১ এপ্রিল থেকে ৭৪৮টি ওষুধের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। আর জীবনদায়ী ওষুধের এই মাত্রাতিরিক্ত দামবৃদ্ধি আমজনতার কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। যা দ্রুত অনুধাবন করেছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়(Mamata Banerjee)। আর তাই আজ এই ওষুধের দামবৃদ্ধি নিযে ক্ষোভ উগরে দিলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সরাসরি কেন্দ্রীয় সরকারকে কাঠগড়ায় তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। সাধারণ মানুষের উপর বোঝা চাপানোর জন্য আন্দোলনের ডাক দিলেন তিনি। ওষুধের দাম বাড়িয়ে আসতে সাধারণ গরিব মানুষের ক্ষতি করা হচ্ছে। অনুরোধ এবং আন্দোলনে কাজ না হলে পথই পথ দেখাবে বলে হুঁশিয়ারিও দেন মুখ্যমন্ত্রী।
এদিকে একধাক্কায় ৭৪৮টি ওষুধের দাম বৃদ্ধি নিয়ে সরব মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কেন্দ্রীয় সরকারকে এই বর্ধিত দাম প্রত্যাহার করার আর্জিও জানিয়েছেন তিনি। আর তারই প্রতিবাদে কর্মসূচির ডাক দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আগামী ৪ এবং ৫ এপ্রিল ব্লকে–ব্লকে, ওয়ার্ডে–ওয়ার্ডে প্রতিবাদ কর্মসূচির ডাক দিয়েছেন তিনি। বিকেল ৪টে থেকে ৫টা পর্যন্ত চলবে এই প্রতিবাদ কর্মসূচি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘এখন প্রতিবাদ না করলে স্বাস্থ্য পরিষেবা হাতের বাইরে বেরিয়ে যাবে। ৪ ও ৫ এপ্রিল প্রতি ব্লকে, ওয়ার্ডে ওষুধের দাম বাড়াচ্ছ কেন? এই প্রশ্ন তুলে মিছিল হবে। সাধারণ মানুষকে এই প্রতিবাদে সামিল হতে আহ্বান করছি।’
অন্যদিকে ন্যাশনাল ফার্মাসিউটিক্যাল প্রাইসিং অথরিটি জানিয়েছে, ডায়াবেটিস, হার্ট, কোলেস্টরল, ব্লাড থিনার, ব্লাড প্রেশার, জ্বর, বমি, গ্যাস, হাঁপানি, এইডসের মতো ওষুধের দামও বৃদ্ধি করা হয়েছে। সব মিলিয়ে ৭৪৮টি ওষুধের দাম বাড়ানো হয়েছে। দাম বাড়ছে স্টেন্ট–অর্থোপেডিক চিকিৎসা সরঞ্জামেরও। এই বিশাল দাম বৃদ্ধি নিয়েই তীব্র আপত্তি জানিয়েছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আজ, বুধবার নবান্ন থেকে সাংবাদিক বৈঠক করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য, ‘৭৪৮টি ওষুধের দাম বাড়ানো হয়েছে। ১ এপ্রিল থেকে বাড়ানো হয়েছে। এই সব ওধুধ গরিব, সাধারণ মানুষ কেনে। এদের ক্ষমতা নেই বিদেশে গিয়ে কোটি কোটি টাকা দিয়ে চিকিৎসা করার। এগুলির দাম বাড়িয়ে দেওয়ায় আমি স্তম্ভিত।’
এছাড়া ক্যানসার, হৃদরোগ–সহ প্রায় সাড়ে ৭০০ ওষুধের দাম বাড়িয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। স্বাভাবিকভাবেই যার জেরে সমস্যায় পড়েছে আমজনতা। তার প্রতিবাদে পথে নামছে তৃণমূল কংগ্রেস। তাই মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, ‘স্বাস্থ্যই সম্পদ। তাই রাজ্য সরকার স্বাস্থ্যসাথী থেকে ন্যায্যমূল্যের ওষুধের দোকান করেছে। বিনামূল্যে চিকিৎসা, ওষুধ দিতে গিয়ে রাজ্য সরকারের প্রচুর টাকা খরচ হয়। স্বাস্থ্যবিমার উপর জিএসটি চাপাচ্ছে কেন্দ্র সরকার। তার প্রতিবাদে আমি প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি লিখেছিলাম। এক শতাংশ মানুষ, যাঁরা কোটি কোটি টাকা দিয়ে চিকিৎসা করতে পারেন, শুধুই কি তাঁদের জন্যই সরকার চলবে? আমি এর তীব্র প্রতিবাদ করছি। বর্ধিত দাম প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছি। অনুরোধ এবং আন্দোলনে কাজ না হলে পথই পথ দেখাবে।’