উত্তরার বহুতলে বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ডে মৃত্যুমিছিল

Spread the love

ঢাকার উত্তরায় একটি বহুতল আবাসিক ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। সেই আগুনে ঝলসে মৃত্যু হয়েছে কমপক্ষে ৬ জনের। মৃত ছয়জনই দুই পরিবারের সদস্য বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস।

জানা গিয়েছে, শুক্রবার সকাল ৭টা ৫০ মিনিট নাগাদ ঢাকার উত্তরার ১১ নম্বর সেক্টরের ১৮ নম্বর রোডের একটি ৭তলা বহুতলে বিধ্বংসী আগুন লাগে। ওই বহুতলের দ্বিতীয় তলায় আগুন লেগেছিল। ঘটনাস্থলেই অগ্নিদগ্ধ হয়ে মৃত্যু হয় তিনজনের। অন্যদিকে, খবর পেয়েই উত্তর ফায়ার স্টেশন থেকে দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। ফায়ার সার্ভিসের ইউনিটগুলি সকাল ৭টা ৫৮ মিনিটে ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। এরমধ্যেই ধোঁয়ায় অসুস্থ হয়ে পড়া ১৩ জনকে উদ্ধার করে কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানেই তাঁদের চিকিৎসা চলছে। এদিকে, প্রায় আধঘণ্টার চেষ্টায় সকাল ৮টা ২৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে দমকল বাহিনী। পরে সকাল ১০টা নাগাদ আগুন সম্পূর্ণভাবে নির্বাপণ করা হয়।

এদিন সকালে অগ্নিকাণ্ডে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানায় ফায়ার সার্ভিস। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও তিনজনের মৃত্যুর খবর জানিয়েছেন পুলিশের উত্তরা বিভাগের উপকমিশনার শাহরিয়ার আলি। নিহত ছয়জনের মধ্যে দুইজন মহিলা, একজন পুরুষ ও এক শিশুও রয়েছে। উত্তরা পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল আহমেদ জানিয়েছেন, কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে একই পরিবারের তিনজন এবং অন্য তিনজনের মধ্যে উত্তরা স্পেশালাইজড হাসপাতালে দুজন ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে একজনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে এক পরিবারের স্বামী-স্ত্রী-সহ তিনজন রয়েছেন। তারা হলেন- কুমিল্লা সদরের নানুয়াদিঘির পাড়ের কাজী ফজলে রাব্বি, তার স্ত্রী আফরোজা আক্তার ও তাদের দুই বছরের ছেলে ফাইয়াজ রিশান। নিহত অন্য তিনজন হলেন- ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার দড়িপারশী এলাকার হাফিজ উদ্দিনের ছেলে হারিছ উদ্দিন ও মো. রাহাব এবং শহিদুলের মেয়ে রোদেলা। এই আগুনে এত হতাহত কেন, এমন প্রশ্নের জবাবে ফায়ার সার্ভিসের জনসংযোগ শাখার কর্মকর্তা তালহা বিন জসিম বলেন, ঘরে প্রচুর আসবাব ছিল। সেগুলোয় আগুন লেগে যায়। আগুন তাই দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ফায়ার সার্ভিসের ঢাকা জোন–৩–এর উপসহকারী পরিচালক মো. আবদুল মান্নান বলেন, শর্টসার্কিট থেকে আগুন লেগে থাকতে পারে। আগুন দ্বিতীয় তলায় লেগে তা তিনতলা পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *