নাগাদ হিমাচলপ্রদেশের সোলান জেলার নালাগড় থানার কাছে একটি প্রচণ্ড বিস্ফোরণ ঘটেছিল। বিস্ফোরণটি এতটাই শক্তিশালী ছিল যে থানার স্টোররুমের জানালা ভেঙে গিয়েছিল, আশেপাশের বিল্ডিংগুলির কাচ ভেঙে যায়। প্রায় আড়াই ফুট গভীর একটি গর্ত তৈরি হয়েছিল সেখানে। এই বিস্ফোরণের আওয়াজ প্রায় আধ কিলোমিটার দূর পর্যন্ত শোনা গিয়েছিল। যদিও এই বিস্ফোরণে কেউ হতাহত হয়নি। সেই বিস্ফোরণের পরে আবার সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি প্রেস নোট প্রকাশ করে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন বব্বর খালসা ইন্টারন্যাশনাল এবং পঞ্জাব সার্বভৌম জোট। তারা এই হামলার দায় স্বীকার করে। এই আবহে পঞ্জাব পুলিশ সন্দেহ করছে, এই বিস্ফোরণের নেপথ্যে আদতে পাক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই আছে।
নিষিদ্ধ খলিস্তানি জঙ্গি সংগঠনগুলি প্রেস নোটে জানায়, এটি একটি আইইডি (ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস) হামলা ছিল। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী গোপী নবনশারিয়া এবং কাবাল সিং পরিকল্পনা করেছিল এই হামলা। উভয় সংগঠনের দাবি, হিমাচলপ্রদেশে সিন্থেটিক ড্রাগ তৈরি করে পঞ্জাবে পাঠানো হয়। তাই এই হামলা চালানো হয়েছে। এই আবহে খলিস্তানি জঙ্গিদের হুঁশিয়ারি, প্রশাসন জেগে না উঠলে পরের বার পুলিশের গাড়ি ও সদর দফতরে আইইডি লাগানো হবে। এদিকে মাদক নিয়ে খলিস্তানি জঙ্গি সংগঠনের এহেন দাবি সত্ত্বেও আসল সত্যিটা হল, আইএসআই এবং খলিস্তানি জঙ্গিরা পাক সীমান্ত পার করে মাদক পাচার করে পঞ্জাবের সর্বনাশ করছে।
এই আবহে পঞ্জাব পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা মাদক নিয়ে খলিস্তানি জঙ্গিদের দাবিকে ‘ভণ্ডামি’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। টাইমস অফ ইন্ডিয়াকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ওই কর্মকর্তা বলেন, পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা আইএসআইয়ের নির্দেশে খলিস্তানি জঙ্গিরা এই অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করার জন্য কাজ করছে। এর মধ্যে কোনও মতাদর্শ নেই। এই সব কার্যকলাপে শুধুই অর্থের জন্য তরুণদের নিয়োগ করা হয়। পঞ্জাব পুলিশ মনে করছে, হিমাচলে অস্থিরতা সৃষ্টির পাকিস্তানের কৌশলের অংশ। উল্লেখ্য, খলিস্তানিদের দাবি, খলিস্তান তৈরি হলে হিমাচলও এর অংশ হবে।এদিকে এই হামলার নেপথ্যে যে নাম উঠে এসেছে, তার মধ্যে গোপী নবনশারিয়া ২০২৪ সালের নভেম্বর থেকে পঞ্জাবের পুলিশ ঘাঁটিতে বেশ কয়েকটি হামলার দায় স্বীকার করেছে। আইএসআইয়ের নির্দেশে চালানো হয়েছিল এই সব হামলা। এদিকে হিমাচল পুলিশ বিস্ফোরণের ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে। ফরেনসিক টিম ঘটনাস্থল থেকে নমুনা সংগ্রহ করেছে এবং সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করার জন্য দল গঠন করা হয়েছে। নালাগড় থানায় একাধিক ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। পঞ্জাব পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলির সাথে সমন্বয় করছে হিমাচল পুলিশ। নালাগড়-বাদ্দি অঞ্চল একটি ফার্মাসিউটিক্যাল হাব। সেখানে অনেক ফার্মাসিউটিক্যাল কারখানা রয়েছে। পুলিশ ওই এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করেছে এবং আর কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে, তার জন্য সতর্ক রয়েছে।
