গঙ্গাসাগর মেলায় নজরদারির জন্য ইসরোর তৈরি প্রযুক্তি ব্যবহার করবে রাজ্য সরকার। দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা প্রশাসনের সূত্র উদ্ধৃত করে সংবাদমাধ্যম দ্য টাইমস অফ ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, এবার গঙ্গাসাগর মেলায় এক কোটির বেশি পুণ্যার্থী আসতে পারেন বলে অনুমান করা হচ্ছে। এত সংখ্যক মানুষের ভিড় সামলাতে, পুরো মেলা মসৃণভাবে আয়োজন করার জন্য ভারতীয় মহাকাশ সংস্থা ইসরোর ‘নেভি সি’ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে। মোট সাতটি স্যাটেলাইট এবং একাধিক কেন্দ্রের নেটওয়ার্কের হাত ধরে সেই প্রযুক্তির মাধ্যমে একেবারে সময় ধরে নিখুঁত যে তথ্য পাওয়া যায়, সেটা কাজে লাগিয়ে ভিড় নিয়ন্ত্রণ করবে প্রশাসন। কোথাও কতটা ভিড় হয়েছে, কোথায় কী অবস্থা, সেই সংক্রান্ত একেবারে টাটকা তথ্য দেবে ইসরোর প্রযুক্তি। আর সেই তথ্য কাজে লাগিয়ে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেবে প্রশাসন।
সিসিটিভি, অত্যাধুনিক ড্রোন থাকছে গঙ্গাসাগর মেলায়
তাছাড়াও সুষ্ঠুভাবে গঙ্গাসাগর মেলা আয়োজনের জন্য ১,২০০-র বেশি সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। ড্রোনের মাধ্যমে চালানো হবে নজরদারি। ব্যবহার করা হবে থার্মাল-ইমেজিং ড্রোন। পুণ্যার্থীদের ভিড় সামলানো এবং স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সহায়তার জন্য ১০,০০০-র বেশি স্বেচ্ছাসেবক মোতায়েন করা হচ্ছে। মোতায়েন করা হচ্ছে সিভিল ডিফেন্সের ২,৫০০ স্বেচ্ছাসেবক, কুইক রেসপন্স টিম (কিউআরটি), জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (এনডিআরএফ), রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী। পুণ্যার্থীদের যাতায়াতের জন্য ৫৪ কিলোমিটারের মতো অংশ ব্যারিকেড করে দেওয়া হয়েছে।
লঞ্চ, বাস, বার্জ, ভেসেল- প্রস্তুত আছে সব
আর পুণ্যার্থীরা যাতে সহজেই গঙ্গাসাগর মেলায় পৌঁছাতে পারেন, সেজন্যও রাজ্য সরকারের তরফে ব্যবস্থা করা হয়েছে। সূত্রের খবর, গঙ্গাসাগর মেলার জন্য মোট ২১টি জেটি চালু রাখা হবে। আট নম্বর লট এবং নামখানায় ১০০টি লঞ্চ, ৪৫টি ভেসেল এবং ১৩টি বার্জ থাকছে। গাড়ির চাপ সামলাতে বাবুঘাট থেকে সাগর পর্যন্ত ১৬টি বাফার জোন তৈরি করা হয়েছে। হাওড়া এবং কলকাতা থেকে আট নম্বর ও কচুবেড়িয়া পর্যন্ত যাওয়া এবং আসার জন্য একটি টিকিট থাকবে। বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ২,৫০০-র বেশি বাস যাবে গঙ্গাসাগরের পুণ্যার্থীদের নিয়ে।

১২৬টি স্পেশাল ট্রেন চালাবে রেল
তাছাড়াও রেলের তরফেও গঙ্গাসাগর মেলার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পূর্ব রেলের তরফে জানানো হয়েছে, গত বছর ৭২টি স্পেশাল ট্রেন চালানো হয়েছিল। বিধানসভা নির্বাচনের বছরে সেই সংখ্যাটা বাড়িয়ে ১২৬টি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে মেলা শুরু হওয়ার পরে শুক্রবার থেকে স্পেশাল ট্রেনের পরিষেবা চালু হবে। চলবে আগামী ১৬ জানুয়ারি পর্যন্ত। অতীতে রাত ১২ টা থেকে ভোর চারটে পর্যন্ত সাধারণত শিয়ালদা থেকে নামখানা এবং শিয়ালদা থেকে কাকদ্বীপ পর্যন্ত ট্রেন চালানো হত না। এবার সেই ব্যবস্থাও থাকছে।