‘সংবিধান-গণতন্ত্রকে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচান।’ কেন্দ্রীয় এজেন্সিকে নিশানা করে দেশের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত-সহ অন্যান্য বিচারপতিদের কাছে আর্জি জানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার বিকেলে জলপাইগুড়ি সার্কিট বেঞ্চের উদ্বোধন অনুষ্ঠানের শুরুতে দেশের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত-সহ অন্যান্য বিচারপতিকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে উত্তরীয় পরিয়ে দেন। কিন্তু কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রী অর্জুন রাম মেঘাওয়ালকে উত্তরীয় পরিয়ে দিতে বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তীকে অনুরোধ করেন মুখ্যমন্ত্রী।
এদিন অনুষ্ঠানে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত-সহ অন্যান্য বিচারপতিদের সামনে কেন্দ্রীয় এজেন্সি নিয়ে অভিযোগ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘এখানে দেশের প্রধান বিচারপতি, কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি-সহ অন্যান্য বিচারপতিরা উপস্থিত রয়েছেন। তাঁদের হাত জোড় করে বলছি, দেশে সংবিধানকে ধ্বংস করার চেষ্টা চলছে। গণতন্ত্রকে ধ্বংস করার ষড়যন্ত্র চলছে। ঐতিহ্য-সংস্কৃতি সব ধুলোয় মিশিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। আপনারাই পারেন এমন নৈরাজ্য থেকে দেশকে বাঁচাতে।’ কয়লা পাচারকাণ্ডের তল্লাশিতে গত ৮ জানুয়ারি আইপ্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়ি, অফিসে হানা দিয়েছিল ইডি। তবে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা আদালতে জানিয়েছে, সেই দিন কোনও কিছুই বাজেয়াপ্ত করেনি তারা। এই নিয়ে উত্তাল রাজ্য রাজনীতি। এদিন মুখ্যমন্ত্রী অবশ্য ইডি-র হানা নিয়ে একটি শব্দও খরচ করেননি। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘কিছু এজেন্সি আছে, ইচ্ছাকৃত ভাবে মানহানি, সম্মানহানির চেষ্টা করছে। দয়া করে মানুষকে রক্ষা করুন। আমি নিজের জন্য বলছি না। আমি বলছি, গণতন্ত্র বাঁচান, বিচারব্যবস্থাকে বাঁচান।’
পাশাপাশি, কেন্দ্রীয় বরাদ্দ বন্ধের অভিযোগ তুললেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, ‘কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রী কিছু মনে করবেন না। কেন্দ্র আমাদের বরাদ্দ দেয় না। তবু আমরা বিচারবিভাগের পরিকাঠামো তৈরি করছি। নতুন নতুন আদালত তৈরি হচ্ছে। আমরাই ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা খরচ করে সব করেছি। ‘ মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছে, ‘কেন্দ্র আপত্তি তুললেও আমরা অনেক ফাস্ট ট্র্যাক কোর্ট তৈরি করেছি। রাজ্য ৮৮টি ফার্স্ট ট্র্যাক কোর্ট করেছি আমরা। এরমধ্যে ৫২টি মহিলাদের জন্য, ৭টি পসকো কোর্ট, ৮টি লেবার কোর্ট, ১৯টি হিউম্যান রাইটস কোর্টও রয়েছে। রাজারহাটে জমি দিয়েছি কলকাতা হাইকোর্টকে। আমরা বিচারের জন্য অনেক কিছু করতে চাই।’ তিনি আরও বলেন, ‘সুপ্রিম কোর্টে বিচারপতি আর হাইকোর্টের বিচারপতিরা জানলে খুশি হবেন জলপাইগুড়ির জন্য ঐতিহাসিক দিন। আমরা আজ যা করলাম, মানুষ মনে রাখবেন। এই সার্কিট বেঞ্চের ভবন কলকাতা হাইকোর্টের থেকেও ভাল। যারা এই ভবন বানিয়েছেন, আমি তাঁদের শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। ৪০ একর জমিতে ৫০০ কোটি টাকা খরচ করেছি এই ভবন বানাতে। ৮০ রেসিডেন্সিয়াল কমপ্লেক্স আছে বিচারপতিদের জন্য। প্রধান বিচারপতির জন্য বাংলো রয়েছে।’ মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, ‘এখনকার দিনে তিনটি জিনিস গুরুত্বপূর্ণ। এক হল সংবিধান, দুই হল দেশের মানুষ, তিন হল বিচার ব্যবস্থা চার হল মিডিয়া। যাঁরা সবে মাত্র আইনের পেশায় এসেছেন, তাঁরা সব সুযোগ সুবিধা পান না। আমরা দেখব তাঁরা যেন সব সুবিধা পান। প্রধান বিচারপতিকেও বলব দেখতে।’
