দেরাদুনের সেলাকুই এলাকায় ত্রিপুরার অ্যাঞ্জেল চাকমা বর্ণবিদ্বেষের শিকার হয়েছিলেন বলে দাবি করা হয়। অ্যাঞ্জেলের মৃত্যুতে বিস্তর বিতর্ক শুরু হয়েছে। চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের তদন্তে বিশেষ তদন্ত দল গঠন করলেন দেরাদুনের সিনিয়র পুলিশ সুপার অজয় সিং। একইসঙ্গে পলাতক প্রধান আসামি যজ্ঞরাজ অবস্তিকে ধরিয়ে দেওয়ার জন্য ঘোষিত পুরস্কারের পরিমাণ বৃদ্ধি করা হয়েছে। জানা গিয়েছে, এবার যজ্ঞরাজের মাথার দাম ১ লাখ টাকা ধার্য করা হয়েছে। এর আগে এই অভিযুক্তকে ধরিয়ে দিতে ২৫ হাজার টাকা পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছিল। অর্থাৎ, বর্তমানে সেই পরিমাণ ৪ গুণ করা হয়েছে।
ঘটনায় মূল অভিযুক্ত যজ্ঞরাজ অবস্তি আদতে নেপালের বাসিন্দা এবং পুলিশের সন্দেহ যে সে নেপালে পালিয়ে গেছে। নেপালকে এ ব্যাপারে সহযোগিতা করতে বলা হয়েছে। অ্যাঞ্জেল খুনের ঘটনায় এখনও পর্যন্ত পাঁচ আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অভিযুক্তদের মধ্যে দুজন নাবালক। এদিকে অভিযুক্ত সেই নেপালিকে ধরতে পুলিশের একটি দলকে নেপালে পাঠানো হয়েছে এবং অন্য দলকে হরিদ্বারে তদন্ত চালাচ্ছে। অভিযুক্ত যজ্ঞরাজ অবস্তি হরিদ্বারে পড়াশোনা করত। এই নেপালির বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য ধারায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি আছে। অভিযোগ এই যজ্ঞ অবস্তিই ছুরিকাঘাত করেছিল অ্যাঞ্জেলকে। এদিকে এই ঘটনায় ধৃত প্রাপ্তবয়স্কদের নাম হল – অবিনাশ নেগি, সুরজ খাওয়াস এবং সুমিত। যজ্ঞ অবস্তিকে গ্রেফতারের জন্য ২৫ হাজার টাকা পুরষ্কার ঘোষণা করা হয়েছে। এই ঘটনায় বিএনএসের ধারা ১০৩(১) (হত্যা) এবং ৩(৫) (সম্মিলিত অপরাধমূলক অভিপ্রায়)-এর অধীনে মামলাটি দায়ের করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ৯ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় দেরাদুনের সেলাকুই এলাকায় ঘটনাটি ঘটেছিল। ঘটনার দিন, অ্যাঞ্জেল তাঁর ছোট ভাই মাইকেলের সঙ্গে স্থানীয় বাজারে কেনাকাটা করতে গিয়েছিলেন। এরপর এই যজ্ঞ অবস্তিরা তাঁদের দুজনকে বর্ণবিদ্বেষী টিটকিরি করে। অ্যাঞ্জেলদের ‘চিনা’, ‘মোমো’ বলে অপমান করে। অ্যাঞ্জেল শান্তভাবে উত্তর দেন, ‘আমরা চিনা নই, আমরা ভারতীয়। আমাদের ভারতীয়ত্ব প্রমাণ করার জন্য কোনও শংসাপত্র দেখাতে হবে?’ কয়েক মিনিটের মধ্যে সেই তর্ক সহিংস হয়ে ওঠে এবং অভিযুক্ত যজ্ঞ অবস্তি তাঁকে ছুরি দিয়ে আঘাত করে। আক্রমণে অ্যাঞ্জেল গুরুতর আহত হন। অ্যাঞ্জেলের ঘাড় ও মেরুদণ্ডে গুরুতর আঘাত লেগেছে। মাইকেলও গুরুতর আহত হন। অ্যাঞ্জেল ১৪ দিন ধরে ভেন্টিলেটরে ছিলেন। কিন্তু এর মধ্যে তিনি আর জ্ঞান ফিরে পাননি। পরে দীর্ঘ লড়াইয়ের পর জীবন যুদ্ধে হেরে যান অ্যাঞ্জেল। গত ২৭ ডিসেম্বর তাঁর মৃতদেহ নিয়ে যাওয়া হয় আগরতলায়। উল্লেখ্য, অ্যাঞ্জেল চাকমার বাবা বিএসএফ কনস্টেবল। দেশ রক্ষা করতে সীমান্তে নিযুক্ত সেই জওয়ানের ছেলের সঙ্গেই এহেন ঘটনায় ত্রিপুরায় ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
