আপাতত অলি পাব ইস্যুতে তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি। ইতিমধ্যেই ‘ধর্মীয় ইস্যুতে দাঙ্গা লাগানোর চেষ্টা’র দায় চেপেছে অভিনেতা-সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার সায়ক চক্রবর্তীর কাঁধে। রীতিমতো বিপাকে তিনি। তারই মাঝে ফেসবুকে সোচ্চার আরেক ইনফ্লুয়েন্সার, অভিনেত্রী-নৃত্যশিল্পী আয়েশা ভট্টাচার্য। নিজের একটি ছবি পোস্ট করে তারওপর গোটা গোটা করে লিখলেন, ‘আমার নাম আয়েশা, আমি হিন্দু হয়েও মুসলিম নাম কেন?’ এরপর লম্বা বার্তায় এর কারণও জানালেন।
আয়েশার সেই পোস্টে লেখা রয়েছে, ‘আমার নাম ‘আয়েশা’, আর পদবি ‘ভট্টাচার্য’, ভিন্ন মানুষের ভিন্ন ভিন্ন প্রশ্নের সম্মুখীন হই আমি আমার নামের কারণে! নামটি আমার মা ভালোবেসে রেখেছেন কারণ আমাদের বাড়ির সবার নাম ‘A’ দিয়ে, তাই মায়ের ইচ্ছে ছিল আমার মেয়ের নাম ‘A’ অক্ষর দিয়েই হবে এবং এমন নাম যা সবার থেকে আলাদা হবে।’
‘কোনো ধর্মের কথা ভাবেননি উনি! উনি যেটা করেছেন ভালোবেসে করেছেন। কোনো ধর্মের কথা ভাবেননি উনি! উনি যেটা করেছেন ভালোবেসে করেছেন। আমিও যেমন আমার নামকে খুব গর্বের সাথে বলি, ভালোবেসে বলি। আমার অনেক মুসলিম বন্ধু-বান্ধবী আছে কিন্তু বিশ্বাস করুন আমি কোনো জাতি ধর্মকে আলাদা চোখে দেখি না! আমরা তো মানুষ, আমি খুব মানুষ ভালোবাসি, আমি সবার সঙ্গে কথা বলতে ভালোবাসি, সবার বাড়িতে বসে পাত পেরে খেতে ভালোবাসি। আমার যেমন প্রিয় বন্ধু আব্দুল তেমনভাবেই প্রিয় বন্ধু শুভ্রজ্যোতিও।’, আরও লেখা আয়েশার সেই পোস্টে।

সঙ্গে তিনি জানান, জাত বা ধর্ম নিয়ে ভেদাভেদ না করার শিক্ষা পেয়ে এসেছেন পরিবারের শিক্ষায়। আর তিনি সেটাই চালিয়ে যেতে চান। লেখেন, ‘আমার নাম আমার মা বাবা অনেক ভেবে, ভালোবেসে রেখেছেন। কোনো জাত ধর্মকে আলাদা চোখে দেখেননি তাঁরা, না আজও দেখেন না, আমিও দেখি না আর দেখবোও না। জীবনটা খুব ছোট। সবাইকে ভালোবেসেই জীবনটা কাটানোর চেষ্টা করে দেখি না।’
একসময় ছোট পর্দায় টানা কাজ করেছেন আয়েশা। বর্তমানে নায়িকাকে সমাজমাধ্যমে রিল ও ভ্লগ বানাতে দেখা যায়। তাঁকে খুব জলদি দেখা যবে ‘বিনি সুতোর টান’ সিনেমায়। ৬ ফেব্রুয়ারি বড়পর্দায় মুক্তি পেতে চলেছে এটি।