বাংলাদেশে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সম্পন্ন হল সেদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী তথা বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার। বাংলাদেশের এই প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর শেষযাত্রায় শোকজ্ঞাপন করে অংশ নেন ভারতের বিদেশমমন্ত্রী জয়শংকর। এদিন সকালে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর বাশার ঘাঁটিতে পৌঁছন বিদেশমন্ত্রী। ঢাকায় পা রেখেই তিনি সাক্ষাৎ করেন খালেদাপুত্র তারেক রহমানের সঙ্গে। এছাড়াও ইউনুস সরকারের উপদেষ্টা নজরুল ইসলামের সঙ্গেও তাঁর সাক্ষাৎ হয়। ঢাকার বুকে বিদেশমন্ত্রী জয়শংকরের সঙ্গে মুখোমুখি হন পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের স্পিকার সর্দার আয়াজ সাদিক।
এদিন ঢাকায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে দেখা করেন বিদেশমন্ত্রী জয়শংকর। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর পাঠানো শোকজ্ঞাপনমূলক চিঠি এদিন খালেদাপুত্র তারেকের হাতে তুলে দেন জয়শংকর। নরেন্দ্র মোদীর ব্যক্তিগত এই চিঠি তারেক রহমানের হাতে তুলে দেওয়ার ঘটনা নিজেই সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে জানান জয়শংকর। এছাড়াও ভারত সরকারের তরফে তিনি গভীর শোক প্রকাশ করেন খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে। জয়শংকর তাঁর পোস্টে লেখেন,’ভারত সরকার এবং জনগণের পক্ষ থেকে গভীর শোক প্রকাশ করা হয়েছে।’ এরই সঙ্গে তিনি লেখেন,’ বেগম খালেদা জিয়ার দৃষ্টিভঙ্গি এবং মূল্যবোধ আমাদের অংশীদারিত্বের উন্নয়নে পথ দেখাবে বলে আস্থা প্রকাশ করা হয়েছে।’
উল্লেখ্য, হাদির হত্যাকাণ্ডের পর বাংলাদেশ থেকে বহুবারই ভারত বিরোধী বার্তা শোনা গিয়েছে। হাদির মৃত্যু খবরের রাতেই নৃশংসভাবে খুন করা হয়েছে দীপু দাসকে। তা নিয়ে তীব্র নিন্দা জানায় দিল্লি। এরপরও একাধিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা বাংলাদেশ থেকে উঠে আসছে। ২০২৪ সালের ৫ অগস্ট অভ্যুত্থানের হাত ধরে শেখ হাসিনার সরকারের পতন ও তাঁর ভারতে আশ্রয় পর্বের পর এই প্রথম বাংলাদেশে পা রাখলেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী জয়শংকর। যা দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ।
উল্লেখ্য, এদিন বেগম খালেদা জিয়াকে বাংলাদেশের শের-এ বাংলায় তাঁর স্বামী তথা সেদেশের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি জিয়া উর রহমানের সমাধির পাশে সমাহিত করা হয়েছে।

এদিকে, এদিন খালেদা জিয়ার শেষযাত্রায় শোক জ্ঞাপন করতে ঢাকা পৌঁছন নেপাল, শ্রীলঙ্কা সহ একাধিক দেশের প্রতিনিধিরা। পৌঁছন পাকিস্তানের স্পিকার আয়াজ সাদিকও। নেপালের বিদেশমন্ত্রী বালা নন্দ শর্মা এবং ভুটানের বিদেশমন্ত্রী ডি. এন. ধুঙ্গেলরা ঢাকায় পৌঁছন। এদিকে, ঢাকার বুকে এদিন ইউনুস সরকারের প্রতিনিধি আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমানকে ভারতের বিদেশমন্ত্রী জয়শংকরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে দেখা যায়। এরই মাঝে উঠে আসে এক ছবি। যেখানে দেখা যায়, ভারতের বিদেশমন্ত্রী জয়শংকরের মুখোমুখি পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের স্পিকার সর্দার আয়াজ সাদিক। তাঁদের একে অপরের সঙ্গে করমর্দন করার ছবি পোস্ট করে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ইউনুসের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেল।