ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের মধ্যে বড়সড় সাইবার প্রতারণা চক্রের পর্দাফাঁস। প্রায় ৯০ কোটি টাকা প্রতারণার অভিযোগে চার ইঞ্জিনিয়ারিং ছাত্র-সহ ৭ জনকে গ্রেফতার করেছে পুদুচেরির সাইবার ক্রাইম থানার পুলিশ। শুধু পুদুচেরি নয়, এই নেটওয়ার্কের জাল পৌঁছে গিয়েছে বাংলা, চেন্নাই, মহারাষ্ট্র ও গুজরাট পর্যন্ত।
সম্প্রতি পুদুচেরির একটি বেসরকারি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের ছাত্র দীনেশ এবং জয়প্রতাপ সাইবার ক্রাইম পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেন যে তাঁদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা হয়েছে। কয়েকদিন আগেই তাঁরা তাদের অ্যাকাউন্টের বিস্তারিত তথ্য সহপাঠী হরিশকে জানিয়েছিলেন। এরপরেই তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে, শুধু দুই বন্ধুর নয়, হরিশ পশ্চিমবঙ্গ, গুজরাট এবং মহারাষ্ট্রের বিভিন্ন ব্যাঙ্কের একাধিক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করেছে। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, এই অ্যাকাউন্টগুলির মাধ্যমে কমপক্ষে ৭ কোটি টাকা তোলা হয়েছিল। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত সাতজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, যাদের মধ্যে চারজন ইঞ্জিনিয়ারিং স্নাতক থমাস ওরফে হায়গ্রীব, হরিশ, গণেশন, গোবিন্দরাজ, যশবিন, রাহুল এবং আয়াপ্পান রয়েছে। পুলিশ অভিযুক্তদের কাছ থেকে নগদ ৫ লক্ষ টাকা, ১৭১টি চেক বই, ৭৫টি এটিএম কার্ড, ২০টি মোবাইল, ল্যাপটপ, কম্পিউটার, বেশ কয়েকটি ব্যাঙ্ককের পাসবুক, ক্রেডিট কার্ড এবং একটি হুন্ডাই ভার্না গাড়ি বাজেয়াপ্ত করেছে।
জানা গেছে, দেশজুড়ে এই সাইবার জালিয়াতি সংক্রান্ত ৮৯টি অভিযোগ নথিভুক্ত করা হয়েছে। অভিযুক্তরা ৯০ কোটি টাকার প্রতারণা করেছে বলে অভিযোগ। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তরা প্রতারণার মাধ্যমে একাধিক ব্যক্তির ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা তুলে ক্রিপ্টোকারেন্সিতে রূপান্তর করে চিন, আয়ারল্যান্ড, কানাডা-সহ অনেক দেশে অর্থ পাচার করেছিল। এবং ডিজিটাল ডলারের মাধ্যমে বিভিন্ন দেশে অর্থ স্থানান্তরও করেছিল। পরে ধৃতদের পুদুচেরি আদালতে পেশ করা হয়। গত মঙ্গলবার রাতে পুদুচেরি কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছে তাঁদের। সাইবার ক্রাইম শাখার সিনিয়র পুলিশ সুপার নিত্য রাধাকৃষ্ণণ জানিয়েছেন, বন্ধুদের সঙ্গে ব্যাঙ্কের বিস্তারিত তথ্য শেয়ার করলে আর্থিক জালিয়াতির শিকার হতে পারেন।জনসাধারণের কাছে তাদের আবেদন যে তারা যেন কারুর সঙ্গে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের তথ্য, এটিএম কার্ড বা অনলাইন ব্যাঙ্কিং-এর তথ্য শেয়ার না করে এবং অন্যদের তাদের অ্যাকাউন্ট হস্তক্ষেপ করতে না দেয়।
