SIR Hearing Notice to Kanti Ganguly। এসআইআর শুনানির নোটিশ কান্তিকে

Spread the love

এসআইআর শুনানির জন্য ডাকা হল রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী কান্তি গঙ্গোপাধ্যায়কে। আগামী ২ জানুয়ারি তাঁকে হাজিরা দিতে বলা হয়েছে। বাম জমানায় ১০ বছর মন্ত্রী থাকা কান্তি অবশ্য শুনানির নোটিশ হাতে পেয়ে ‘অবাক’। মথুরাপুর ২-এর বিডিও অফিসে ২ জানুয়ারি বেলা ১২টা থেকে আড়াইটের মধ্যে যেতে বলা হয়েছে কান্তিকে। এদিকে শুনানির নোটিশ পাওয়ার নির্বাচন কমিশনকে পালটা চিঠি দিয়েছেন বাম নেতা।

উল্লেখ্য, কান্তি গঙ্গোপাধ্যায়ের বয়স ৮২ বছর। এদিকে গত ২৭ ডিসেম্বর এক বিজ্ঞপ্তি জারি করে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছিল, ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় যাদের রেকর্ড রয়েছে কিন্তু অনলাইন ডেটাবেসে প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে তা দেখা যাচ্ছে না, তাগের শুনানিতে হাজির হওয়ার প্রয়োজন নেই। তা সত্ত্বেও অনেক জেলায় প্রবীণদের নোটিশ পাঠানো হয়েছে। যার জেরে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, প্রযুক্তিগত ত্রুটির জন্য এভাবে বয়স্কদের ‘শাস্তি’ দেওয়া মানবাধিকার লঙ্ঘন। তবে সম্প্রতি নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ৮৫ বছর বা তার বেশি বয়সি এবং প্রতিবন্ধী ভোটারদের আর শুনানি কেন্দ্রে যেতে হবে না। এই ভোটারদের বাড়িতে গিয়ে শুনানি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।

এদিকে ইতিমধ্যেই রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় এসআইআরের শুনানি নোটিশ পাওয়ার পর তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার এবং বাংলার মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়ালকে দায়ী করে পুলিশে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। টাইমস অফ ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পুরুলিয়ায় ৮২ বছর বয়সি দুর্জন মাঝিকে সোমবার শুনানির জন্য তলব করা হয়েছিল। তাঁর ছেলে কানাই মাঝি অভিযোগ করেছেন যে তার বাবার নাম ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় ছিল তবে নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে আপলোড করা ২০০২ সালের তালিতায় বাবার নাম অনুপস্থিত ছিল। এই যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে তাদের কাছে নোটিশ পাঠানো হয়েছিল। নাগরিকত্ব ও ভোটাধিকার নিয়ে সংকট দেখে এতটাই বিচলিত হয়ে পড়েন যে শুনানির কয়েক ঘণ্টা আগে তিনি ট্রেনের সামনে ঝাঁপ দেন। এছাড়া হাওড়ায় ৬৪ বছর বয়সি জামায়াত আলি শেখ সোমবার নোটিশ পাওয়ার পরপরই মারা যান। তাঁর ছেলেও অভিযোগ করেন, সিইসি ও সিইও ক্ষমতার অপব্যবহার করে বাবাকে মানসিকভাবে নির্যাতন করেছেন, তাই তাঁর মৃত্যু হয়। এদিকে ৭৫ বছর বয়সি বিমল শিকের মৃত্যু হয় পূর্ব মেদিনীপুরে তাঁর বাড়িতেই। তাঁর মৃতদেহ ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। পরিবারের মতে, শুনানির নোটিশ পাওয়ার পর তারা খুব নার্ভাস এবং গভীর চাপের মধ্যে ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *