ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে মধ্যপ্রাচ্য। রিপোর্ট অনুযায়ী, ইয়েমেনে সাদার্ন ট্রানজিশন কাউন্সিলের ওপর হামলা চালাল সৌদি আরব। এই সাদার্ন ট্রানজিশন কাউন্সিল আবার সংযুক্ত আরব আমিরাতের মদতপুষ্ট। এই আবহে ইয়েমেনে কার্যত সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং সৌদির ছায়াযুদ্ধ শুরু হয়ে গিয়েছে। সাম্প্রতিক এই হালায় নিহত হয়েছেন বেশ কয়েকজন। এদিকে এই সবের মাঝে বিপাকে পড়তে পারে পাকিস্তান। উল্লেখ্য, সৌদির সঙ্গে সামরিক চুক্তির জেরে পাকিস্তান তাদের দেশে সৈনিক পাঠিয়েছে। এই আবহে ইয়েমেনের সাদার্ন ট্রানজিশন কাউন্সিলের সঙ্গে সংঘাতে পাক সৈনিকদের ব্যবহার করতে পারে সৌদি।
এদিকে সম্প্রতি আবার সংযুক্ত আরব আমিরাত পাকিস্তানের ফৌজি ফাউন্ডেশনের শেয়ারের বদলে টাকা দেওয়রা প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ইসলামাবাদকে। এই আবহে ইয়েমেনের সংঘাতে পাকিস্তানের ওপর যদি সংযুক্ত আরব আমিরাত খাপ্পা হয়, তাহলে পকেট ফুটো হবে মুনিরের। কারণ, এই ফৌজি ফাউন্ডেশন আদতে পাকিস্তানি সেনার পরিচালিত একটি কর্পোরেট সংস্থা। যারা কি না, পাচার থেকে শুরু করে খাবার বিক্রির ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত আছে। এই আবহে পাকিস্তানে ইয়েমেনের খবর প্রকাশের ক্ষেত্রে ‘বিধিনিষেধ’ আরোপ করা হয়েছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, সরকারি কোনও নির্দেশিকা না থাকলেও পাক সেনার তরফ থেকে সংবাদমাধ্যমগুলিকে ইয়েমেন সংক্রান্ত খবর প্রকাশ করতে বারণ করা হয়েছে। আইএসপিআর নাকি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমকে নির্দেশিকা পাঠিয়েছে এই মর্ম।
জানা গিয়েছে, ২ জানুয়ারি ইয়েমেনের সীমান্তবর্তী হাদরামৌত প্রদেশে সাদার্ন ট্রানজিশনাল কাউন্সিলের ক্যাম্পে হামলা চালায় সৌদি। সেই হামলায় ৭ জন নিহত হয়েছেন। এসটিসির উপপ্রধান এবং হাদরামুতের সাবেক গভর্নর আহমেদ বিন বারাক এক বিবৃতিতে বলেছেন, সৌদি সমর্থিত ন্যাশনাল শিল্ড বাহিনী শিবিরের দিকে অগ্রসর হয়, কিন্তু এসটিসি পিছু হটতে অস্বীকার করে। এরপরে বিমান হামলা চালানো হয়। এর আগে গত মাসে এসটিসি ইয়েমেনের হাদরামত ও মাহরা প্রদেশে প্রবেশ করে তেলসমৃদ্ধ অঞ্চলটি দখল করেছিল। আবার গত ৩১ ডিসেম্বর ইয়েমেনে সংযুক্ত আরব আমিরাত সমর্থিত বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলোর অস্ত্র চালান লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছিল সৌদি। এদিকে এর আগে পোর্ট সিটিতে হামলার পর সংযুক্ত আরব আমিরাত জানিয়েছিল, তারা কোনও ধরনের উত্তেজনা বাড়াতে চায় না, তাই তারা ইয়েমেন থেকে সেনা প্রত্যাহার করবে। তবে সৌদি অভিযোগ করছে, এসটিসি-কে মদত দিয়ে যাচ্ছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। এবং সেই মদত পেয়েই ইয়েমেনের এলাকা দখল করছে এসটিসি।
