চিংড়িঘাটা মোড় নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই চূড়ান্ত টালবাহানা চলছে। তারইমধ্যে আরও একটা বাধার সম্মুখীন হল কলকাতা মেট্রোর অরেঞ্জ লাইন। যা নিউ গড়িয়ার সঙ্গে সরাসরি কলকাতা বিমানবন্দরকে যুক্ত করার কথা আছে। কিন্তু সেই যোগসূত্র কবে তৈরি হয়ে ওই লাইনে নিরবিচ্ছিন্নভাবে মেট্রো ছুটবে, তা নিয়ে নতুন করে শঙ্কা তৈরি হল। কারণ নিউ গড়িয়া থেকে আগত অরেঞ্জ লাইন কলকাতা বিমানবন্দরকে যুক্ত করার জন্য শেষ ১৩৫ মিটার অংশের যে কাজ বাকি আছে, সেটার জন্য মেট্রো কর্তৃপক্ষকে ট্র্যাফিক নিয়ন্ত্রণের অনুমতি দিল না বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেট। সংবাদমাধ্যম দ্য টাইমস অফ ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটের তরফে জানানো করা হয়েছে যে প্রস্তাবিত অংশে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করলে ভয়াবহ যানজট তৈরি হতে পারে। মধ্যমগ্রাম (এয়ারপোর্ট আড়াই নম্বর গেট থেকে দূরত্ব প্রায় ১o কিলোমিটার), দক্ষিণেশ্বর (দূরত্ব প্রায় ১৪ কিমি) পর্যন্ত যানজট পড়ে যেতে পারে বলেও পুলিশের তরফে দাবি করা হয়েছে।
প্রাথমিকভাবে অন্য পরিকল্পনা ছিল RVNL-র
যদিও প্রাথমিকভাবে কলকাতা মেট্রোর অরেঞ্জ লাইনের দায়িত্বপ্রাপ্ত এজেন্সি রেল বিকাশ নিগম লিমিটেড (আরভিএনএল) ঠিক করেছিল যে এমন উপায়ে এয়ারপোর্ট মেট্রোর টানেল তৈরি করা হবে যে যান নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনই হবে না। আসলে কলকাতা বিমানবন্দরের নিয়মের কারণে নিউ গড়িয়া-এয়ারপোর্ট করিডরের শেষ ৯০০ মিটার অংশে মাটির নীচ দিয়ে যাবে মেট্রো। আর শেষ ১৩৫ মিটার অংশের ‘বক্স-পুশিং’ পদ্ধতিতে টানেল খননের পরিকল্পনা করেছিল আরভিএনএল। কিন্তু মাটির অবস্থার কারণে চিরাচরিত ‘কাট অ্যান্ড কভার’ পদ্ধতিতেই টানেল খোঁড়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
কীভাবে গাড়ি ঘোরানোর পরিকল্পনা ছিল?
আর সেই কাজের জন্য বিমানবন্দর থেকে ভিআইপি রোডের দিকে রাস্তা খনন করতে হবে। প্রাথমিকভাবে ঠিক করা হয়েছিল যে এয়ারপোর্ট আড়াই নম্বর গেটের দিকে ঘুরিয়ে দেওয়া হবে গাড়ি। সেখান থেকে এয়ারপোর্ট রোড হয়ে এয়ারপোর্ট এক নম্বর গেটে পৌঁছে ভিআইপি রোডের দিকে চলে যাবে।

মধ্যমগ্রাম ছাড়িয়ে দক্ষিণেশ্বর পর্যন্ত জ্যাম হতে পারে
ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেই রাস্তায় কাজ শুরুর আগে সমীক্ষা চালানো হয়। সমীক্ষার রিপোর্ট খতিয়ে দেখে পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, যান নিয়ন্ত্রণের যে পরিকল্পনা করা হয়েছে, সেটা কার্যকর করা হলে নির্ধারিত সীমার থেকে অনেক বেশি গাড়ি চলবে এয়ারপোর্ট আড়াই নম্বর গেট দিয়ে। সেক্ষেত্রে যানজটের মাত্রা এতটাই হতে পারে যে ব্যস্ত সময় মধ্যমগ্রাম এবং দক্ষিণেশ্বর পর্যন্ত জ্যাম চলে যেতে পারে। সেক্ষেত্রে যাঁরা এয়ারপোর্টে আসবেন বা বিমানবন্দর থেকে ফিরবেন, তাঁদের কালঘাম ছুটে যাবে।