নতুন বছরের প্রথম মাস শেষের মুখে। কিন্তু পঞ্চম বেতন কমিশনের আওতায় বকেয়া মহার্ঘ ভাতা (ডিয়ারনেস অ্যালোওয়েন্স বা ডিএ) মামলার রায়দান এখনও না হওয়ায় কিছুটা হতাশ হয়ে পড়েছেন পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য সরকারি কর্মচারীরা। তারইমধ্যে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের সংগঠন ইউনিটি ফোরামের আহ্বায়ক দেবপ্রসাদ হালদার দাবি করেছেন, ‘(বকেয়া) ডিএ মামলার রায় কবে, (তার) খোঁজ নিতে সুপ্রিম কোর্টে এসেছি। ইউনিটি ফোরামের আইনজীবী করুণা নন্দী জানিয়েছেন খুব শীঘ্রই জাজমেন্ট ডেলিভারি (রায় ঘোষণা) হবে।’ যদিও ‘খুব শীঘ্রই’ বলতে কতদিনের মধ্যে, সে বিষয়ে কিছু জানাননি ইউনিটি ফোরামের আহ্বায়ক।
সেপ্টেম্বরে শেষ হয়েছে বকেয়া DA মামলার শুনানি
এমনিতে সুপ্রিম কোর্টে বকেয়া ডিএ মামলার শুনানি শেষ হয়েছে গত সেপ্টেম্বরে। ২০২২ সালের নভেম্বর থেকে শীর্ষ আদালতে সেই মামলা চলেছে। একাধিকবার পিছিয়ে গিয়েছিল শুনানি। শেষপর্যন্ত সেপ্টেম্বরে ডিএ মামলার শুনানি শেষ হয়েছে। স্থগিত রাখা হয় রায়দান। আর সেই চূড়ান্ত রায়ের অপেক্ষায় আছেন পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য সরকারি কর্মচারীরা।
বকেয়া DA মামলা নিয়ে কী ভাবছে কর্মচারী সংগঠন?
বিষয়টি নিয়ে দিনকয়েক আগেই রাজ্য সরকারি কর্মচারী সংগঠন কনফেডারেশন অফ স্টেট গভর্নমেন্ট এমপ্লয়িজের আইনজীবী ফিরদৌস শামিম। দাবি করেন, কবে বকেয়া ডিএ মামলার রায়দান করা হবে, তা নিয়ে প্রতিদিন, প্রতি মুহূর্তে প্রশ্ন করা হয়। কিন্তু সেটার উত্তর নেই তাঁর কাছে। শুধু তিনি একা নন, কোন সময় ডিএ মামলার রায়দান করা হবে, তা রাজ্য সরকারি কর্মচারী সমাজের কারওই জানা নেই। এটা পুরোপুরি সুপ্রিম কোর্টের হাতে আছে। কেউ-কেউ মেনশনিংয়ের কথা বলছেন। কিন্তু এরকম ক্ষেত্রে অনেক সময় ফল হিতে-বিপরীত হয়ে যায়। তাই এই মুহূর্তে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করা ছাড়া কিছু করার সুযোগ একেবারে স্বল্প।

আর কী কী বলা হল?
কনফেডারেশনের আইনজীবী দাবি করেন, ব্যক্তিগতভাবে অবসরপ্রাপ্ত রাজ্য সরকারি কর্মচারী তথা পেনশনভোগীদের বিষয়ে বেশি উদ্বিগ্ন। কারণ অনেকেই অসুস্থ। তাঁদের বিভিন্ন ওষুধের প্রয়োজন হয়। পেনশন হিসেবে যে পরিমাণ টাকা পান, তাতে সংসার চালানো যথেষ্ট কঠিন বলে দাবি করেন কনফেডারেশনের আইনজীবী। সেইসঙ্গে তিনি দাবি করেন, ভবিষ্যতে কী পদক্ষেপ করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা করা যেতে পারে। কনফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মলয় মুখোপাধ্যায়, আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যদের সঙ্গে আলোচনা করা হতে পারে বলে জানিয়েছেন কনফেডারেশনের আইনজীবী।