মার্কিন সুপ্রিম কোর্টে শুল্ক নিয়ে ধাক্কা খেয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। তারপরেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্ক পদক্ষেপে ভারতের অর্থনীতিতে কী প্রভাব পড়তে পারে- তা এখনই বলা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। বাণিজ্য মন্ত্রক বিষয়টি পর্যালোচনা করে দেখছে বলেও জানান তিনি।
কী বললেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী?
এক সাংবাদিক বৈঠকে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন জানান, পরিবর্তিত বাণিজ্য পরিস্থিতি খতিয়ে দেখছে বাণিজ্য মন্ত্রক এবং পরবর্তী দফার আলোচনায় কখন বসা হবে, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে পর্যালোচনার পর। তাঁর কথায়, ‘ভারতের অর্থনীতি সম্পর্কে, এখনই মন্তব্য করা একটু তাড়াতাড়ি হয়ে যাবে।’ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে তিনি বলেন, ‘বাণিজ্যের বিষয়ে, বিশেষ করে সাধারণভাবে ভারতীয় অর্থনীতির বাইরে, বাণিজ্য মন্ত্রক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করছে এবং প্রতিনিধিদলকে কখন আরও আলোচনায় যেতে হবে তা সিদ্ধান্ত নিতে হবে। আমার পক্ষে মন্তব্য করা এখন একটু তাড়াতাড়ি হয়ে যাবে।’
সুপ্রিম কোর্ট ও ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক
শুক্রবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালত ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপিত ব্যাপক আমদানি শুল্কের বিরুদ্ধে রায় দেয়। সুপ্রিম কোর্ট জানায়, অসাংবিধানিক ভাবে ওই শুল্ক চাপানো হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টে ধাক্কা খাওয়ার পরে সেই শুল্ক স্থগিত রাখারও সিদ্ধান্ত নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৫০ দিনের জন্য সব দেশের উপর ১০ শতাংশ হারে শুল্ক আরোপের ঘোষণা করেন। পরের দিন সেই হার বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করা হয়। তবে এই শুল্ক ‘সাময়িক’। কারণ, ১৯৭৪ সালের মার্কিন বাণিজ্য আইনের ১২২ নম্বর ধারা উল্লেখ করে নতুন এই শুল্ক চাপিয়েছেন ট্রাম্প। আইন বলছে, এতেও মার্কিন কংগ্রেসের অনুমোদনই শেষ কথা। প্রাথমিক ভাবে অনুমোদন ছাড়া ১৫০ দিনের বেশি এই ধরনের শুল্ক কার্যকর করা যায় না।

বাণিজ্য মন্ত্রকের বিবৃতি
ট্রাম্প নতুন শুল্ক ঘোষণার পর পরই শনিবার কেন্দ্রীয় বাণিজ্য মন্ত্রক থেকে একটি বিবৃতি দেওয়া হয়। ভারত ওই দিন জানায়, সার্বিক পরিস্থিতির উপর কী প্রভাব পড়তে পারে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এক সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে বাণিজ্য মন্ত্রক জানায়, ‘শুল্ক নিয়ে গতকাল মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট যে রায় দিয়েছে, তা আমাদের নজরে এসেছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও এ বিষয়ে একটি সাংবাদিক বৈঠক করেছেন। মার্কিন প্রশাসন কিছু পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করেছে। আমরা এই সকল বিষয়ের প্রভাব খতিয়ে দেখছি।’