উত্তেজনার মধ্যে হোয়াইট হাউসে বৈঠকে বসছেন ট্রাম্প-পেত্রো

Spread the love

ভেনেজেুয়েলা ইস্যুতে সৃষ্ট উত্তেজনার মধ্যে কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রোর সঙ্গে বৈঠকে বসছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। দক্ষিণ আমেরিকার দেশটির বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের হুমকি দেয়ার মাত্র কয়েক সপ্তাহ পর আজ মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) স্থানীয় সকাল ১১ টায় (বাংলাদেশ সময় রাত ১০টায়) হোয়াইট হাউসে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।

ভেনেজুয়েলায় সামরিক অভিযান এবং দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে অপহরণের জন্য ট্রাম্প ও তার প্রশাসনের কঠোর সমালোচনা করে আসছেন পেত্রো। এর মধ্যে গত সোমবার (২ ফেব্রুয়ার) ট্রাম্প জানান, পেত্রো কলম্বিয়া থেকে অবৈধ মাদকের প্রবাহ বন্ধ করতে তার প্রশাসনের সাথে কাজ করতে আগ্রহী।

কয়েক মাসের হুমকি-ধামকির গত শনিবার (৩ জানুয়ারি) গভীর রাতে ভেনিজুয়েলা আক্রমণ করে মার্কিন বাহিনী। রাজধানী কারাকাস ছাড়াও কয়েক জায়গায় যুদ্ধবিমান থেকে বোমাও বর্ষণ করে। এরপর মাদুরো ও তার স্ত্রীকে তাদের বাসভবন থেকে টেনে-হিঁচড়ে বের করে আনে তারা।

প্রথমে হেলিকপ্টার এরপর জাহাজে করে তাদের নিয়ে যাওয়া হয় নিউইয়র্কে। সেখানে তাদের কারাগারে রাখা হয়েছে। এর মধ্যে ট্রাম্প জানিয়ে দেন, এখন থেকে ভেনিজুয়েলা আমেরিকাই চালাবে। সেখানকার তেলভাণ্ডারের ওপরও নিজেদের কর্তৃত্ব ঘোষণা করেন তিনি।শুধু তাই নয়, কলম্বিয়া ও কিউবাকেও ভেনেজুয়েলার ‘পরিণতি’ হবে বলে হুমকি দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ভেনেজুয়েলায় হামলার একদিন পরই (৪ জানুয়ারি) এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, ‘কলম্বিয়ায় একজন অসুস্থ ব্যক্তি দেশ চালাচ্ছেন, যিনি কোকেন তৈরি করে তা যুক্তরাষ্ট্রে বিক্রি করতে পছন্দ করেন। আমি আপনাকে বলতে চাই, তিনি খুব বেশি দিন এমনটা চালিয়ে যেতে পারবেন না।’

পেত্রোকে ‘সাবধানে থাকতে’ হুশিয়ারিও দেন ট্রাম্প। এরপরই দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা চরমে ওঠে। ট্রাম্পের হুমকির জবাব দেন সাবেক বামপন্থি গেরিলা নেতা পেত্রো। বলেন, প্রয়োজনে আবারও হাতে অস্ত্র তুলে নেবেন তিনি। তবে এরপর গত ৭ জানুয়ারি রাতে নাটকীয়ভাবে পেত্রোর সঙ্গে ফোনে কথা বলেন ট্রাম্প। তাকে হোয়াইট হাউসে আমন্ত্রণও জানান তিনি।

ফোনালাপের পর ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে পেত্রোর সাথে তার কথোপকথনকে ‘বিরাট সম্মান’ বলে বর্ণনা করেন। কলম্বিয়ার একজন কর্মকর্তা সেই সময় বলেন, কথোপকথনে ‘উভয় পক্ষের’ আগের বাগযুদ্ধের ১৮০ ডিগ্রি পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে।

তবে ৮ জানুয়ারি বিবিসিকে দেয়া সাক্ষাৎকারে পেত্রো বলেন, কলম্বিয়ার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপকে ‘বাস্তব হুমকি’ হিসেবে দেখছেন তিনি। তার এই কথা থেকে স্পষ্ট হয় যে, সম্পর্কের উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি।

সাক্ষাৎকারে কলম্বিয়ার এই নেতা বলেন, যুক্তরাষ্ট্র অন্যান্য দেশকে মার্কিন সাম্রাজ্যের অংশ হিসেবে গণ্য করছে। তার মতে, এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ‘বিশ্বের ওপর আধিপত্য করা’র জায়গা থেকে ‘বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন’ হওয়ার ঝুঁকি নিচ্ছে।

সাক্ষাৎকারে যুক্তরাষ্ট্রে চলমান অভিবাসনবিরোধী পদক্ষেপের কঠোর সমালোচনা করেন পেত্রো। মার্কিন ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) এজেন্টদের সমালোচনা করে তিনি বলেন, আইসিই ‘নাৎসি বাহিনী’র মতো কাজ করছে।

পেত্রো ট্রাম্পের সঙ্গে তার ফোনালাপের বিষয়টি নিয়েও কথা বলেন। তিনি জানান, সেদিন ট্রাম্পের সঙ্গে তার এক ঘণ্টার কিছু কম সময় কথা হয়। ‘কথোপকথনের বেশিরভাগ ছিল আমাকে ঘিরে’ এবং ‘কলম্বিয়ার মাদক-পাচার’, ভেনেজুয়েলা সম্পর্কে কলম্বিয়ার দৃষ্টিভঙ্গি এবং ‘যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে লাতিন আমেরিকায় কী ঘটছে’ তা নিয়ে। 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *