অভিষেক হাত ধরেই TMC-তে বাম বিদ্রোহী প্রতীকের

Spread the love

প্রত্যাশিত পথেই পা রাখলেন সদ্য সিপিএম ত্যাগী প্রতীক-উর রহমান। জল্পনাকে সত্যি করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে তৃণমূল কংগ্রেসেই যোগ দিলেন ‘তরুণ তুর্কী’ প্রতীক উর রহমান। শনিবার দুপুরে আমতলার পার্টি অফিসে পৌঁছন তিনি। সেখানে আগে থেকেই উপস্থিত ছিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বিকেল ৪.১০ নাগাদ সেখানে পৌঁছন প্রতীক উর। এরপরই আনুষ্ঠানিক ভাবে তৃণমূলে যোগ দেন তিনি।

কয়েকদিন আগেই সিপিএমের সঙ্গে সব সম্পর্ক ছিন্ন করেছিলেন প্রতীক উর রহমান। তারপর থেকেই তাঁর দলবদল নিয়ে জল্পনা চলছিল। পরবর্তীতে তিনি নিজেই জানিয়ে দিয়েছিলেন ২১ ফেব্রুয়ারি তিনি তাঁর রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের সিদ্ধান্ত নেবেন। এমনকী সিপিএম ছাড়ার পর প্রতীক-উর এও বলেছিলেন, বাংলায় যত রাজনৈতিক দল আছে সবাই তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। তবে তিনি যে তৃণমূলেই যাবেন তা মুখে না বললেও রাজনীতির অলিগলিতে শাসকদলের যোগদানের জল্পনাই ছড়াচ্ছিল। লোকসভা নির্বাচনে যে যার বিরুদ্ধে তিনি লড়াই করেছিলেন, সেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরেই অবশেষে লাল পতাকা ছেড়ে ঘাসফুল পতাকা তুলে নিলেন তিনি। এদিন প্রতীক-উর বলেন,’বাংলার গৌরব নিয়ে আমাদের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় লড়াই করছেন। এই সময় বিজেপিকে আটকাতে তৃণমূল প্রয়োজন। বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সব থেকে বড় শক্তি তৃণমূল। তাই আমি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে এসেছি।’

অন্যদিকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘আমি ওকে দেখেছি মিটিং মিছিলে। সিপিএম-কে দেখা যায় না। যেটুকু দেখা যায় এদেরই দেখা যায়। ব্যক্তিগত ভাবে আমি প্রতীক-উরকে দেখেছি কোনও দলকে আক্রমণ করেনি। বিজেপির বিরুদ্ধে আমাদের যে লড়াই…। এসআইআর নিয়েই যদি বলি, বাংলার জন্য এক বিহারের জন্য এক। দ্বিচারিতা করছে। সিপিএমও তো একটা রাজ্যে রয়েছে। তাঁরাও লড়ুক। সিপিএম-এর মতাদর্শ কী?’ বলে রাখা ভালো, ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে ডায়মন্ড হারবার কেন্দ্র থেকেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে প্রার্থী হয়েছিলেন প্রতীক উর। এ দিন সেই ডায়মন্ড হারবার কেন্দ্রের অন্তর্গত আমতলায় এসে তৃণমূলে যোগ দিলেন সিপিএম ত্যাগী তরুণ এই নেতা। শুক্রবার সিপিএম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম অবশ্য দাবি করেন, প্রতীক উরের সঙ্গে যে শাসক দলের যোগাযোগ রয়েছে, দেড়- দু মাস আগে থেকেই দলের রাজ্য নেতৃত্বের কাছে সেই খবর ছিল। প্রতীক উর অবশ্য পাল্টা সিপিএম রাজ্য নেতৃত্বের বিরুদ্ধে স্বজনপোষণের মতো একাধিক গুরুতর অভিযোগ এনেছেন। দলের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমের বিরুদ্ধেও ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন তিনি।

সব মিলিয়ে ছাব্বিশের মহারণের আগে প্রতীক উর রহমানের তৃণমূলে যোগদান রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *