পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা তুঙ্গে। চুক্তি না হলে তেহরানে বোমা হামলা চালানোর হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তবে ট্রাম্পের এমন কড়া বার্তার পরও নিজ অবস্থানে অনড় ইরান। যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালালে পাল্টা আঘাতের হুঁশিয়ারি দিয়েছে দেশটি।
সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে সরাসরি চিঠি পাঠিয়ে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন নতুন সমঝোতায় না এলে সামরিক পদক্ষেপ নেবে ওয়াশিংটন। তবে খামেনি তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেন। এবার ইরানকে ফের হুমকি দিলেন ট্রাম্প।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ইরান যদি নতুন পারমাণবিক আলোচনায় রাজি না হয় তবে সামরিক পদক্ষেপের মুখোমুখি হতে পারে দেশটি।তবে ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে পারমাণবিক আলোচনা নিয়ে বোমা হামলার হুমকি দেয়ার কয়েক ঘণ্টা পর, এর প্রতিক্রিয়ায় ‘ক্ষেপণাস্ত্র প্রস্তুত’ রাখার কথা জানায় তেহরান।
সংবাদমাধ্যম তেহরান টাইমসের মতে, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী এমন ক্ষেপণাস্ত্র প্রস্তুত করেছে যা বিশ্বজুড়ে যুক্তরাষ্ট্র-সম্পৃক্ত অবস্থানগুলোতে আঘাত করার কার্যকরী ক্ষমতা রাখে।
প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ‘এই উৎক্ষেপণ-প্রস্তুত ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর বেশিরভাগই দেশজুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা ভূগর্ভস্থ স্থাপনাগুলোতে অবস্থিত, যা বিমান হামলা মোকাবিলা করার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে।’
এছাড়া, যুক্তরাষ্ট্র বোমা হামলা চালালে তাদের জন্যও শক্তিশালী প্রতিঘাত অপেক্ষা করছে বলে হুঁশিয়ারি করেছেন ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি।বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের এই অনড় অবস্থানের পেছনে ২০১৮ সালের ট্রাম্পের নেয়া সিদ্ধান্তের প্রভাব রয়েছে। ট্রাম্প ক্ষমতায় এসে ২০১৫ সালের পরমাণু চুক্তি থেকে একতরফাভাবে যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে নেন। এরপরই ওয়াশিংটন ইরানের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে, যা দেশটির অর্থনীতিকে বিপর্যস্ত করে তোলে।