এপস্টেইনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল নরওয়ের রাজকুমারীর

Spread the love

কুখ্যাত যৌন নিপীড়ক জেফরি এপস্টেইন সম্পর্কিত নথিতে বিশ্বের বহু প্রভাবশালী ব্যক্তির নাম উঠে এসেছে। এসব নথির মধ্যে কিছু নথিতে দেখা যাচ্ছে, এপস্টেইনের সাথে নরওয়ের রাজপরিবারের সদস্যদেরও যোগাযোগ ছিল। ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল রাজকুমারী মেটে-মারিটের। বিষয়টি সামনে আসার পর তীব্র বিতর্ক ও সমালোচনার মুখে পড়েছে রাজপরিবার।

গত শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) ৩০ লাখেরও বেশি প্রকাশ করে মার্কিন বিচার বিভাগ। নতুন নথিপত্র প্রকাশের পর তা বিশ্বজুড়ে হইচই ফেলে দিয়েছে। এসব নথিতে উঠে এসেছে প্রভাবশালী বিভিন্ন ব্যক্তির নাম যার মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প, সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন, ব্রিটেনের যুবরাজ অ্যান্ড্রু, টেসলার প্রধান ইলন মাস্ক, মাইক্রোসফটের সহপ্রতিষ্ঠাতা বিল গেটসসহ অনেক প্রভাবশালীর নাম রয়েছে।

সুন্দর মুখের আড়ালে এই সব নেতাদের কুৎসিত চেহারা দেখে স্তম্ভিত বিশ্ব। এই তালিকাতেই রয়েছেন আরেক রাজপরিবারের সদস্য। তিনি নরওয়ের রাজকুমারী তথা পরবর্তী রানি মেটে-মারিট। জানা যাচ্ছে, যৌন অপরাধী এপস্টেইনকে অশ্লীল ছবি পাঠাতেন এই রাজকুমারী। শুধু তাই নয়, এপস্টেইনের বাড়িতে সময় কাটিয়েছেন তিনি।

মার্কিন বিচার বিভাগের তরফে এপস্টেইন সংক্রান্ত ৩৫ লক্ষ পাতার নথি প্রকাশ করা হয়েছে। এছাড়া প্রকাশ করা হয়েছে অন্তত ২ হাজার ভিডিও এবং ১ লক্ষ ৮০ হাজার ছবি। যার ছত্রে ছত্রে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের ধনকুবের ও প্রভাবশালী নেতৃত্বদের কেচ্ছা।

সিএনএনের এক প্রতিবেদন মতে, এই এপস্টেইন ফাইলেই ১ হাজারেরও বেশিবার নাম এসেছে নরওয়ের রাজকুমারী মেটে মারিটের। ২০১১ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত এপস্টেইনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল তার। শুধু তাই নয়, ২০১৩ সালে ফ্লোরিডায় এপস্টেইনের বাড়িতে ৪ দিন সময় কাটান রাজকুমারী।

সামনে এসেছে দু’জনের ইমেলের অশ্লীল কথোপকথন। এপস্টেইনকে নারীদের অশ্লীল ছবি পাঠাতেন রাজকুমারী মেটে মারিট। একটি ইমেইলে এপস্টেইন বলেছেন, ‘তুমি আমাকে নেশা ধরিয়ে দাও।’ এই ইমেল থেকেই ইঙ্গিত, সম্ভবত নরওয়ের রাজকুমারীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক ছিল এপস্টেইনের। সে সময় সঙ্গী হতেন অন্য নারীরাও।

এপস্টেইনকে পাঠানো এক ইমেইলে রাজকুমারী লিখেছেন, ‘আমার ছেলের বয়স ১৫ বছর। ওর ঘরে কি দু’জন নগ্ন নারীর ছবি রাখা যাবে?’ ইমেইলে এপস্টেইনকে ‘চার্মিং’, ‘সুইট হার্ট’-বলে উল্লেখ করতেন রাজকুমারী।

মেটে মারিটের ছেলে ২৯ বছর বয়সি মারিয়াস বর্গ হোইবির চার নারীকে ধর্ষণসহ মোট ৩৮টি অপরাধের অভিযোগে ওসলোর একটি আদালত বিচার শুরু হয়েছে। এর মধ্যেই এপস্টেইনের সঙ্গে মেটের বার্তা আদান-প্রদানের তথ্য সামনে এলো। যা নরওয়ের নাগরিকদের মধ্যে তীব্র বিতর্ক ও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

মেটে মারিট স্বীকার করেছেন যে তিনি এপস্টাইনের সাথে তার যোগাযোগের ক্ষেত্রে ‘দুর্বল বিচক্ষণতা’র পরিচয় দিয়েছেন। সেই সঙ্গে বলেছেন, ‘এসব কর্মকাণ্ডের জন্য সম্পূর্ণরূপে দায়ী’ তিনি। তার কথায়, ‘এপস্টেইনের সম্পর্কে আরও পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে না জানার জন্য এবং তিনি কী ধরণের ব্যক্তি তা আগে থেকে বুঝতে না পারার জন্য আমাকে অবশ্যই দায় নিতে হবে। আমি এর জন্য গভীরভাবে অনুতপ্ত।’

গত শুক্রবার প্রকাশিত এপস্টেইন নথিতে ব্রিটিশ রাজ পরিবারের সাবেক সদস্য প্রিন্স অ্যান্ড্রুর নামও এসেছে। নথির মধ্যে তার বেশ কিছু ছবিও রয়েছে। তবে ছবিগুলো কবে তোলা তা জানা যায়নি। ছবিতে দেখা যাচ্ছে, পৃথকভাবে মেঝেতে শুয়ে থাকা চার নারীর ওপর হাঁটু গেড়ে বসে আছেন অ্যান্ড্রু।

গত বছরের অক্টোবরে রাজা তৃতীয় চার্লস তার ভাই অ্যান্ড্রুর রাজকীয় পদবি ও সম্মাননা বাতিল করেন। মৃত্যুর আগে ভার্জিনিয়া জুফ্রে নামে এক ভুক্তভোগী নারী অভিযোগ করেছিলেন, তাকে প্রিন্স অ্যান্ড্রুর সঙ্গে তিনবার যৌন সম্পর্ক স্থাপনে বাধ্য করা হয়েছিল। এর মধ্যে দুটি ঘটনা তার ১৭ বছর বয়সের।

নতুন নথি প্রকাশের পর অ্যান্ড্রুকে নিয়ে গত শনিবার (৩১ জানুয়ারি) ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের কাছে প্রশ্ন করেন সাংবাদিকরা। জবাবে স্টারমার বলেন, তিনি মনে করেন মার্কিন কংগ্রেসে অ্যান্ড্রুর সাক্ষ্য দেয়া উচিত। 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *