RRB Railways Recruitment 2026।প্রমোশনের শূন্যপদে সরাসরি নতুনদের চাকরি দেবে রেল! কোন কোন পদে?

Spread the love

ভারতীয় রেলের চাকরিতে আগ্রহী লাখ-লাখ চাকরিপ্রার্থীর জন্য এক দারুণ সুখবর সামনে এসেছে। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বড়সড় পরিবর্তন আনতে চলেছে রেলওয়ে রিক্রুটমেন্ট বোর্ড (আরআরবি)। সাম্প্রতিক এক নির্দেশিকা অনুযায়ী, রেলের বিভিন্ন বিভাগে পদোন্নতির মাধ্যমে যে পদগুলো পূরণ হওয়ার কথা থাকলেও উপযুক্ত প্রার্থীর অভাবে বছরের পর বছর খালি পড়ে আছে, সেগুলিতে এবার সরাসরি নিয়োগ করা হবে। মূলত লেভেল-৬ এবং লেভেল-৭ ক্যাটেগরির উচ্চপদস্থ পদগুলোর জন্যই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

কী কারণে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হল?

​রেলে সাধারণত দু’রকমভাবে কর্মী নিয়োগ করা হয় – একটি সরাসরি প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মাধ্যমে এবং অন্যটি বিভাগীয় পদোন্নতির মাধ্যমে। দীর্ঘ সময় ধরে দেখা যাচ্ছিল যে, রেলের অনেক বিভাগে উচ্চতর পদের জন্য প্রয়োজনীয় যোগ্যতা বা অভিজ্ঞতা সম্পন্ন কর্মী বিভাগীয় স্তরে পাওয়া যাচ্ছে না। এর ফলে কয়েক হাজার গুরুত্বপূর্ণ পদ শূন্য পড়ে রয়েছে, যা রেলের দৈনন্দিন পরিচালনায় প্রভাব ফেলছে। এই অচলাবস্থা কাটাতেই রেলওয়ে বোর্ড সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, পদোন্নতি কোটার এই ‘ব্যাকলগ’ শূন্যপদগুলো এখন থেকে সাধারণ চাকরিপ্রার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে।

​কোন কোন পদে নিয়োগের সম্ভাবনা?

রেল সূত্রে খবর, মূলত নন-টেকনিক্যাল পপুলার ক্যাটেগরি (এনটিপিসি) এবং কিছু টেকনিক্যাল বিভাগের লেভেল-৬ ও লেভেল-৭ পদে এই নিয়োগ প্রক্রিয়া চালানো হবে।

১) কমার্শিয়াল অ্যাপ্রেন্টিস

২) স্টেশন মাস্টার

৩) চিফ কমার্শিয়াল কাম টিকিট ক্লার্ক

৪) সিনিয়র সেকশন ইঞ্জিনিয়ার (কয়েকটি ক্ষেত্রে)

সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, ​এই পদগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর বেতন কাঠামোও বেশ আকর্ষণীয়। সরাসরি নিয়োগের ফলে নতুন প্রজন্মের মেধাবী চাকরিপ্রার্থীরা সরাসরি রেলের উচ্চপদস্থ অফিসার স্তরে কাজ করার সুযোগ পাবেন।

রেলে নিয়োগের ​যোগ্যতামান ও পরীক্ষা পদ্ধতি

রেলওয়ে বোর্ডের এই সিদ্ধান্তের ফলে আসন্ন RRB NTPC এবং অন্যান্য বিজ্ঞপ্তিতে শূন্যপদের সংখ্যা কয়েক গুণ বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। লেভেল-৬ ও ৭ পদের জন্য সাধারণত স্নাতক পাশ হওয়া বাধ্যতামূলক। কয়েকটি কারিগরি পদের জন্য ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রি বা ডিপ্লোমা প্রয়োজন হতে পারে। নিয়োগ প্রক্রিয়াটি হবে মূলত কম্পিউটার ভিত্তিক পরীক্ষা (CBT), টাইপিং টেস্ট (প্রয়োজনানুসারে) এবং নথিপত্র যাচাইয়ের মাধ্যমে।

রেলে চাকরির ক্ষেত্রে নয়া সুযোগ প্রার্থীদের সামনে

গত কয়েক বছরে রেলে নিয়োগের গতি নিয়ে চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে কিছুটা ক্ষোভ ছিল। তবে সম্প্রতি রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব ঘোষণা করেছিলেন যে, এখন থেকে প্রতি বছর নিয়মিত রেলের নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। পদোন্নতি কোটার পদগুলো সাধারণ প্রার্থীদের জন্য ছেড়ে দেওয়ার এই সিদ্ধান্ত প্রমাণ করে যে রেল প্রশাসন দ্রুত শূন্যপদ পূরণে বদ্ধপরিকর। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গ-সহ সারা ভারতের কয়েক কোটি আবেদনকারী যারা স্টেশন মাস্টার বা কমার্শিয়াল অ্যাপ্রেন্টিস হওয়ার স্বপ্ন দেখেন, তাদের জন্য এটি একটি সুবর্ণ সুযোগ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *