ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে মার্কিন সামরিক বাহিনী আটক করে নিয়ে গিয়েছে। এই আবহে ভেনেজুয়েলায় রাজনৈতিক অস্থিরতা বিরাজ করছে। এরই মধ্যে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট একটি বড় রায় দিয়েছে। ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজকে ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। আদালত বলে, দেশের সার্বভৌমত্ব ও প্রশাসনিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে এই সিদ্ধান্ত জরুরি।
কে এই ডেলসি রদ্রিগেজ? ৫৬ বছর বয়সি ডেলসি রদ্রিগেজ ভেনেজুয়েলার রাজনীতির একটি অভিজ্ঞ মুখ। তিনি একটি বিপ্লবী পরিবারের সদস্য। তাঁর বাবা জর্জ আন্তোনিও রদ্রিগেজ ছিলেন একজন বামপন্থী গেরিলা নেতা। ডেলসি গত এক দশক ধরে মাদুরো সরকারের অন্যতম বিশ্বস্ত মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করে চলেছেন। এমনকী মাদুরো তাঁর সরকারকে সমর্থন করার জন্য ডেলসিকে ‘সিংহী’ বলে অভিহিত করেছিলেন। ২০১৩ থেকে ২০১৭-এর মধ্যে তিনি তথ্য ও বিদেশ মন্ত্রকের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন। ২০১৮ সালের জুন মাদুরো তাঁকে দেশের ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসাবে নিয়োগ করেছিলেন। এহেন ডেলসি দায়িত্ব সামলেই বলে দিয়েছেন, ‘কারও দাসত্ব করব না।’ প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এবং তাঁর স্ত্রীর মুক্তির দাবি জানিয়েছেন তিনি। তিনি বলেন, ‘ভেনেজুয়েলা কোনওদিন কোনও সাম্রাজ্যের উপনিবেশ হবে না। কারও দাসত্ব করবে না। মাদুরোই আমাদের একমাত্র নেতা। অবিলম্বে তাঁকে এবং তাঁর স্ত্রীকে মুক্তি দিতে হবে।’
এদিকে মার্কিন সেনার হাতে আটক হওয়ার ১৫ ঘণ্টার পরে নিকোলাস মাদুরো নিউইয়র্কে পৌঁছলেন। রিপোর্ট অনুযায়ী, মাদক ও অস্ত্র চোরাচালানের অভিযোগে করা মামলায় ম্যানহাটনের ফেডারেল আদালতে হাজির করা হবে। উল্লেখ্য, ২০২০ সালে ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে নিউইয়র্কের সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্ট কোর্টে কোকেন পাতার ষড়যন্ত্রের একটি মমালা করা হয়েছিব। সেই মামলায় অভিযুক্ত মাদুরো। এদিকে গতকাল ট্রাম্প জানিয়ে দিয়েছেন, নিউইয়র্কেই হবে মাদুরো এবং তাঁর স্ত্রীর বিচার। এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট দাবি করেছেন, ভেনেজুয়েলার পুরো তেলের শিল্প গড়ে তুলেছিল আমেরিকাই। সেই তেল এবার বিশ্বের অন্যান্য দেশকে বিক্রি করবে আমেরিকাই।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আমরা ওই দেশটা (ভেনেজুয়েলা) চালাব, যতক্ষণ না আমরা একটি নিরাপদ, উপযুক্ত এবং ন্যায়পরায়ণ রূপান্তর সম্পন্ন করতে পারি।’ সেইসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমরা অন্য কাউকে বসিয়ে দিতে চাই না। দীর্ঘদিন ধরে যে পরিস্থিতি ছিল, সেটাই আছে। তাই আমরাই দেশ চালাতে যাচ্ছি। আমেরিকার বিশাল বড়-বড় তৈল সংস্থাগুলি ভেনেজুয়েলার শক্তিক্ষেত্রে কয়েক বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে। অত্যন্ত বাজেভাবে ভেঙে পড়া পরিকাঠামো ঠিক করবে।’ ট্রাম্পের এই সব ঘোষণার মধ্যেই ভেনেজুয়েলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রথমবার মুখ খোলে ভারত। তবে বিবৃতিতে শুধুমাত্র ভারতীয় নাগরিকদের জন্য সতর্কতা জারি করেছে নয়াদিল্লি।