রাজ্যজুড়ে এসআইআর-এর শুনানি চলছে। বিভিন্ন ব্লক প্রশাসনের দফতরে শুনানিতে হাজির হচ্ছেন বহু মানুষ। সেই শুনানির কাজ পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে রাজ্যের বিভিন্ন ব্লকের বিডিওরা। কিন্তু সেই এসআইআর শুনানিতেই এবার ডাক পড়ল খোদ বিডিওর। লাইনে দাঁড়িয়ে তিনি পেশ করলেন নথি। শুধু বিডিওই নন, শুনানিতে ডাকা হয়েছে তাঁর গোটা পরিবারকে। এমনই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই শোরগোল পড়ে গিয়েছে কালিম্পং জেলার লাভা ব্লকে।
জানা গেছে, ঘটনাটি ঘটেছে ডুয়ার্সের মেটেলি ব্লক প্রশাসনের দফতরে। বর্তমানে কালিম্পং জেলার লাভা ব্লক প্রশাসনের বিডিও হিসাবে কর্মরত রয়েছেন ভারতী চিক বারাইক। তাঁর বাড়ি, হাসপাতাল পাড়ায় এলাকায়। অভিযোগ, ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নাম না থাকায় এসআইআর শুনানিতে ডাকা হয়েছে বিডিও ভারতী চিক বারাইক-সহ তাঁর বাবা কপিল চিক বারাইক, বোন আরতি চিক বারাইক ও ভাই প্রণব চিক বারাইককে। ইতিমধ্যেই বিডিও ভারতী চিক বারাইক সাধারণ মানুষের সঙ্গে একই লাইনে দাঁড়িয়ে শুনানিতে অংশ নিতে দেখা গিয়েছে। সোমবারই শুনানিতে হাজির হয়েছেন তাঁর পরিবারের বাকি তিন সদস্য। এই ঘটনাকে ঘিরে প্রশাসনিক মহলের পাশাপাশি রাজনৈতিক মহলেও তীব্র বিতর্ক চলছে। এখন সকলের নজর এসআইআর শুনানির চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকে।
অন্যদিকে, ভোটার তালিকায় নাম না থাকাকে কেন্দ্র করে বিরোধীদের তরফে বিদেশি নাগরিকত্বের অভিযোগ তোলা হয়েছে। বিরোধীদের দাবি, বিডিওর বাবা ও মা ভুটানের নাগরিক ছিলেন, সেই কারণেই ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় তাঁদের নাম ছিল না। এই অভিযোগ ঘিরেই উঠছে একাধিক প্রশ্ন। একজন ভুটানের নাগরিকের পরিবারের সদস্য কীভাবে ভারতের প্রশাসনিক পদে নিযুক্ত হলেন? তাও আবার এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট পদে তা নিয়েই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে জোর আলোচনা। তবে এই সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে বিডিওর পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাঁরা ভারতীয় নাগরিক। বহু বছর ধরেই তাঁরা মালবাজার মহকুমার জুরন্তি চা বাগানের বাসিন্দা। পরিবার সূত্রে দাবি, ১৯৯৯ সালে মেটেলি হাসপাতাল পাড়া এলাকায় জমি কিনে বাড়ি তৈরি করেন তাঁরা এবং ২০০৪ সালে তাঁদের নাম ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়। তার আগে একাধিকবার ভোটার তালিকায় নাম তোলার চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি।

বিডিওর ভাই প্রণব বলেন, ‘আমরা ভারতীয়, এখানকার বাসিন্দা। এর আগে আমাদের বাড়ি ছিল জুরন্তি চা বাগানে। ১৯৯৯ সালে মেটলি হাসপাতাল পাড়ায় জায়গা কিনে বাড়ি বানিয়েছি আমরা। তারপরে ভোটার লিস্টে নাম উঠেছে। এর আগে বহুবার চেষ্টা করেও ভোটার লিস্টে নাম তুলতে পারিনি। তাছাড়া বাবা ভুটানে সিমেন্ট কারখানায় কর্মরত ছিলেন, এই কারণেও তখন নাম তুলতে পারেননি। আমাদের যাবতীয় কাগজপত্র ও প্রমাণপত্র রয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, লাভা ব্লকের আগে ভারতী চিক বারাইক আলিপুরদুয়ার,কোচবিহার এবং নাগরাকাটায় কর্মরত ছিলেন। অন্যদিকে, এই ঘটনায় বিডিওকে পরোক্ষে ভুটানের নাগরিক বলে কটাক্ষ করেছে বিজেপি। দলের জলপাইগুড়ি জেলা সাধারণ সম্পাদক চন্দন দত্ত বলেন, ‘এসআইআর না হলে এত কিছু ধরা পড়ত না। অনেক আধিকারিক এবং বিডিও অন্য দেশ থেকে এসে এখানে চাকরি করছেন। লাভার যে বিডিওকে শুনানিতে ডাকা হয়েছে, তাঁর বাবার নাম ২০০২-এর ভোটার লিস্টে ছিল না। তাঁর নিজের নামও ২০০২-এর লিস্টে নেই। একজন বিডিওকে হিয়ারিংয়ে ডেকে নির্বাচন কমিশন বার্তা দিয়েছে যে, কোনও পক্ষপাতিত্ব করা হচ্ছে না।’ এদিকে, তৃণমূলের জেলা সাধারণ সম্পাদক রাজেশ কুমার সিং বিজেপি এবং নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে নাগরিকদের হেনস্থার অভিযোগ তুলেছেন।