নিজেরদের অভ্যন্তরীণ ব্যর্থতা থেকে নজর ঘোরানোর পুরনো কৌশল ইসলামাবাদের। বালুচিস্তানের অশান্তি নিয়ে পাকিস্তানের ‘ভিত্তিহীন’ অভিযোগ পত্রপাঠ প্রত্যাখ্যান করল ভারত। পাকিস্তানের অশান্ত দক্ষিণ-পশ্চিম প্রদেশ বালুচিস্তানে অন্তত ১২টি জায়গায় আত্মঘাতী হানা ও সেনা-বিদ্রোহী সংঘর্ষে অন্তত ১২০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ৮৩ জনই পাক নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য। পাল্টা অভিযানে নিরাপত্তা বাহিনী ৯২ জন বালুচ বিদ্রোহীকে হত্যা করেছে।
সেনা সূত্রে জানা গিয়েছে, বালুচ বিদ্রোহীরা একযোগে প্রদেশের বিভিন্ন জায়গায় হামলা চালায়। লক্ষ্যবস্তু ছিল সাধারণ মানুষ, একটি হাই সিকিউরিটি জেল, পুলিশ স্টেশন এবং আধাসামরিক বাহিনীর শিবির। এত বড় পরিসরে সমন্বিত আক্রমণ খুবই বিরল। পাকিস্তানের সেনাবাহিনী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভি দাবি করেছেন, এই হামলার পিছনে ভারতের মদত রয়েছে। এরপরেই পাকিস্তানের এই অভিযোগের তাৎক্ষণিক পাল্টা জবাব দেয় নয়া দিল্লি। যাবতীয় অভিযোগ উড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি পাকিস্তানকেও একহাত নিয়েছে বিদেশ মন্ত্রক। রবিবার এক বিবৃতিতে বিদেশ মন্ত্রকের রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ‘পাকিস্তানের এসব ভিত্তিহীন অভিযোগ আমরা দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করছি। এগুলো তাদের নিজের অভ্যন্তরীণ ব্যর্থতা থেকে নজর ঘোরানোর পুরনো কৌশল।’ তিনি আরও বলেন, ‘পাকিস্তান বরং তাদের নাগরিকদের বহুদিনের অভিযোগ ও সমস্যাগুলোর সমাধানে মন দিক। বালুচিস্তানে দীর্ঘদিন ধরে মানবাধিকার লঙ্ঘন, দমন-পীড়ন ও সেনা অভিযানের অভিযোগ রয়েছে। হামলা বা অশান্তি হলেই ভারতের নাম টেনে ভিত্তিহীন অভিযোগ করা পাকিস্তানের অভ্যাস হয়ে দাঁড়িয়েছে।’
শনিবার স্থানীয় সময় ভোররাত ৩ টে নাগাদ প্রাদেশিক রাজধানী কোয়েটা-সহ বেলুচিস্তানের আরও অন্তত ১৪টি শহরে একযোগে হামলা চালায় বেলুচ বিচ্ছিন্নতাবাদীরা। তারা কোয়েটার বেশ কয়েকটি পুলিশ স্টেশনে একযোগে হামলা চালায়। তাদের হামলায় প্রাথমিকভাবে অন্তত আট পুলিশ সদস্য নিহত হন। পরে এক বিবৃতিতে পাকিস্তান সামরিক বাহিনী জানায়, গত ৪৮ ঘণ্টায় বালুচিস্তানে মোট ১৩৩ জন জঙ্গি নিহত হয়েছে, যার মধ্যে ৯২ জন মারা যায় শুধু শনিবারই। পাকিস্তানে নিষিদ্ধ বালুচ লিবারেশন আর্মি (বিএলএ) এই হামলার দায় স্বীকার করেছে। হামলার সময় কয়েকটি ব্যাঙ্কে লুটপাট চালানো হয়, একটি পুলিশ স্টেশন ও বহু গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। বালুচিস্তানের মুখ্যমন্ত্রী সরফরাজ সোশ্যাল মিডিয়া এক্সে দাবি করেছেন, গত এক বছরে প্রায় ৭০০ জন বিদ্রোহী নিহত হয়েছে। শনিবার ভোরে জঙ্গিরা রেললাইন ধ্বংস করায় পাকিস্তান রেলওয়ে বালুচিস্তান থেকে দেশের অন্যান্য অংশে ট্রেন পরিষেবা সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয়। হামলার লক্ষ্য ছিল পুলিশ, জেল, আধাসামরিক বাহিনী ও সাধারণ যাত্রী। এই পরিস্থিতির জেরে রাজ্যের সব হাসপাতালে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। মাস্তুঙ জেলায় একটি জেলে হামলা চালিয়ে ৩০ জনের বেশি বন্দিকে মুক্ত করে দেয় বিদ্রোহীরা। নুশকি জেলায় আধাসামরিক বাহিনীর সদর দফতরে হামলার চেষ্টা হলেও তা প্রতিহত করা হয়।
