শিবমন্দিরে প্রবেশ করতে পারবেন তফসিলিরা

Spread the love

নদিয়ার গাজন উৎসব। এবার সেখানকার শিবমন্দিরে প্রবেশ করতে পারবেন তফসিলি সম্প্রদায়ের মানুষরা। কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে এবার তফসিলি সম্প্রদায়ের মানুষদের সেই শিবমন্দিরে গিয়ে পুজো দেওয়ার ক্ষেত্রে আর কোনও সমস্যা থাকল না। এমনকী সেই মন্দিরে  প্রবেশের ক্ষেত্রে তফসিলি সম্প্রদায়ের মানুষরা যাতে বাধা না পান সেটা নিশ্চিত করবেন নদিয়া জেলা আদালতের বিচারক। খবর শুনেই উচ্ছাস এলাকায়। 

এর আগে কাটোয়ার গীধগ্রামেও একটি শিবমন্দিরে প্রবেশের অধিকার পেয়েছিলেন দাম সম্প্রদায়ের মানুষরা। তবে পূর্ব বর্ধমানের কাটোয়ার এই জটিলতা মুক্ত করতে আদালতে যেতে হয়নি। এবার আদালতের নির্দেশে এক মুক্তির স্বাদ পেলেন নদিয়ার তফসিলি সম্প্রদায়ের মানুষরা। খুশিতে-আনন্দে উচ্ছাসে ভেসে গেল নদিয়ার বৈরামপুর। 

হাইকোর্টের বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের নির্দেশ, জেলা আদালতের বিচারক কালীগঞ্জ থানার অন্তর্গত ওই শিবমন্দিরের পরিস্থিতির দিকে নজর রাখবেন। তফসিলিরা সেই মন্দিরে প্রবেশ করে পুজো দিতে পারবেন।সেখানে যাতে কোনও বাধা প্রদান না করা হয়। এমনকী উৎসব শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রতি তিন দিন অন্তর পুলিশ সেখানকার পরিস্থিতি নিয়ে রিপোর্ট দেবে। কালীগঞ্জ থানার ওসিকে রিপোর্ট দিতে হবে। কোনওরকম পরিস্থিতি তৈরি হলে জেলা জল পুলিশ সুপারকে নির্দেশ দেবেন। 

জেলা জজ নজরদারি করবেন। জানিয়ে দিয়েছেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি। যদি কোনও পরিস্থিতি তৈরি হয় তবে পর্যাপ্ত বাহিনী বা অন্য কোনও পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য় জেলা বিচারক পুলিশ সুপারকে নির্দেশ দেবেন। এদিকে আদালতের নির্দেশে অত্যন্ত খুশি এলাকার মানুষজন। 

এদিকে আদালতের এই নির্দেশ আসার পরে বাঁধভাঙা উল্লাস শুরু হয় এলাকায়। আবির খেলে, ঢাক বাজিয়ে উল্লাস প্রকাশ করেন সাধারণ মানুষ। তবে এদিন হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ জেলা পুলিশ অনেক সময় জেলা বিচারকের কথা শোনে না। 

আদালত জানিয়েছে পুলিশকে এই উৎসবে পর্যাপ্ত সুরক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে। তফসিলিরা যাতে নির্বিঘ্নে পুজো দিতে পারেন ওই মন্দিরে তার ব্যবস্থা করতে হবে। জেলা বিচারক যদি মনে করেন তবে তিনি অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েনের নির্দেশ দিতে পারেন। 

এদিকে কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ জেলায় পৌঁছনর পরেই শুরু হয় উল্লাস। বেজে ওঠে ঢাক। আবীর খেলায় মেতে ওঠেন বাসিন্দারা। ঢাকের তালে শুরু হয় নাচ। মহিলারা বেরিয়ে পড়েন। এক অন্য় রকম আনন্দ। বাঁধ ভাঙা উল্লাস। এতদিন যে মন খারাপ ছিল তা যেন এক নিমেষে উধাও। অন্ধকার উধাও। শুরু হল আলোর দিন। 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *