মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতর পেন্টাগনসহ বিভিন্ন ফেডারেল সংস্থাকে ইউএফও ও ভিনগ্রহের প্রাণী সংক্রান্ত সরকারি নথি চিহ্নিত করে প্রকাশের প্রক্রিয়া শুরু করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প।প্রতিবেদন মতে, স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে তিনি এই নির্দেশনা দেন। গোপন নথিও প্রকাশ করা হবে কি না তা তিনি স্পষ্ট করে বলেননি।
তবে তার ভাষ্য অনুযায়ী, ‘অজানা উড়ন্ত বস্তু (ইউএফও), অজ্ঞাত আকাশ সম্পর্কিত ঘটনা (ইউএপি) এবং ভিনগ্রহের প্রাণ’–সংক্রান্ত সব ধরনের তথ্য এতে অন্তর্ভুক্ত থাকা উচিত।’
সম্প্রতি এক পডকাস্ট সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার এক মন্তব্যের পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। পডকাস্টে ওবামা বলেন, মহাবিশ্ব এত বড় যে পরিসংখ্যানগতভাবে অন্য কোথাও প্রাণ থাকার সম্ভাবনা আছে। তবে তিনি প্রেসিডেন্ট থাকাকালে ভিনগ্রহের প্রাণ পৃথিবীর সঙ্গে যোগাযোগ করেছে—এমন কোনো প্রমাণ দেখেননি।
এরপর গত রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) ইনস্টাগ্রামে দেয়া এক পোস্টে ওবামা তার বক্তব্য পরিষ্কার করে বলেন, সৌরজগতগুলোর মধ্যে দূরত্ব এত বেশি যে ভিনগ্রহের প্রাণ আমাদের কাছে এসেছে—এ সম্ভাবনা খুবই কম।বিষয়টি জোর বিতর্ক ও আলোচনার মধ্যে বৃহস্পতিবার ট্রাম্প ওবামার ভিনগ্রহেন প্রাণ বিষয়ক মন্তব্যের সমালোচনা করেন। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ওবামা এ ধরনের মন্তব্য করে ‘ভুল করেছেন’ এবং ইঙ্গিত দেন, সাবেক প্রেসিডেন্টের মন্তব্যগুলো গোপন তথ্যের কাছাকাছি হতে পারে।

২০২৪ সালে মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতর পেন্টাগনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ইউএফও সংক্রান্ত যেসব ঘটনা তদন্ত করা হয়েছে, সেগুলোর কোনোটিই ভিনগ্রহের প্রযুক্তি বলে প্রমাণ মেলেনি। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সেগুলো ছিল গুপ্তচর বিমান, স্যাটেলাইট বা আবহাওয়া বেলুন।তবুও ট্রাম্পের ঘোষণার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও কংগ্রেসের কিছু সদস্য সমর্থন জানিয়েছেন। রিপাবলিকান কংগ্রেসওম্যান অ্যানা পলিনা লুনা, যিনি ইউএপি–বিষয়ক কংগ্রেসনাল টাস্কফোর্সের চেয়ারম্যান, ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, এসব ফুটেজ, ছবি ও রিপোর্ট জনগণের সামনে আনা উচিত।ডেমোক্র্যাট সিনেটর জন ফেটারম্যানও এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে ট্রাম্পের সিদ্ধান্তকে ‘দারুণ’ বলে মন্তব্য করেন। তার ভাষায়, ‘আমেরিকা ও বিশ্বের মানুষ এ তথ্য জানার অধিকার রাখে।’