আইপিএলে বাংলাদেশি ক্রিকেটার মুস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দেওয়ার পর থেকেই বিতর্ক তৈরি সৃষ্টি হয়েছে। এই আবহে আগামী মাসে অনুষ্ঠিত হতে চলা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো ভারত থেকে শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ। মহাম্মদ ইউনুসের সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, মুস্তাফিজুরকে দল থেকে বাদ দেওয়ার কারণ আমরা মেনে নিতে পারছি না। তিনি হুমকি দিয়ে বলেন, ‘আমাদের অনুভূতিতে আঘাত লেগেছে এবং আমরা উপযুক্ত জবাব দেব।’ এই পরিস্থিতিতে কংগ্রেস সাংসদ শশী থারুরও মুস্তাফিজুর নিয়ে রিজওয়ানার এই মন্তব্যে প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন। এই প্রসঙ্গে একটি পোস্টের জবাবে শশী থারুর লেখেন, ‘উনি ঠিকই বলেছেন।’
প্রসঙ্গত, এক সাংবাদিক রিজওয়ানা হাসানের প্রতিক্রিয়া নিয়ে পোস্ট করেছিলেন। সেখানে শশী থারুর জবাব দেন। এদিকে বার্তাসংস্থা এএনআইকে শশী বলেন, ‘আমি শুরু থেকেই এই বিষয়ে আমার দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্ট করেছি। আমি বেশ কিছুদিন ধরেই যুক্তি দিয়ে আসছি যে খেলাধুলাকে রাজনীতি থেকে আলাদা রাখা উচিত। রাজনৈতিক ব্যর্থতার মূল বোঝা খেলাধুলার ওপর চাপানো উচিত নয়। আসল কথা হল, বাংলাদেশকে আমাদের মনোভাব বোঝানোর আরও অনেক উপায় রয়েছে। আমাদের বিদেশমন্ত্রী মাত্র কয়েকদিন আগে সেখানে ছিলেন, সেই ব্যক্তির সাথে দেখা করেছিলেন যিনি পরবর্তী নির্বাচনে সম্ভাব্য বিজয়ী হবেন। আমরা বাংলাদেশের জনগণের সাথে বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করছি। সংখ্যালঘুদের উপর সাম্প্রতিক নৃশংসতার বিষয়ে আমরা ইতিমধ্যেই বাংলাদেশ সরকারকে পদক্ষেপ করতে বলেছি, সেখানে আইনশৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার জন্য অনুরোধ করছি। এইরকম একটি সংবেদনশীল মুহূর্তে মুস্তাফিজের এই ঘটনা আমার কাছে অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক এবং অযৌক্তিক সিদ্ধান্ত বলে মনে হচ্ছে… এটাও উদ্বেগজনক যে আমরা সোশ্যাল মিডিয়ার ক্ষোভকে নীতিগতভাবে প্রভাবিত করতে দেখেছি।’
রিজওয়ানা হাসান বলেছিলেন, ‘যখন বিভিন্ন দেশের মধ্যে রাজনৈতিক উত্তেজনা দেখা দেয়, তখন সাংস্কৃতিক বিনিময় ও খেলাধুলো তা কমাতে সহায়তা করে। কিন্তু এখানে যা ঘটেছে তা ঠিক উল্টো। রাজনৈতিক কারণ দেখিয়ে দল থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে মুস্তাফিজকে। আমাদের জনগণের অনুভূতিতে আঘাত লেগেছে। আমরা এর উপযুক্ত জবাব দেব। মুস্তাফিজকে দল থেকে বাদ দেওয়ার কারণ আমরা একেবারেই মেনে নিতে পারি না। গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজনৈতিক কারণে একজন বাংলাদেশি খেলোয়াড়কে দল থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে, যা স্বাভাবিকভাবেই জনগণের মধ্যে নেতিবাচক মনোভাব সৃষ্টি করেছে। এই অবস্থায় আমাদেরও অবস্থান নিতে হবে। আমরা সেই অবস্থানের জন্য আইনি ভিত্তি এবং প্রক্রিয়া পর্যালোচনা করছি। যাচাই-বাছাইয়ের পর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।’

এই সবের মাঝেই বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) আগামী মাসে অনুষ্ঠেয় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য তাদের জাতীয় দলকে ভারতে না পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ডের (বিসিসিআই) নির্দেশে আইপিএলের ফ্র্যাঞ্চাইজি কলকাতা নাইট রাইডার্স (কেকেআর) ফাস্ট বোলার মুস্তাফিজুর রহমানকে ছেড়ে দেওয়ার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শনিবার বিসিসিআই রহমানকে ‘মুক্তি’ দেওয়ার সিদ্ধান্তের জন্য দুই দেশের মধ্যে বর্তমান সম্পর্কের কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেনি তবে বলেছে যে এই পদক্ষেপটি সাম্প্রতিক ঘটনাবলী থেকে অনুপ্রাণিত হয়েছে। আগামী দিনে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারে আইসিসি।