গাজা নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের যে প্ল্যান রয়েছে তাতে অন্যতম অঙ্গ হল সম্ভাব্য ইন্টারন্যাশনাল স্টেবিলাইজেশন ফোর্স বা আইএসএফ। মার্কিন প্রেসিডেন্টের নয়া ‘বন্ধু’ পাকিস্তানের সেনাকে, গাজায় ওই বাহিনীতে সংযুক্ত করার বিষয়ে একটি প্রস্তাব রয়েছে। তবে ইজরায়েল এদিন স্পষ্ট করে জানিয়েছে, গাজায় কোনও বাহিনীই পাকিস্তানের সঙ্গে কাজ করুক, তা চায়না ইজরায়েল। ভারতে অবস্থিত ইজরায়েলের রাষ্ট্রদূত রিউভেন আজার এই বিষয়ে ইজরায়েলের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন।
কিছুদিন আগেই, সোশ্যাল মিডিয়ায় এক পোস্টে দেখা গিয়েছিল,পাকিস্তানের গুরজনওয়ালায়, জঙ্গি সংগঠন লস্করের রাজনৈতিক উইং পিএমএএমএল-র এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে রয়েছে হামাসের জঙ্গি নেতা নাজি জাহির। এই হামাসের সঙ্গেই দীর্ঘদিনের শত্রুতা ইজরায়েলের। আর সেই হামাস নেতা যে পাকিস্তানে ঘোরাফেরা করছে, সেই পাকিস্তানের ফৌজকে গাজার আইএসএফ-এ চাইছেনা ইজরায়েল। ভারতে ইজরায়েলের রাষ্ট্রদূত রিউভেন আজার বলেন,’ এখনই এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি করার চেষ্টা চলছে যেখানে আমরা এগিয়ে যেতে পারি, কিন্তু তার জন্য হামাসকে ভেঙে ফেলতে হবে। এর বাইরে যাওয়ার কোন উপায় নেই।’ উগ্র সন্ত্রাসী সংগঠনগুলির সাথে পাকিস্তানের যোগসূত্রের কারণে গাজায় পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ভূমিকায় ইসরায়েল কি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করবে জানতে চাইলে রাষ্ট্রদূত দৃঢ়ভাবে উত্তর দেন, ‘না’। আজার বলেন, ইসরায়েলের প্রাথমিক অগ্রাধিকার হলো মৃত অপহৃতদের দেহাবশেষ সহ অপহৃতদের উদ্ধার এবং হামাসের সামরিক ও রাজনৈতিক অবকাঠামো ধ্বংস করা। তাঁর সাফ কথা, ‘হয় হামাস ভেঙে ফেলবে, নয়তো কোনও পরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপ বাস্তবায়ন করা অসম্ভব হবে।’
গাজায় পাকিস্তানের ভূমিকা নিয়ে যে প্রস্তাব রয়েছে তা সম্পর্কে ইজরায়েলি রাষ্ট্রদূত বলেন যে, সাধারঁত দেশগুলি কেবল তাদের সাথেই সহযোগিতা করে, যেদেশকে তারা বিশ্বাস করে এবং যাদের সাথে দেশগুলির যথাযথ কূটনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। ফলত, তিনি পাকিস্তান সম্পর্কে ইজরায়েলের মনোভাবের কথা স্পষ্ট ব্যক্ত করেছেন। পাকিস্তানের সঙ্গে হামাস নেতার ঘনিষ্ঠতা নিয়ে ইডরায়েলি রাষ্ট্রদূত বলেন,’ শুধুমাত্র উন্মুক্ত সূত্র থেকেই আপনি দেখতে পাচ্ছেন যে এই অঞ্চলে হামাস নেতাদের মধ্যে কয়েক ডজন আদান-প্রদান হয়েছে। যা প্রকাশিত হয়েছে তা পুরো ছবির একটি অংশ মাত্র। অপ্রকাশিত কার্যকলাপও রয়েছে, এবং এটি আমাদের উদ্বেগ্নের বিষয়।’
