মিসাইল বাঙ্কারগুলির সবকটি লঞ্চারে ক্ষেপণাস্ত্র লোড করে বসে আছে ইরান

Spread the love

পরমাণু চুক্তি সই না কলে বোমা বর্ষণের হুমকি দিয়েছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর এরপরই নড়েচড়ে বসেছে ইরান। রিপোর্টে দাবি করা হল নিজেদের ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র শহরগুলিতে সব মিসাইল লঞ্চারে ক্ষেপণাস্ত্র লোড করে বসে আছে ইরান। এই দাবি করা হয়েছে তেহরান টাইমসের একটি রিপোর্টে। এক পোস্টে বলা হয়েছে, ‘তেহরান টাইমসের কাছে পাওয়া তথ্য ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ইরানের সব ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ভূগর্ভস্থ শহরগুলির লঞ্চারে লোড করা আছে এবং সেগুলি উৎক্ষেপণের জন্য প্রস্তুত। প্যান্ডোরার বাক্স খুলতে গেলে মার্কিন সরকার ও তার মিত্রদের চরম মূল্য দিতে হবে।’

এদিকে ইরানি কর্মকর্তারা ভূগর্ভস্থ বাঙ্কারগুলির বিশদ বিবরণ দিয়ে বেশ কয়েকটি ভিডিয়ো প্রকাশ করেছেন। তাতে দেখা গিয়েছে, খেইবার শেকান (রেঞ্জ – ৯০০ মাইল), হাজ কাসেম (রেঞ্জ – ৮৫০ মাইল), গদর-এইচ (রেঞ্জ – ১,২৪০ মাইল), সেজিল (রেঞ্জ – ১,৫৫০ মাইল) এবং ইমাদ (রেঞ্জ – ১,০৫০ মাইল)-এর মতো ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের জন্যে তৈরি। প্রসঙ্গত, প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এর আগে বলেছিলেন, দেশের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি আলোচনায় বসবে না ইরান। যদিও পরে পরোক্ষ আলোচনায় রাজি হয় ইরান। এরই মাঝে ৩০ এপ্রিল ইরানকে হুঁশিয়ারি দেন ট্রাম্প।

এনবিসি নিউজকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যদি তেহরান কোনও চুক্তি না করে, তাহলে ইরানে বোমা হামলা করা হবে। এরই সঙ্গে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি না করলে ইরানের ওপর সেকেন্ডারি শুল্ক (উল্লেখ্য, ‘সেকেন্ডারি ট্যারিফ’ বলতে বোঝায়, যে দেশের সঙ্গে আমেরিকার বিরূপ সম্পর্ক আছে, সেটির সঙ্গে যারা বাণিজ্য করে, তাদের বিরুদ্ধেও পদক্ষেপ করা হতে পারে) আরোপ করা হতে পারে। এরপর ওয়াশিংটনে ওভাল অফিসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, ‘আমি সম্প্রতি ওদের (ইরান) একটা চিঠি পাঠিয়েছি। যে কোনও একটা দিক বেছে নিতে হবে। হয় ওদের কথা বলে বিষয়টার সমাধান করতে হবে। নাহলে ইরানের সঙ্গে খুব খারাপ হবে। আমি চাই না যে ইরানের সঙ্গে খারাপ কিছু হোক। আলোচনার মাধ্যমে ইরানের সঙ্গে বিষয়টি সমাধানের উপরে জোর দিচ্ছি আমরা। কিন্তু সেটা না হলে ইরানের সঙ্গে খুব খারাপ হবে।’

এর আগে প্রেসিডেন্ট হিসেবে প্রথম মেয়াদে ইরানের সঙ্গে স্বাক্ষরিত পরমাণু চুক্তি থেকে আমেরিকাকে সরিয়ে নিয়েছিলেন ট্রাম্প। সেইসঙ্গে ইরানের উপরে কঠোর নিষেধাজ্ঞা চাপিয়েছিলেন। এবার অবশ্য আলোচনার পথও খুলে রেখেছেন ট্রাম্প। যদিও নিষেধাজ্ঞা চাপানো ও সামরিক ব্যবস্থার যে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ট্রাম্প, সেই শর্তে ওয়াশিংটনের সঙ্গে সরাসরি কথা বলতে রাজি নয় তেহরান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *