কলকাতা, হাওড়া-সহ সংলগ্ন এলাকার রাস্তায় গাড়ির চাপ ক্রমশ বাড়ছে। যানজটের কারণে নাভিঃশ্বাস উঠছে সাধারণ মানুষের। বিকল্প হিসেবে জলপথ পরিবহণের উপরে জোর দেওয়া হচ্ছে। আর সেই লক্ষ্যেই এবার গঙ্গার পাড়ে অত্যাধুনিক প্যাসেঞ্জার টার্মিনাল তৈরির পরিকল্পনা করছে রাজ্য সরকার। সূত্রের খবর, প্রাথমিকভাবে ওই অত্যাধুনিক প্যাসেঞ্জার টার্মিনালের খরচ ধরা হয়েছে ৪২.৬ কোটি টাকা। সেজন্য ইতিমধ্যে টেন্ডার ডাকার প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গিয়েছে। তারপর নিয়ম মেনে টার্মিনাল নির্মাণের বরাত দেওয়া হবে। পুরো বিষয়টি তদারকি করা হবে পশ্চিমবঙ্গ পরিবহণ পরিকাঠামো উন্নয়ন কর্পোরেশন লিমিটেড তরফে। তবে ঠিক কোথায় সেই প্যাসেঞ্জার টার্মিনাল তৈরি করা হবে, তা নির্দিষ্টভাবে জানানো হয়নি। কলকাতা মেট্রোপলিটন এলাকার আওতাভুক্ত হুগলি নদীর তীরে সেই প্যাসেঞ্জার টার্মিনাল তৈরি করা হবে বলে সূত্রের খবর।
প্রস্তাবিত প্যাসেঞ্জার টার্মিনালে কী কী থাকবে?
সূত্রের খবর, সাধারণত কলকাতা বা হাওড়ায় যেরকম ফেরিঘাট আছে, তার থেকে অনেক আধুনিক হবে প্রস্তাবিত প্যাসেঞ্জার টার্মিনাল। যাত্রীদের ওঠানামার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা থাকবে। প্রচুর যাত্রী এলেও যাতে হুড়োহুড়ি না হয়, সেজন্য বাড়তি নজর দেওয়া হবে। থাকবে বিশেষ টিকিট কাউন্টার। লঞ্চ বা ফেরির জন্য যাত্রীরা যাতে অপেক্ষা করতে পারেন, সেজন্য বড়সড় ওয়েটিং এরিয়া তৈরি করা হবে। সবমিলিয়ে একেবারে অত্যাধুনিক প্যাসেঞ্জার টার্মিনাল তৈরি করা হবে বলে সূত্রের খবর।
জলপথ পরিবহণের উপরে জোর দিচ্ছে রাজ্য সরকার
সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, বর্তমানে কলকাতা, হাওড়া-সহ সংলগ্ন এলাকায় গাড়ির চাপ মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। সঙ্গে যুক্ত হয়েছে মিটিং-মিছিল। তার জেরে দীর্ঘক্ষণ যানজটে ফেঁসে থাকতে হয় মানুষকে। সেই সমস্যা থেকে মুক্ত করতে জলপথ পরিবহণের উপরে জোর দিচ্ছে রাজ্য সরকার। সেজন্য টার্মিনাল, জেটি-সহ বিভিন্ন পরিকাঠামো ঢেলে সাজানো হচ্ছে।

আগামিদিনে পরিবহণের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হয়ে উঠবে জলপথ
রাজ্য পরিবহণ দফতরের কর্তাদের বক্তব্য, জলপথ পরিবহণে যেমন খরচ কম হয়, তেমন পরিবেশ দূষণও নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। ফলে আগামিদিনে পরিবহণের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হয়ে উঠবে জলপথ। সেই পরিস্থিতিতে ভবিষ্যতের তাকিয়ে জলপথ পরিবহণের ক্ষেত্রে রাজ্য সরকার অগ্রাধিকার দিচ্ছে। সেইসঙ্গে আধিকারিকরা জানিয়েছেন যে যাতায়াতের করিডর হিসেবে হুগলি নদীকে ভালোভাবে ব্যবহার করার জন্য দীর্ঘদিন ধরেই উদ্যোগ নিচ্ছে রাজ্য সরকার। সেই উদ্যোগের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই হুগলি নদীর তীরে অত্যাধুনিক প্যাসেঞ্জার টার্মিনাল তৈরি করা হচ্ছে।