২০২৫ সালের মে মাসে অপারেশন সিঁদুরের সময় ভারতের কাছে মার খেয়ে মন ভরেনি পাকিস্তানের। অন্তত তেমনটাই মনে হচ্ছে আইএসপিআর ডিজি লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরীর কথায়। ২০২৬ সাল পাকিস্তানের কেমন যাবে, এই নিয়ে বলতে গিয়ে তিনি ভারতকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সিনেমার মতো করে ডায়লগ দিলেন, ‘যদি মজা না পাইয়েছি, তাহলে পয়সা ফেরত দেব।’
উল্লেখ্য, আফগানিস্তানের সঙ্গে পাকিস্তানের সম্পর্ক তলানিতে গিয়ে ঠেকায় তা নিয়ে কথা বলছিলেন আহমেদ শরিফ চৌধুরী। তিনি তালিবানের সরকারকে স্বীকৃতি দিতেও অস্বীকার করেন সেই সময়। এরই সঙ্গে ভারতের সঙ্গ তালিবানের সখ্যতা নিয়ে বলতে গিয়ে তেলে বেগুনে জ্বলে ওঠেন তিনি। শরিফ বলেন, ‘ভারত যদি মনে করে শত্রুর শত্রু বন্ধুর নীতিতে চলবে, তাহলে চলতেই পারে। ওরা যদি মনে করে উভয় দিক দিয়ে হামলা করবে, করুক, ওপরা নীচে দিয়ে, বাঁদিক দিয়ে, ডানদিক দিয়ে, ওপর দিয়ে যেখান দিয়েই আসুক না কেন আমরা প্রস্তুত। এবার যদি তাদের মদা না পাইয়েছি, তাহলে পয়সা ফেরত দেব।’
উল্লেখ্য, গত ২২ এপ্রিল কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে পাক মদতপুষ্ট জঙ্গিরা ধর্ম জিজ্ঞেস করে ২৫ জন পর্যটক এবং এক স্থানীয়কে খুন করে। এর জবাবে ভারত ৬ মে গভীর রাতে বাহাওয়ালপুর, মুরিদকে সহ পাকিস্তানের ৯টি জঙ্গি ঘাঁটি ধ্বংস করে দেয়। সেই অভিযানে প্রায় ১০০ জন জঙ্গিকে খতম করে ভারত। আর এরপর থেকেই পাকিস্তানের তরফ থেকে শেলিং শুরু হয় ভারতের ওপর। অপারেশন সিঁদুর পরবর্তী সময়ে পাকিস্তানের শেলিংয়ে ভারতের অন্তত ১৬ জন নাগরিকের মৃত্যু ঘটে। এরপর সংঘাত বাড়তে থাকে দুই দেশের। ১০ মে-র ভোররাতে এরপর ভারতীয় বায়ুসেনা হামলা চালিয়ে পাকিস্তানের ১১টি সামরিক ঘাঁটি অকেজো করে দেয়।
এই সময়কালে পাকিস্তানের এফ-১৬ এবং জেএফ-১৭ শ্রেণির যুদ্ধবিমান সহ পাঁচটি জেট ভারত ধ্বংস করেছিল মাঝ আকাশের লড়াইয়ে। পাকিস্তানের রাডার, কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টার, হ্যাঙ্গার এবং রানওয়ে ব্যাপক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল ভারতের হামলায়। পাকিস্তানের একটি সি-১৩০ শ্রেণির বিমানও ধ্বংস করা হয়েছিল এই সংঘাতের সময়। এছাড়া ৩০০ কিলোমিটারেরও বেশি দূর থেকে একটি AEW&C বা একটি SIGINT বিমান ধ্বংস করেছিল ভারতীয় বায়ুসেনা।

এদিকে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সংঘর্ষবিরতির কৃতিত্ব দাবি করে চলেছেন মার্কিম প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বারবার বোঝাতে চাইছেন যে যুদ্ধ কতটা ভয়াবহ ছিল এবং আরও কতটা ভয়াবহ তা হতে পারত। তাঁর বরাবরের দাবি, এই সংঘাত পারাণিবিক যুদ্ধে পরিণত হতে পারত। এদিকে যুদ্ধ থামাতে শুল্ক আরোপ নিয়েও একেক রকম দাবি শোনা গিয়েছিল ট্রাম্পের গলায়। তাঁর দাবি অনুযায়ী, ট্রাম্প নাকি ভারত ও পাকিস্তানের ওপর ২৫০ শতাংশ শুল্ক চাপানোর হুমকি দিয়েছিলেন অপারেশন সিঁদুরের সময়। ভারত অবশ্য এই সব দাবি শুরু থেকেই অস্বীকার করে এসেছে। দিল্লি স্পষ্ট ভাবে জানিয়ে দেয়, অপারেশন সিঁদুরের সময় প্রধানমন্ত্রী মোদী এবং ট্রাম্পের মধ্যে ফোনে কোনও কথাই হয়নি। ভারত স্পষ্ট জানায়, বিদেশমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে ভারত নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছিল অন্য দেশগুলির কাছে। কারও কথায় ভারত যুদ্ধ থামায়নি। ভারতের স্পষ্ট বক্তব্য, ১০ মে ভারতের মার খেয়ে নাজেহাল দশা হয় পাকিস্তানের। এরপর ভাতরের ডিজিএমও-র কাছে সংঘর্ষবিরতির আবেদন জানিয়েছিল পাকিস্তান। তাতে সাড়া দিয়ে ভারত সংঘর্ষবিরতিতে সম্মত হয়। এতে তৃতীয় কোনও দেশের হস্তক্ষেপ নেই।