নথি যদি থাকে, তাহলে ভালো ব্যাপার। যদি নথি দেখাতে না পারেন, তাতেও সমস্যা নেই। যৌনকর্মী, আশ্রমের বাসিন্দা, বিশেষ আদিবাসী গোষ্ঠী-সহ অন্যান্য ‘দুর্বল ও প্রান্তিক’ মানুষদের ক্ষেত্রে এরকমই ছাড় দিল নির্বাচন কমিশন। সেইসঙ্গে কমিশনের তরফে রীতিমতো কড়া নির্দেশ দিয়ে বলা হয়েছে যে ৮৫ বছরের ঊর্ধ্বে কোনও ভোটারকে যদি এসআইআরের (ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সমীক্ষা) শুনানিতে দেখা যায়, তাহলে বুথ লেভেল অফিসারদের (বিএলও) বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করা হবে। সেক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিএলও এবং সুপারভাইজারের থেকে জবাবদিহি চাওয়া হতে পারে বলে সূত্রের খবর।
এমনিতে বুধবার দিল্লিতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারদের সঙ্গে সাক্ষাতের পরে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘এসব ভুল কংগ্রেস করেছে। দিল্লিতে আপ (আম আদমি পার্টি) ধরতে পারেনি। বিহারে আরজেডি-কংগ্রেস ধরতে পারেনি। সেজন্য বিজেপির স্ট্রাইক রেট ছিল ৮০ শতাংশ। ভোটচুরি ইভিএমে হচ্ছে না। ভোটার তালিকায় চুরি হচ্ছে। এখানে হচ্ছে। এই বিষয়টা কোনও রাজনৈতিক দলই ধরতে পারছে না। যদি ধরতে পারত, তাহলে বিজেপি জিতত না।’
সেইসঙ্গে বিরোধীদের পরামর্শ দিয়ে অভিষেক বলেন যে তৃণমূলের মতো অন্যান্য দলগুলিকে লড়তে হবে। শুধু অভিযোগ করলেই হবে না। মাঠে নেমে লড়াই করতে হবে। তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা মাঠে নেমে লড়াই করেছেন। শুধু টিভিতে জ্ঞান দিয়ে বা সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে কোনও লাভ হবে না। তৃণমূল লড়াই করেছে বলেই ভোটচুরির বিষয়টা ধরতে পেরেছে বলে দাবি করেন অভিষেক।
তিনি দাবি করেন, পশ্চিমবঙ্গে খসড়া ভোটার তালিকা প্রায় ৫৮ লাখ নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু ঘণ্টাখানেকে কোন জাদুবলে ডিসক্রিপ্যান্সি তালিকায় ১.৩ লাখ ভোটারের নাম খুঁজে পেল কমিশন? মুখ্য নির্বাচন কমিশনারদের হাতে তো কোনও জাদুকাঠি নেই? আর সেই পুরো কারচুপি সফটওয়্যারের মাধ্যমে করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক।

তারইমধ্যে অভিষেক জানিয়েছেন যে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে আড়াই ঘণ্টার বৈঠকে ১০টি বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। কিন্তু দুই থেকে তিনটি বিষয় ছাড়া কোনও ব্যাপারে স্পষ্ট উত্তর দিতে পারেনি। পাশাপাশি এসআইআরের শুনানিতে কেন বিএল২ থাকবে না, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। আর যদি বিএলএ২-কে থাকতে না দেওয়া হয়, তাহলে সার্কুলার জারি করতে বলেছে তৃণমূলের প্রতিনিধি দল।