অসমের CMর বিরুদ্ধে মামলায় হস্তক্ষেপে অনীহা SC-র

Spread the love

অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার ‘গুলি চালানোর’ ভাইরাল ভিডিও বিতর্কে দায়ের হওয়া আবেদনে সরাসরি হস্তক্ষেপ করতে অস্বীকার করল সুপ্রিম কোর্ট। সোমবার শীর্ষ আদালত জানিয়েছে, এই বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে দায়ের হওয়া আবেদনগুলি আগে গুয়াহাটি হাইকোর্টে জানানো উচিত। আবেদনকারীদের উদ্দেশে আদালতের স্পষ্ট বার্তা, এই বিষয়ে হাইকোর্টের কর্তৃত্ব খর্ব করা চলবে না।

এদিন প্রধান বিচারপতি কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি বিপুল এম পাঞ্চোলির বেঞ্চে মামলাটি উঠেছিল। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত-এর নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ আবেদনকারীদের কাছে জানতে চায়, কেন তাঁরা গুয়াহাটি হাইকোর্টে যাননি। একই সঙ্গে শীর্ষ আদালতের পর্যবেক্ষণ, সংবিধান সম্মত আচরণের সীমা বজায় রাখা জরুরি, তবে ভোটের আগে এ ধরনের মামলা সরাসরি সুপ্রিম কোর্টে আনার প্রবণতা বাড়ছে। আদালত আরও মন্তব্য করে, এখন প্রায় সব বিষয়ই সুপ্রিম কোর্টে নিয়ে আসা হচ্ছে, যা উদ্বেগজনক। ইতিমধ্যেই পরিবেশ ও বাণিজ্য সংক্রান্ত বহু মামলা হাইকোর্টের হাতছাড়া হয়েছে বলেও উল্লেখ করে আদালত। বস্তুত, অসমে সম্ভবত মার্চ বা এপ্রিল মাসে বিধানসভা নির্বাচন হতে পারে।

আবেদনকারীদের পক্ষে সওয়াল করেন প্রবীণ আইনজীবী অভিষেক মনু সিংভি। তিনি দাবি করেন, মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে সাংবিধানিক পদে থেকে হিমন্ত বিশ্বশর্মা শপথ ভঙ্গ করেছেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের ও বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গঠনের নির্দেশ প্রয়োজন। সিংভির বক্তব্য, অসম ছাড়াও ঝাড়খণ্ড ও ছত্তীসগঢ়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন মুখ্যমন্ত্রী, তাই সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপ জরুরি। তবে শীর্ষ আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে হাইকোর্টকে পাশ কাটিয়ে সরাসরি সুপ্রিম কোর্টে আসা উচিত নয়। বেঞ্চের মন্তব্য, ‘একটি এখতিয়ার প্রয়োগের তাড়নায় অন্য একটি আদালতের এখতিয়ার খর্ব করা যায় না। সুপ্রিম কোর্ট সব কিছুর ময়দান হয়ে উঠতে পারে না। হাইকোর্টের মর্যাদা খর্ব করবেন না।’ সিংভি যখন অসমের বাইরে অন্য কোনও হাইকোর্টে যাওয়ার অনুমতি চান, তখন তা ‘অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক’ বলে মন্তব্য করে বেঞ্চ সরাসরি তা খারিজ করে দেয়। আদালত জানায়, ‘নিয়ম মেনে যান, হাইকোর্টের উপর আস্থা রাখুন। আমরা নিশ্চিত, হাইকোর্ট নীতিমালা অনুযায়ী বিষয়টি দেখবে।’

বিতর্কের সূত্রপাত

সম্প্রতি অসমের মুখ্যমন্ত্রীর একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে। বিজেপির অসম শাখার অফিসিয়াল এক্স হ্যান্ডল থেকে একটি ভিডিও পোস্ট করা হয়, যার ক্যাপশন ছিল ‘পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক শট।’ ভিডিওতে দেখা যায়, অসমের মুখ্যমন্ত্রী একটি রাইফেল তাক করে গুলি চালাচ্ছেন। অভিযোগ, তিনি দুই ব্যক্তির ছবির দিকে গুলি ছুড়ছেন, যাঁরা দু’জনেই টুপি পরা অবস্থায় ছিলেন। ভিডিওতে আরও একটি ছবি ছিল, যেখানে লেখা, ‘পরিচয়, জমি ও শিকড় আগে। পাকিস্তানে কেন গেলে? বাংলাদেশিদের জন্য ক্ষমা নেই।’ ভিডিও প্রকাশ্যে আসতেই তীব্র রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া শুরু হয়। পাশাপাশি, ভিডিওকে কেন্দ্র করে পৃথকভাবে মামলা দায়ের করেছেন বাম নেতা অ্যানি রাজা-সহ একাধিক আবেদনকারী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *