‘‌আমি বিশ্বাস করি এটা বিজেপি–সিপিএম করিয়েছে’‌

Spread the love

বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্ট ২০১৬ সালে এসএসসি’‌র প্যানেলে ২৬ হাজার চাকরি প্রার্থীর চাকরি বাতিল করে দিয়েছে। আর এবার এই বিষয়টি নিয়ে মুখ খুললেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শীর্ষ আদালতের রায়কে সম্মান জানিয়েও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়ে দিলেন, শীর্ষ আদালতের চাকরি বাতিলের নির্দেশ তিনি মেনে নিতে পারছেন না। মানবিকতার স্বার্থে এই রায় মানতে পারছেন না বলার পাশাপাশি স্কুলগুলির ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। দু’‌চারজনের ভুলে কেন সকলে শাস্তি পাবেন?‌ এই প্রশ্নও তুললেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পাশাপাশি আশ্বাস দিলেন, তিন মাসের মধ্যে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করা হবে। তবে আজ যা ঘটেছে তার জন্য বিজেপি–সিপিএমকে দায়ী করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।

আজ নবান্ন থেকে সাংবাদিক বৈঠক করে এই চাকরি বাতিলের নেপথ্য কারিগর যে বিজেপি–সিপিএম তা তুলে ধরেন তিনি। এমনকী বাংলাকে শিক্ষায় পঙ্গু করে দিতেই এটা একটা কৌশল বলে তিনি মনে করেন। তাই মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‌বিচার ব্যবস্থাকে সম্মান করি। তবে এই রায় মেনে নিতে পারছি না। আমরাও রেকর্ড খুঁজে বের করব, ২০১৬ তে কারা কারা মন্ত্রী ছিলেন। কোনও একটা জেলা তো আমি জানি, কীভাবে চাকরি হয়েছে। তবে আমাদের কাছে কোনও রেকর্ড নেই। কারও কাছে থাকলে দেবেন। কলকাতা হাইকোর্টে প্রথম এই ভার্ডিক্ট যিনি দিয়েছিলেন, তিনি এখন বিজেপির এমপি হয়েছেন। আমি বিশ্বাস করি এটা বিজেপি–সিপিএম করিয়েছে।’‌

২০১৬ এসএসসি’‌র শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতির মামলায় কলকাতা হাইকোর্টের রায় বহাল রেখে পুরো প্যানেলটাই বাতিল করে দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। বিষয়টি ঘিরে আজ সকাল থেকেই সরগরম হয়ে উঠেছে রাজ্য–রাজনীতি। এই গোটা ঘটনা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, ‘‌যাঁরা চাকরি করছেন, তাঁদের কোনও টাকা ফেরৎ দিতে হবে না! তবে আদালতের নির্দেশ মেনে তিন মাসের মধ্যেই নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। সবাই তো আর অযোগ্য নয়। দু’চারজনের জন্য এতগুলো চাকরি বাতিল করা হল। বিকাশবাবুর জন্য তো এটা হল। ওকে তো নোবেল দেওয়া উচিত। ভাবছি, আমরা রেকমেন্ড করব কিনা। একজন বিচারকের বাড়ি থেকে কোটি কোটি টাকা উদ্ধার হওয়ার পর যদি তাঁকে শুধু বদলি করা হয়। তাহলে আমাদের শিক্ষকদেরও বদলি করতে পারত।’‌

এছাড়া সিপিএম–বিজেপিকে এক বন্ধনীতে রেখে আক্রমণের সুর চড়িয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর কথায়, ‘‌ওরা এসব করে বাংলার শিক্ষার মান নামিয়ে দিতে চাইছে না তো! এভাবে কয়েকলক্ষ পরিবারকে অচল করে দিল। এই পরিবারগুলির কোনও অঘটন ঘটলে তার দায়ভার সিপিএম–বিজেপিকে নিতে হবে। শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দেওয়ার চেষ্টা? বাংলাকে পিছিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। কোলাপ্স করতে চাইছে সিপিএম। সিপিএম তো চিরকুটে চাকরি দিতেন। তার তো তদন্ত হয় না। শিক্ষা ব্যবস্থাকে কোলাপ্স করিয়ে দেওয়া কি বিজেপি সরকারে টার্গেট? বাংলাকে আর কত টার্গেট করা হবে? চাকরিহারাদের পাশে মানবিকভাবে দাঁড়াতে চাই। যাদের চাকরি বাতিল হয়েছে, তাদের বয়সে ছাড় দেওয়া হবে, তারা আবার নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারবে। চাকরিহারাদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য যদি বিজেপি আমাকে গ্রেফতারও করে তাহলেও তা স্বাগত জানাবো। ক্যাচ মি ইফ ইউ ক্যান।’‌

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *