e:
ওসমান হাদির খুনের ঘটনার আরও একটা নাটকের গল্প ফাঁদল বাংলাদেশ? সংবাদমাধ্যম ঢাকা পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঢাকার মেট্রোপলিটন আদালতে সঞ্জয় চিসিম এবং মহম্মদ ফয়জল নাকি স্বীকার করেছেন যে তাঁরা হাদি হত্যাকাণ্ডের মূল অভিযুক্ত ফয়জল করিম মাসুদকে ভারতে পালাতে সাহায্য করেছিলেন। যদিও সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় এক ব্যক্তির ভিডিয়ো (সত্যতা যাচাই করেনি হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা) ভাইরাল হয়। ওই ব্যক্তি নিজেকে ফয়জল বলে দাবি করেন। আর সেইসঙ্গে তিনি জানান, হাদিকে তিনি খুন করেননি। আর ভারতেও আসেননি। তিনি দুবাইয়ে চলে গিয়েছেন। কারণ হাদি হত্যাকাণ্ডে তাঁর নাম জড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। কট্টরপন্থীরা আদতে খুন করেছে হাদিকে।
ঢাকা পুলিশের মিথ্যাচার, ফাঁস ভারতের
অথচ ঢাকা পুলিশের তরফে দাবি করা হয় যে হাদি হত্যাকাণ্ডের মূল অভিযুক্ত নাকি ভারতে পালিয়ে গিয়েছেন। প্রাথমিকভাবে ভারতে পালানোর বিষয়ে কোনও উচ্চবাচ্য করা না হলেও পরবর্তীতে ঢাকা পুলিশের তরফে দাবি করা হয়, হাদি হত্যাকাণ্ডে দু’জনকে নাকি গ্রেফতার করেছে মেঘালয় পুলিশ। ওই দু’জন নাকি হাদির হত্যাকাণ্ডের মূল অভিযুক্তকে সীমান্ত পার করার পরে ‘রিসিভ’ করেছিলেন। যদিও সেই দাবি উড়িয়ে দেয় মেঘালয় পুলিশ এবং বিএসএফ।
ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার এস এন নজরুল ইসলাম দাবি করেন যে হাদির খুনের মামলায় মূল অভিযুক্ত এবং তাঁর সহযোগী ভারতে পালিয়ে গিয়েছেন। আর তাঁদের ভারতে ঢুকতে সহায়তা করেন দুই ভারতীয় যুবক। মেঘালয় পুলিশ তাঁদের ইতিমধ্যে গ্রেফতার করেছেন বলে দাবি করেন ইসলাম। যদিও কিছুক্ষণের মধ্যেই সেই দাবি উড়িয়ে দেন মেঘালয় পুলিশের এক শীর্ষকর্তা।
মেঘালয় পুলিশ ও বিএসএফের তরফে কী বলা হল?
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের পুলিশের থেকে সরকারিভাবে বা ঘরোয়াভাবে কোনওরকম যোগাযোগ করা হয়নি। রিপোর্টে যে অভিযুক্তদের নাম করা হচ্ছে, তাঁদের কারও সন্ধান মেলেনি গারো এলাকায়। আর কোনও গ্রেফতারি হয়নি।’ সেইসঙ্গে তিনি বলেছেন, ‘পূর্তি বা স্বামী – কাউকেই চিহ্নিত বা গ্রেফতার করা হয়নি। ভারতীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যাচাই না করেই বা কোনওরকম সমন্বয় সাধন না করেই পুরো কাহিনী তৈরি করা হয়েছে।’ একইভাবে বিএসএফের (মেঘালয় ফ্রন্টিয়ার) ইনস্পেক্টর জেনারেল ওপি উপাধ্যায় বলেছেন, ‘ওইসব লোকজন হালুঘাট সেক্টর দিয়ে আন্তর্জাতিক সীমান্ত পেরিয়ে মেঘালয়ে যে ঢুকেছে, এমন কোনও প্রমাণই নেই।’ একেবারে কড়া ভাষায় তিনি বলেছেন, ‘এই ধরনের দাবি ভিত্তিহীন এবং বিভ্রান্তিকর।’

নতুন করে নাটক ফাঁদল বাংলাদেশ?
আর তারইমধ্যে ফয়জলের ভিডিয়ো ছড়িয়ে পড়ে। তার জেরে চাপে পড়ে যায় ঢাকা পুলিশ। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, হাদি হত্যাকাণ্ডে প্রথম থেকেই বাংলাদেশের উগ্রপন্থীরা ভাসিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছিল যে মূল অভিযুক্ত ভারতে পালিয়ে গিয়েছে। প্রাথমিকভাবে পুলিশ সেরকম কিছু বলেনি। কিন্তু সম্ভবত এরকম উগ্রপন্থীদের ‘হাওয়া’ দিতে সেই সুরেই সুর মেলায় ঢাকা পুলিশ। তারপরই ভারত বাংলাদেশের মিথ্যাচার ফাঁস করে দেওয়ায় নতুন করে নাটক ফাঁদল বাংলাদেশ?