বন্ধু এবার ‘খেলা হবে’। এই স্লোগান শোনা গিয়েছিল একুশের বিধানসভা নির্বাচনে। তার পর আবার তা শোনা গেল, নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে সাম্প্রতিক তৃণমূল কংগ্রেস যে সভা করল সেখান থেকে। খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বললেন, এবার খেলাটা একটু জোরে খেলতে হবে। জোরে বল মারতে হবে। তবে এগুলি রাজনীতির কথা। এই আবহে এবার রাজ্যের সব মেডিক্যাল কলেজে ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হচ্ছে। স্বাস্থ্য দফতরের আয়োজনে এবার ‘খেলা হবে’। চিকিৎসকরা স্টোথো ছেড়ে মাঠে খেলতে নামবেন। যা আগে কখনও দেখা যায়নি।
এদিকে রাজ্যের সব সরকারি মেডিক্যাল কলেজকে খেলায় যুক্ত করতে পারা একটা বড় ব্যাপার। কারণ চিকিৎসকদের চিকিৎসা করার বাইরে তেমন বিনোদনের কিছু থাকত না। ফলে কাজের ক্ষেত্রে একঘেয়েমি তৈরি হয়। এই পরিস্থিতি কাটাতেই এমন ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হচ্ছে বলে খবর। বাংলার সব সরকারি মেডিক্যাল কলেজকে নিয়ে রাজ্যস্তরের ক্রীড়া প্রতিযোগিতা করছে স্বাস্থ্যভবন। স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে খবর, এমন উদ্যোগ এই প্রথম। আরজি কর হাসপাতালের ঘটনার পর রাজ্যের এই উদ্যোগ নিঃসন্দেহে তাৎপর্যপূর্ণ।

অন্যদিকে আরজি কর হাসপাতালে তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ করে খুন করার ঘটনায় উত্তাল হয়ে উঠেছিল গোটা রাজ্য। তারপর চিকিৎসকদের নানা দাবি মেনে নিয়ে জটিল পরিস্থিতি কাটানো হয়। সবরকম সাহায্য করে রাজ্য সরকার। কলকাতা পুলিশ ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রকৃত অপরাধীকে গ্রেফতার করে। যা পরে একই দাবি করে সিবিআই। আর এই খেলা নিয়ে রাজ্যের স্বাস্থ্যসচিব নারায়ণস্বরূপ নিগম বলেন, ‘মেডিক্যাল কলেজে ক্রীড়া প্রতিযোগিতা নিয়ে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পরিকল্পনা করে দিয়েছেন। তা নিয়েই আমরা এগোচ্ছি। মেডিক্যাল কলেজগুলির সঙ্গে আলোচনা চলছে। তারপর দিনক্ষণ নির্ধারণ হবে।, ফুটবল, ক্রিকেট–সহ নানা খেলা থাকবে প্রতিযোগিতায়।’
কদিন আগে রাজ্যের সব হাসপাতালের সরকারি চিকিৎসকদের সঙ্গে মুখোমুখি দেখা করেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে চিকিৎসকদের বেতন, ভাতা বৃদ্ধি–সহ একাধিক বিষয় ঘোষণা করা হয়। এবার স্বাস্থ্য দফতর আয়োজন করছে আন্তঃমেডিক্যাল কলেজ ক্রীড়া প্রতিযোগিতা। স্বাস্থ্যসচিবের বক্তব্য, ‘পারস্পরিক যোগাযোগ বৃদ্ধি সবসময় ভাল।’ এই খেলা নিয়ে প্রস্তুতিতে মেডিক্যাল কলেজগুলির সঙ্গে ভিডিয়ো কনফারেন্স করে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কলেজগুলির ক্রীড়া পরিকাঠামো গড়ে তুলতে অর্থ বরাদ্দের কথাও বলা হয়েছে। আর তাই মেডিক্যাল কলেজগুলিকে পরিকল্পনা তৈরি করে রাজ্যে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।