SIR Hearing Notice to Joy Goswami। ‘রবীন্দ্রনাথ বেঁচে থাকলে, তাঁকেও ডাকা হত’

Spread the love

এসআইআর শুনানিতে এবার ডাক পেয়েছেন কবি জয় গোস্বামী এবং তাঁর মেয়ে। এই নিয়ে শুরু হয়েছে চর্চা। রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০০২ সালের এসআইআর-এ নাম থাকলেও তাতে কিছু অসঙ্গতি রয়েছে। এই কারণেই বিশিষ্ট কবি এবং তাঁর মেয়েকে ডাকা হয়েছে। জানা গিয়েছে, আগামী ২ জানুয়ারি এসআইআর শুনানির জন্য হাজিরা দিতে বলা হয়েছে তাঁকে। এদিকে জয় গোস্বামীকে এসআইআর শুনানিতে ডাকার বিষয়ে কটাক্ষ করেন রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু। তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয়, রবীন্দ্রনাথ বেঁচে থাকলে, তাঁকেও এসআইআরের লাইনে দাঁড়াতে হত’।

ব্রাত্য বসু বলেন, ‘বিজেপি বাংলা ও বাঙালি সংস্কৃতিকে কী চোখে দেখে, তা বোঝা যাচ্ছে এই ঘটনাতেই। জয় গোস্বামীকে যদি এসআইআরের শুনানিতে ডাকা হয়, আমার মনে হয় বেঁচে থাকলে রবীন্দ্রনাথকেও ওরা এসআইআরের লাইনে দাঁড় করাত। এটাই হল বাংলা ও বাঙালি সম্পর্কে বিজেপির দৃষ্টিভঙ্গি। জয়দা এই দেশের। উনি রানাঘাট থেকে কলকাতা এসেছেন প্রায় ৪০ বছর হয়ে গিয়েছে। বছরের পর বছর ভোট দিয়েছেন। নির্বাচন কমিশন যদি এটা করতে পারে, বিজেপি যদি এটা করতে পারে, তাহলে বুঝুন বাংলার যেকোনও মানুষকেই তারা লাইনে দাঁড় করিয়ে দিতে পারে।’

এদিকে ইতিমধ্যেই রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় এসআইআরের শুনানি নোটিশ পাওয়ার পর তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার এবং বাংলার মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়ালকে দায়ী করে পুলিশে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। টাইমস অফ ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পুরুলিয়ায় ৮২ বছর বয়সি দুর্জন মাঝিকে সোমবার শুনানির জন্য তলব করা হয়েছিল। তাঁর ছেলে কানাই মাঝি অভিযোগ করেছেন যে তার বাবার নাম ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় ছিল তবে নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে আপলোড করা ২০০২ সালের তালিতায় বাবার নাম অনুপস্থিত ছিল। এই যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে তাদের কাছে নোটিশ পাঠানো হয়েছিল। নাগরিকত্ব ও ভোটাধিকার নিয়ে সংকট দেখে এতটাই বিচলিত হয়ে পড়েন যে শুনানির কয়েক ঘণ্টা আগে তিনি ট্রেনের সামনে ঝাঁপ দেন। এছাড়া হাওড়ায় ৬৪ বছর বয়সি জামায়াত আলি শেখ সোমবার নোটিশ পাওয়ার পরপরই মারা যান। তাঁর ছেলেও অভিযোগ করেন, সিইসি ও সিইও ক্ষমতার অপব্যবহার করে বাবাকে মানসিকভাবে নির্যাতন করেছেন, তাই তাঁর মৃত্যু হয়। এদিকে ৭৫ বছর বয়সি বিমল শিকের মৃত্যু হয় পূর্ব মেদিনীপুরে তাঁর বাড়িতেই। তাঁর মৃতদেহ ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। পরিবারের মতে, শুনানির নোটিশ পাওয়ার পর তারা খুব নার্ভাস এবং গভীর চাপের মধ্যে ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *