যাত্রীদের ভোগান্তি এবং সুরক্ষার ব্যাপারে কোনও বিমান সংস্থাকেই রেয়াত করা হবে না। ইন্ডিগোর বিমান বিভ্রাট নিয়ে এবার লোকসভায় মুখ খোলেন অসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রী রামমোহন নাইডু। তিনি জানান, যে নিয়মের জেরে এতবড় সমস্যায় পড়েছে ইন্ডিগো সেটা যাত্রী সুরক্ষার কথা মাথায় রেখেই তৈরি করা হয়েছে। তাই নিয়ম বদলের প্রশ্নই নেই। মন্ত্রীর বক্তব্যের পরেই বিরোধীরা ইন্ডিগো ইস্যু নিয়ে আলোচনার দাবি জানান। কিন্তু আলোচনা না হওয়ায় ওয়াকআউট করেন তাঁরা।
ভারতের আকাশপথে ইন্ডিগোর দাপট যেন হঠাৎ কেঁপে উঠেছে। দেশের সবচেয়ে বড় বেসরকারি বিমান সেবা প্রদানকারী এই এয়ারলাইনের উপর নরেন্দ্র মোদী সরকারের অভূতপূর্ব চাপ পড়েছে। এরমধ্যেই ইন্ডিগোর বিভ্রাট নিয়ে মঙ্গলবার উত্তপ্ত হয় সংসদ। রাজ্যসভার পর লোকসভাতেও খানিকটা একই সুরে রামমোহন নাইডু বলেন, ইন্ডিগোর শত শত ফ্লাইট বাতিল এবং হাজার হাজার যাত্রী আটকা পড়ার পর বিমানবন্দরে বিশৃঙ্খলার জন্য সরকার সংস্থার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ শুরু করেছে কেন্দ্র। তাঁর বক্তব্য, পাইলট, কর্মী, যাত্রী- সবার নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্যই প্রথম। সব সংস্থাকেই আগে থেকে স্পষ্ট করে জানানো হয়েছিল। ইন্ডিগোর উচিত ছিল ব্যবস্থাপনা ঠিক রাখা। তিনি বলেন, ‘বিমান স্বাভাবিকভাবে চলাচল করছে। কিছুদিনের মধ্যেই জবাবদিহি করে সমস্যার কারণ দেখা হবে। ইন্ডিগোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনও যাত্রীকে নাজেহাল করার অনুমতি দেওয়া হবে না। নিরাপত্তার ক্ষেত্রে কোনও আপস করা যাবে না। নিরাপত্তার মানদণ্ডের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ইন্ডিগো সমস্ত মানদণ্ড মেনে চলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।’
কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর হুঁশিয়ারি, ‘যত বড় এয়ারলাইন্সই হোক না কেন, পরিকল্পনার ব্যর্থতার জন্য যাত্রীদের ভোগান্তি হলে তা সহ্য করা যাবে না। অ-সম্মতি বা আইনগত বিধান না মেনে যাত্রীদের এই ধরনের ভোগান্তি হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ তাঁর মতে, পাইলটদের ক্লান্তি দূর করার জন্যই বিজ্ঞানসম্মতভাবে ডিউটির সময় কমানোর নিয়ম করা হয়েছে। যাত্রীদের সুরক্ষার জন্যই পাইলটদের তরতাজা রাখা প্রয়োজন। দেশে আরও নতুন উড়ান সংস্থা তৈরির ডাকও দিয়েছেন নাইডু। তিনি বলেন, ডিজিসিএ ইন্ডিগোর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে কারণ দর্শানো নোটিশ জারি করেছে। বিস্তারিত তদন্ত শুরু করেছে ডিজিসিএ। রামমোহন নাইডু আরও বলেন, ‘সকল স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে পরামর্শ করে একটি পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে ডিজিসিএ। ১ জুলাই, ২০২৫ থেকে প্রথম পর্যায়, ১ নভেম্বর, ২০২৫ থেকে দ্বিতীয় পর্যায়। ইন্ডিগো এই নিয়মগুলি সম্পূর্ণরূপে মেনে চলার আশ্বাস দিয়েছে এবং শীতকালীন সময়সূচী বাস্তবায়নের জন্য তার প্রস্তুতিও নিশ্চিত করেছে। এই আশ্বাস সত্ত্বেও, প্রাথমিকভাবে দেখা গেছে যে বড় সংখ্যক টিকিট বাতিল করা হয়েছে এবং হাজার হাজার যাত্রী সমস্যার সম্মুখীন হয়েছেন।’ যতক্ষণ মন্ত্রী বক্তব্য রেখেছেন, বিরোধীরা বারবার স্লোগান দিয়েছেন লোকসভায়। রামমোহন নাইডুর বক্তব্য শেষ হতেই বিরোধীরা দাবি জানান, ইন্ডিগো সমস্যা নিয়ে সংসদে আলোচনা হোক। সেই আবেদনে অবশ্য কর্ণপাত করেননি স্পিকার ওম বিড়লা। আলোচনা না হওয়ায় সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেন বিরোধীরা।
