আম আদমি পার্টি (আপ) ছেড়ে কংগ্রেসে যোগ দিলেন তুলিকা অধিকারী। যিনি কলকাতায় আরজি কর আন্দোলনের সময় অন্যতম প্রতিবাদী ‘মুখ’ হিসেবে উঠে আসেন। ২০২৪ সালে আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় রাজ্য যখন উত্তাল হয়ে উঠেছিল, তখন সেই আন্দোলনের একেবারে প্রথম সারিতে ছিলেন তুলিকা। তিনিই এবার কংগ্রেসে যোগদান করলেন। বৃহস্পতিবার প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার এবং কংগ্রেসের জাতীয় মহিলা সভানেত্রী অলকা লাম্বার উপস্থিতিতে হাত শিবিরে যোগদান করেন। হাজির ছিলেন প্রাক্তন মহিলা সভানেত্রী সুব্রতা দত্ত ও নবনিযুক্ত মহিলা সভানেত্রী শ্রাবন্তী সিংও।
বিজেপিতে না গিয়ে কেন কংগ্রেসে যোগ তুলিকার?
কিন্তু বিধানসভা নির্বাচনের আগে কংগ্রেসেই কেন যোগদান করলেন তুলিকা? বিশেষত পশ্চিমবঙ্গের গত কয়েকটি নির্বাচনে হাত শিবির কার্যত কোনও দাগ কাটতে পারেনি। মূলত মালদা এবং মুর্শিদাবাদেই সীমাবদ্ধ থেকে গিয়েছে। তারপরও অন্য কোনও ‘শক্তিশালী’ দলে (বিজেপি) না গিয়ে কংগ্রেসে যোগ দেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তুলিকা বলেন, ‘কেউ ডানপন্থায় স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন, কেউ বামপন্থায়। আমি মধ্যপন্থায় বিশ্বাস করি। যেখানে সমাজের উন্নয়ন, গণতন্ত্রের সম্মান এবং নীতির ভারসাম্য থাকে।’
সেইসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, রাজনীতি শেষপর্যন্ত চিন্তাধারার বিষয়। কাউকে জোর করে তার ভাবনা পরিবর্তন করানো যায় না। আমি নিজে মধ্যপন্থী, তাই আমার রাজনৈতিক পছন্দও মধ্যপন্থী ক্ষেত্রেই ছিল এবং থাকবে। আপ এবং কংগ্রেস দুটোই মধ্যমপন্থার প্রতিনিধিত্ব করে।’

বাংলায় আপকে নিয়ে হতাশ তুলিকা
তাহলে আপ ছাড়লেন কেন? তুলিকা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, আপে বড় পদ পেলেও পশ্চিমবঙ্গে সংগঠন বিস্তার করার বিষয়ে বিশেষ আগ্রহ দেখায়নি অরবিন্দ কেজরিওয়ালের দল। ভোটের ময়দানে নেমে যে দাগ কাটবে বা হাড্ডাহাড্ডি লড়াই করবে, সেরকম কোনও অভিপ্রায় দেখা যায়নি আপের মধ্যে। সেজন্যই কংগ্রেসে যোগদান করেছেন বলে জানিয়েছেন তুলিকা। তাঁর কথায়, ‘আপ বাংলায় সংগঠন বিস্তার করতে আগ্রহী নয়। তাই আমি কংগ্রেসকে বেছে নিয়েছি।’