‘T20 বিশ্বকাপ খেলতে যাওয়া নিয়ে পাকিস্তানের পরিকল্পনা ফাঁস’

Spread the love

মাঠের লড়াই শুরুর আগেই মাঠের বাইরের রাজনীতিতে উত্তাল বিশ্ব ক্রিকেট। টি-২০ বিশ্বকাপে ভারতের বিরুদ্ধে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)-এর ম্যাচ বয়কটের যে জল্পনা চলছিল তা অনেটাই কমেছে। কারণ, পাকিস্তান বিশ্বকাপের প্রস্তুতি জোরকদমে শুরু করেছে এবং টুর্নামেন্ট শুরুর প্রায় এক সপ্তাহ আগে কলম্বো যাওয়ার টিকিটও কেটে ফেলেছে। আগামী ২ ফেব্রুয়ারি শ্রীলঙ্কার উদ্দেশে এয়ার লঙ্কার বিমানে পাকিস্তান দলের রওনা দেওয়ার সম্ভাবনার কথাও উঠে এসেছে, যেখানে অস্ট্রেলিয়া দলও একই ফ্লাইটে থাকতে পারে বলে জানা যাচ্ছে।

বাংলাদেশে অনুষ্ঠিতব্য টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভেন্যু জটিলতাকে কেন্দ্র করে টুর্নামেন্ট বয়কটের ইঙ্গিত দিয়েছিল পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে পাকিস্তান টুর্নামেন্ট থেকে পুরোপুরি সরে যাবে, এমন সম্ভাবনা খুবই কম। যদিও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এবং সেই সংক্রান্ত সরকারি বিবৃতি এখনও আসেনি, তবু সেই ঘোষণা পাকিস্তান ক্রিকেটের ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। তবে শ্রীলঙ্কা ভ্রমণের প্রস্তুতির ইঙ্গিত থাকলেও পাকিস্তানের অবস্থান নিয়ে ধোঁয়াশা পুরোপুরি কাটেনি। এমন কী পিসিবি-র একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তি প্রথমে ফাঁস হয়ে যাওয়ার পর আবার প্রকাশ করা হলেও, তাতে সফর সংক্রান্ত অনুচ্ছেদটি মুছে ফেলা হয়। এতে জল্পনা আরও বেড়েছে। পাকিস্তানের কয়েকজন সাংবাদিকও এই ঘটনা নিয়ে এক্স-এ পোস্ট করেছেন। রেভস্পোর্টজের প্রতিবেদন অনুসারে, এই অনিশ্চয়তা এমন সময়ে ক্রিকেটকে আরও অস্থির করে তুলতে পারে, যখন ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ভারত ও শ্রীলঙ্কায় বিশ্বকাপ শুরু হতে চলেছে।

এই টানাপোড়েনের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের চেয়ারম্যান মহসিন নকভি। এই বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে আলোচনা করেছেন তিনি। বৈঠকে নকভি স্পষ্ট করে জানান, তাঁর প্রধান লক্ষ্য পাকিস্তান ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত রাখা এবং দলকে দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীল অবস্থানে পৌঁছে দেওয়া। পাশাপাশি তিনি এটাও বলেন, আইসিসি এবং তার সদস্য বোর্ডগুলির সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা পাকিস্তানের জন্য অত্যন্ত জরুরি। এই বিতর্কের মূলে রয়েছে বাংলাদেশের একটি দাবি। মোস্তাফিজুর রহমানের আইপিএল থেকে অব্যাহতি এবং অন্যান্য ইস্যু মিলিয়ে বাংলাদেশ ভারতের ভেন্যু পরিবর্তনের অনুরোধ জানিয়েছিল আইসিসিকে। কিন্তু বিশ্ব ক্রিকেটের সর্বোচ্চ সংস্থা সেই অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করায় শেষ পর্যন্ত টুর্নামেন্ট থেকে নাম সরিয়ে নেয় বাংলাদেশ (যাদের স্থলাভিষিক্ত হয়েছে স্কটল্যান্ড)। এই ঘটনার পর থেকেই পুরো বিষয়টির মূল আলোচনায় চলে আসে পাকিস্তানের অবস্থান। টুর্নামেন্ট শুরু হতে আর মাত্র এক সপ্তাহের মতো সময় বাকি। এই অবস্থায় পাকিস্তান যদি কোনও বড় বা চরম সিদ্ধান্ত নেয়, তা হলে তা বিশ্বকাপের আয়োজক দেশগুলির পরিকল্পনায় বড় সমস্যা তৈরি করতে পারে। সেই কারণেই গোটা ক্রিকেট বিশ্ব পাকিস্তানের সিদ্ধান্তের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে।

এই আবহে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠছে ম্যাচের ধারাবাহিকতা নিয়ে। যদি কঠোর অবস্থান শুধু একটি দলের বিরুদ্ধেই নেওয়া হয়, তাহলে নকআউট পর্বে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ এলে কী হবে? আবার এই অবস্থান যদি নীতিগত হয়, তাহলে কী তা শুধু সিনিয়র দলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে? এই প্রসঙ্গে ১ ফেব্রুয়ারি জিম্বাবোয়েতে অনুষ্ঠিত হতে চলা ভারত-পাকিস্তান অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ম্যাচের কথাও উঠে আসছে। সব মিলিয়ে, পাকিস্তান ক্রিকেটের সামনে ঝুঁকি অনেক বড়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *